শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

পাকুন্দিয়ায় বাড়ি দখল ও লুটপাটের অভিযোগ

রেজাউল হক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:১২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
পাকুন্দিয়ায় বাড়ি দখল ও লুটপাটের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে কৃষক পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে বসতবাড়ি দখল, লুটপাট এবং জমির ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরকাওনা বেলতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (১৮ নভেম্বর) ভুক্তভোগী সাবিনা ইয়াসমিন পাকুন্দিয়া থানায় যুবদল নেতা হারুনসহ ১২ জনের নামে লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দাখিল করেছেন। সাবিনা ওই গ্রামের মৃত কাশের মিয়ার স্ত্রী।

সাবিনা ইয়াসমিন জানান, চরকাওনা মৌজায় তাদের বাড়িসহ প্রায় ৭৩ শতক জমি রয়েছে। স্বামী দেড় বছর আগে মারা যাওয়ার পর থেকেই স্থানীয় যুবদল নেতা মো. হারুন, বাদল মিয়া, বকুল মিয়া এবং বকুল মিয়ার দুই ছেলে কালাম মিয়া ও আকরাম হোসেনসহ কয়েকজন তাদের জমি দখলের চেষ্টা করে আসছে।

গত শুক্রবার দুপুরে হারুনের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রধারী কয়েকজন তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়ির সীমানার বেড়া, ঘরের টিনের দেয়াল, দরজা–জানালা ভাঙচুর করা হয়। প্রাণের ভয়ে তিনি সন্তানদের নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, ঘর নির্মাণের জন্য রাখা ৬ লাখ টাকা এবং অন্যান্য মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এমনকি তাদের জমির ধানও কেটে নিয়ে গেছে। বাধা দিতে গেলে পাশের আত্মীয় বিল্লাল মিয়াকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পরে হামলাকারীরা বাড়ির চারপাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে পরিবারের বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেয়। ‘৯৯৯’-এ ফোন করলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বেড়ার কিছু অংশ খুলে দেয়।

সাবিনা ইয়াসমিনের শাশুড়ি রেজিয়া খাতুন ও দেবর কফিল উদ্দিন বলেন, প্রতিবেশী বকুল মিয়াদের জায়গা তারা ১৯৭৯ সালে দলিলমূলে কিনেছেন এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করছেন। তাদের নামে আরএস রেকর্ডও হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন ধরে ওই পরিবার জমির মালিকানা দাবি করে দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাদের অভিযোগ—হারুন যুবদলের নেতা হওয়ায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এসব কর্মকাণ্ড করছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন বলেন,
“সাবিনাদের পরিবার প্রভাবশালী। তারা ৪৬ বছর ধরে আমাদের জমি দখলে রেখেছে। এই জায়গা নিয়ে বহু সালিশ হয়েছে। আমরা সালিশি সিদ্ধান্ত মানলেও তারা মানে না।”

পাকুন্দিয়া থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন বলেন,
“অভিযোগটি তদন্তসাপেক্ষে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হবে।”

টটেনহ্যামে গিয়েই জার্সির নাম বদলালেন সাভিনহো, কেন ‘সাভিও’?

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
টটেনহ্যামে গিয়েই জার্সির নাম বদলালেন সাভিনহো, কেন ‘সাভিও’?

ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে টটেনহ্যামে যোগ দেওয়ার পর জার্সিতে নিজের নাম পরিবর্তন করেছেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার সাভিও। এতদিন ফুটবলবিশ্বে ‘সাভিনহো’ নামে পরিচিত এই ফরোয়ার্ড নতুন ক্লাবে জার্সিতে লিখিয়েছেন ‘Sávio’। ফলে হঠাৎ নাম পরিবর্তনের কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।

মঙ্গলবার ম্যানচেস্টার সিটি থেকে সাভিওর টটেনহ্যামে যোগ দেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। নতুন ক্লাবে তিনি ১৭ নম্বর জার্সি পরবেন। তবে জার্সির পেছনে ‘Savinho’-এর পরিবর্তে লেখা থাকবে ‘Sávio’।

সাভিওর পুরো নাম সাভিও মোরেইরা দে অলিভেইরা। ২২ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান তারকা ক্যারিয়ারের শুরুতে খেলেছেন দেশটির ক্লাব অ্যাটলেটিকো মিনেইরোর হয়ে। ২০২২ সালে তিনি ফরাসি ক্লাব ত্রোয়ার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন।

ত্রোয়ার মালিকানাধীন ফুটবল নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে পরবর্তী সময়ে স্প্যানিশ ক্লাব জিরোনায় ধারে খেলেন সাভিও। সেখানেই তার ক্যারিয়ারে আসে বড় পরিবর্তন। জিরোনার হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের পরিচিতি বাড়ান তিনি।

জিরোনার হয়ে একটি মৌসুমে ১১ গোল ও ১০টি অ্যাসিস্ট করেন সাভিও। তার পারফরম্যান্স নজর কাড়ে ব্রাজিল জাতীয় দলের নির্বাচকদেরও। জিরোনায় থাকাকালীনই প্রথমবার ব্রাজিলের জাতীয় দলে ডাক পান তিনি।

জিরোনায় খেলার সময় সাভিও তাঁর আসল নামের সংক্ষিপ্ত রূপ ‘Sávio’ নামেই পরিচিত ছিলেন। এমনকি ক্লাবটির ১৬ নম্বর জার্সিতেও তাঁর নাম লেখা ছিল ‘Sávio’।

তবে ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি জার্সিতে ‘Savinho’ নামটি ব্যবহার শুরু করেন। এরপর ওই নামেই আন্তর্জাতিক ফুটবলসহ বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি।

‘Savinho’ মূলত ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে ব্যবহৃত একটি আদুরে বা ছোট নামের রূপ। তবে টটেনহ্যামে যোগ দিয়ে আবার নিজের মূল নামের রূপ ‘Sávio’-তে ফিরে গেছেন এই উইঙ্গার।

ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে নিজের জায়গা তৈরি করার পর এবার টটেনহ্যামে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন সাভিও। নতুন ক্লাবে ১৭ নম্বর জার্সিতে তাঁকে দেখা যাবে। সেই জার্সিতে ‘Savinho’-এর বদলে ‘Sávio’ লেখা থাকায় তাঁর পরিচিত নামেও এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন।

অর্থাৎ খেলোয়াড়টি একই—পরিবর্তন শুধু জার্সিতে ব্যবহৃত নামের। ‘Savinho’ নামে যে পরিচিতি তিনি তৈরি করেছেন, সেটি বদলে এখন আবার নিজের মূল নাম ‘Sávio’-কেই সামনে আনছেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা।

বালুবাহী নৌযান থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ, নৌকার মাঝি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ণ
বালুবাহী নৌযান থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ, নৌকার মাঝি আটক

কিশোরগঞ্জের ইটনায় ধনু নদীতে চলাচলরত বালুবাহী নৌযান থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে বাবর আলী (৫৫) নামে এক নৌকার মাঝিকে আটক করেছে নৌপুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার বেতেকা গ্রামের হস্ত ধনু নদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বাবর আলী ইটনা উপজেলার সড়কহাটি এলাকার বাসিন্দা।

নৌপুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধনু নদীতে চলাচলরত একটি বালুবাহী নৌযান থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ধনপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। অভিযানে চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত নৌকার মাঝি হিসেবে বাবর আলীকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত অন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে অবৈধ কাজে ব্যবহৃত নৌকার মাঝি হিসেবে বাবর আলীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধনু নদীতে চলাচলরত বালুবাহী ও মালবাহী বিভিন্ন নৌযান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

ধনপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “নৌপথে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

নৌপুলিশের এই অভিযানের ফলে ধনু নদীপথে চলাচলকারী বালুবাহী ও মালবাহী নৌযান থেকে চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার এক শোকবার্তায় তিনি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এবং দেশটির জনগণের প্রতি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নেপালে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যায় বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত। এ দুর্যোগে স্বজন হারানো পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই অপূরণীয় ক্ষতির ভার বহন করা মানুষগুলোর প্রতি বাংলাদেশের মানুষের চিন্তা ও প্রার্থনা রয়েছে।

শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নেপালে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যায় বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত। আমাদের চিন্তা ও প্রার্থনা প্রিয়জন হারানো সেসব পরিবার ও মানুষের সঙ্গে রয়েছে, যাঁদের এই অপূরণীয় ক্ষতি বহন করতে হচ্ছে।”

তিনি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ও দেশটির জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ নেপালের পাশে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংকটময় এ পরিস্থিতিতে নেপালের প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমসহ দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করতে বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শোক ও সহায়তার প্রস্তুতির এই বার্তার তথ্য রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনেও নিশ্চিত করা হয়েছে।

নেপালের সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শোকবার্তার শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বন্যায় নিহত ব্যক্তিদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও সমবেদনা জানান।