ভারত থেকে আরও দুই লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দিল সরকার
ভারত থেকে বেসরকারিভাবে নতুন করে আরও দুই লাখ টন সিদ্ধ চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ঢাকার এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভারতীয় চালকল মালিক ও রপ্তানিকারকরা। নতুন অনুমতির ফলে পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতের জন্য চাল রপ্তানির সুযোগ আরও বিস্তৃত হলো।
বার্তাসংস্থা পিটিআই মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার ২৩২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে আগামী ২০২৬ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চালকল মালিকদের দাবি, ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশ প্রথম দফায় চাল আমদানির পরিকল্পনার কথা জানায়। সদ্য অনুমোদিত দুই লাখ টন চাল সেই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হলো। বন্যায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতির কারণে মজুদ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ টন চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
ভারতীয় চাল রপ্তানিকারকদের সংগঠন আইআরইএফ-এর সভাপতি প্রেম গার্গ পিটিআইকে বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবেই ভারতের চালের অন্যতম বড় ক্রেতা। ভৌগোলিক নিকটতা এবং প্রতিযোগিতামূলক দামের কারণে অন্ধ্রপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ীরাই এই রপ্তানি থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে ‘জয় বাবা বাকেশ্বর চাল মিল’-এর পরিচালক রাহুল খৈতান বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চাপ বাড়ায় সরকার বেসরকারিভাবে চাল আমদানির পথ খুলে দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন করে অনুমোদিত দুই লাখ টন চাল আগে ঘোষিত পাঁচ লাখ টনের সঙ্গে যুক্ত হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশে সিদ্ধ চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোট ৯ লাখ টন চাল আমদানির মধ্যে পাঁচ লাখ টন বেসরকারিভাবে এবং চার লাখ টন সরকারিভাবে সংগ্রহ করা হবে।
ভারতীয় ব্যবসায়ীরা জানান, চাল রপ্তানিতে ভারত এখনো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও সাশ্রয়ী অংশীদার। সাম্প্রতিক বাণিজ্য তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সাদা চালের দাম প্রতি টন ৩৫১ থেকে ৩৬০ মার্কিন ডলার, যেখানে পাকিস্তানের চালের দাম প্রায় ৩৯৫ মার্কিন ডলার।







