রাজনীতির কঠিন সময়ে জামায়াতই আমার শেষ আশ্রয়: মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জন
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার গচিহাটা কলেজ মাঠে শনিবার (২০ ডিসেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এক কৈফিয়ত সভায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জন এসব কথা বলেন।
সভায় তিনি বলেন,
“যে কথায় জামায়াতে ইসলামী কষ্ট পায়, সে কথা আমি আর বলব না। প্রয়োজনে আমার জবান কেটে দেব। কারণ, এই দলটি আমাকে আশ্রয় দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“এই বয়সে নতুন করে ঘর বা দল গড়ার সামর্থ্য আমার নেই। আমার ঘরে চাল নেই, চুলা নেই—আমি কীভাবে নতুন ঘর বানাবো? কিন্তু জামায়াতে ইসলামী আমাকে আশ্রয় দিয়েছে। এজন্য আমি তাদের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।”
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মেজর রঞ্জন বলেন,
“আজ হঠাৎ করে দেখছি আমার গুরুত্ব বেড়ে গেছে। বিএনপির অনেক বন্ধু এখন ফেসবুকে আমাকে নিয়ে লেখালেখি করছে। এতে আমি শুকরিয়া জানাই। তারা বুঝতে পারছে—আমি তাদের ঘরের একটি শক্ত খুঁটি ছিলাম। আমি নিজে দল ছেড়ে আসিনি, আপনারাই আমাকে বের করে দিয়েছেন। গত তিন বছর আমার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখেননি, এমনকি বিয়ের দাওয়াতও দেননি। আজ গালাগালি করছেন—এতেও ভালো লাগে, কারণ বুঝতে পারছি আপনারা আমাকে নিয়ে ভাবছেন।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তিনি আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবেন না। তবে জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে তাকে উপযুক্ত কোনো দায়িত্বে রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জামায়াতের প্রতি তিনটি দাবি তুলে ধরে মেজর রঞ্জন বলেন—
১. দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত, সন্ত্রাস ও দখলদারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
২. বিশৃঙ্খলা নয়, সত্য প্রকাশ ও শান্তির মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৩. সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে মানুষ মানুষকে সম্মান করবে।
সভায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবি করে তিনি বলেন,
“আমরা একজন ত্যাগী নেতাকে হারিয়েছি। যারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত, প্রয়োজনে পাতাল থেকে তুলে এনে হলেও তাদের বিচার করতে হবে। আমরা শুধু বিচারই চাই না, শহিদ হাদির রেখে যাওয়া কাজ বাস্তবায়ন করতে চাই।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ–২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা শফিকুল ইসলাম মোড়ল, উপজেলা আমির অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জোয়ারদার, নায়েবে আমির সাইদুল হক, সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
কৈফিয়ত সভায় মেজর রঞ্জনের ভক্ত-সমর্থকসহ স্থানীয় হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে শহিদ শরিফ ওসমান হাদির রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।







