সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

নির্বাচনের পরিবেশ ভালো, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত—প্রেস সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নির্বাচনের পরিবেশ ভালো, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত—প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বর্তমানে দেশে খুব ভালো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রয়েছে। এখন প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলমান। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে। নির্বাচনের জন্য এখনো যথেষ্ট ভালো পরিবেশ রয়েছে। প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন এবং সব জায়গায় নির্বাচনের আমেজ দেখা যাচ্ছে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে ময়মনসিংহ নগরীর এবি গুহ রোডে শিববাড়ী মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচনে কোনো একটি দলের প্রতি ঝুঁকে পড়ার অভিযোগ সঠিক নয়। কোনো দল বা ব্যক্তির প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। কেউ কেউ বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণাকে ভিন্নভাবে দেখছেন। প্রকৃত অর্থে তিনি একজন জাতীয় নেত্রী ছিলেন। তিনি শুধু বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন পুরো বাংলাদেশের নেত্রী। সে কারণেই রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শোক বইয়ে অনেকে স্বাক্ষর করছেন—এটিকে কেন্দ্র করেই দু-একজন এমন মন্তব্য করছেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে যা যা করণীয়, সবই করা হচ্ছে। বড় দল হোক কিংবা ছোট দল—সবার জন্য সুযোগ সমান। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে দু-একজন কিছু কথা বলছেন, তবে দৃশ্যমান এমন কিছু নেই, যার ভিত্তিতে বলা যায় যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।

এ সময় তিনি প্রায় পৌনে তিনশ বছর পুরোনো শিববাড়ী মন্দির পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, এই মন্দিরটি বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত স্থান, কারণ এখানে দুর্গাপূজার পুরো আয়োজন নারীরাই করে থাকেন। এতে পুরুষদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকে না।

প্রেস সচিব আরও বলেন, সামনে নির্বাচন আসছে। আমরা সবাই যেন ভালোভাবে ভোট দিতে পারি। আমি মুসলমান বলে ভোট দিতে পারব, আর অন্য কেউ পারবে না—এমনটি নয়। নৃ-গোষ্ঠী, সনাতনী, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ভাই-বোন এবং এমনকি যারা ধর্ম পালন করেন না—সবাই মিলে আমরা একটি ভালো নির্বাচন চাই। আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ চাই। এ জন্য সামনে দুটি বিষয় রয়েছে—একটি সংসদ নির্বাচন এবং আরেকটি গণভোট। দল-মত নির্বিশেষে আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে চাই, যাতে বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিস্ট শাসনের প্রতিষ্ঠা না হয় এবং আমাদের অধিকার সবসময় অক্ষুণ্ন থাকে।

এর আগে তিনি নগরীর জুবলী রোডে বুড়া পীরের মাজার এবং থানা ঘাট এলাকায় অবস্থিত হজরত শাহ সুফী সৈয়দ কালু শাহ (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন করেন। গত বছরের জানুয়ারি মাসে ওই মাজারে বার্ষিক ওরস শরিফ ও সামা কাওয়ালি চলাকালে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সকাল ১০টায় বুড়া পীরের মাজার পরিদর্শনের পর তিনি শাহ সুফী সৈয়দ কালু শাহ (রহ.)-এর মাজারে গিয়ে মোনাজাত করেন।

পরিদর্শন শেষে শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশ পীর-আউলিয়ার দেশ। ইসলাম এ দেশে এসেছে তাদের হাত ধরেই। কিছু মানুষ বিভিন্ন অজুহাতে মাজারে আঘাত হানছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বাংলাদেশ একটি সম্প্রীতির দেশ। এ দেশ সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের দেশ। আমার বাংলাদেশ, আপনার বাংলাদেশ—সব মিলিয়েই বাংলাদেশ। একে অপরের মত, পথ, ধর্ম ও বিশ্বাসকে সম্মান করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কারও কোনো জায়গায় যেতে ভালো না লাগলে তিনি সেখানে যাবেন না—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঘৃণা ছড়ানো বা আক্রমণ করা ভয়াবহ। আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রতিরোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তারপরও কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।