শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

ভারত থেকে আরও দুই লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দিল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভারত থেকে আরও দুই লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দিল সরকার

ভারত থেকে বেসরকারিভাবে নতুন করে আরও দুই লাখ টন সিদ্ধ চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ঢাকার এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভারতীয় চালকল মালিক ও রপ্তানিকারকরা। নতুন অনুমতির ফলে পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতের জন্য চাল রপ্তানির সুযোগ আরও বিস্তৃত হলো।

বার্তাসংস্থা পিটিআই মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার ২৩২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে আগামী ২০২৬ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চালকল মালিকদের দাবি, ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশ প্রথম দফায় চাল আমদানির পরিকল্পনার কথা জানায়। সদ্য অনুমোদিত দুই লাখ টন চাল সেই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হলো। বন্যায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতির কারণে মজুদ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ টন চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

ভারতীয় চাল রপ্তানিকারকদের সংগঠন আইআরইএফ-এর সভাপতি প্রেম গার্গ পিটিআইকে বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবেই ভারতের চালের অন্যতম বড় ক্রেতা। ভৌগোলিক নিকটতা এবং প্রতিযোগিতামূলক দামের কারণে অন্ধ্রপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ীরাই এই রপ্তানি থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে ‘জয় বাবা বাকেশ্বর চাল মিল’-এর পরিচালক রাহুল খৈতান বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চাপ বাড়ায় সরকার বেসরকারিভাবে চাল আমদানির পথ খুলে দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন করে অনুমোদিত দুই লাখ টন চাল আগে ঘোষিত পাঁচ লাখ টনের সঙ্গে যুক্ত হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশে সিদ্ধ চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোট ৯ লাখ টন চাল আমদানির মধ্যে পাঁচ লাখ টন বেসরকারিভাবে এবং চার লাখ টন সরকারিভাবে সংগ্রহ করা হবে।

ভারতীয় ব্যবসায়ীরা জানান, চাল রপ্তানিতে ভারত এখনো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও সাশ্রয়ী অংশীদার। সাম্প্রতিক বাণিজ্য তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সাদা চালের দাম প্রতি টন ৩৫১ থেকে ৩৬০ মার্কিন ডলার, যেখানে পাকিস্তানের চালের দাম প্রায় ৩৯৫ মার্কিন ডলার।

কুলিয়ারচরে বিক্রয় প্রতিনিধি ও ডিলারদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে বিক্রয় প্রতিনিধি ও ডিলারদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর) ও ডিলারদের ঐক্যবদ্ধ করতে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ব্যবসায়িক স্বার্থ সংরক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করাই এ সংগঠনের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) বিকেলে উপজেলার বাজরা-তারাকান্দি বাজারে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ কমিটি গঠন করা হয়।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. জাহিদুল ইসলাম হৃদয় এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মো. আতিকুর রহমান জাকির।

কমিটির অন্যান্য পদে রয়েছেন— সহ-সভাপতি: মো. সোহেল রানা (বাজরা-তারাকান্দি), মো. শাকিল মিয়া (দারিয়াকান্দি) ও মো. আজিজুর রহমান আপেল (ছয়সূতী)।
সাংগঠনিক সম্পাদক: মো. সালাহ উদ্দীন (বাজরা)। প্রচার সম্পাদক: মো. মিলন মিয়া (মনোহরপুর), মো. আল-আমিন মিয়া (আগরপুর) ও মো. শরিফ মিয়া (চর কামালপুর)। সহকারী প্রচার সম্পাদক: মো. রতন মিয়া (তারাকান্দি) ও মো. আহসানুল হাবীব আশিক (পৈলানপুর)। সম্মানিত সদস্য: কুলিয়ারচর উপজেলার সকল বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর) ও ডিলারবৃন্দ।

সভায় বক্তারা বলেন, সংগঠনটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক থাকবে এবং পেশাগত ও ব্যবসায়িক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। পাশাপাশি সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করাই হবে সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।

নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে কুলিয়ারচরের বিক্রয় প্রতিনিধি ও ডিলাররা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং সংগঠনের কার্যক্রম সফলভাবে এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

হোসেনপুরে পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। এর অংশ হিসেবে পৃথক দুটি অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে হোসেনপুর থানা পুলিশ-এর একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ঢেকিয়া গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় মো. খাইরুল ইসলাম (৩৮) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ১৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

একই দিনে অপর অভিযানে উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের চরকাটিহারী গ্রাম থেকে মোছা. নাছিমা আক্তার নামে এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি স্থানীয় রিটন মেম্বারের বোন বলে জানা গেছে। এ সময় তার কাছ থেকে প্রায় ৬০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা পরস্পরের যোগসাজশে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে হোসেনপুরসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিক্রি করে আসছিলেন।

অভিযান পরিচালনা করেন হোসেনপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন ও এসআই ঈদুল হোসেনসহ পুলিশের একটি দল।

এ বিষয়ে হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর ০৭/০৯। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে হোসেনপুর থানা পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জে মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প উদ্বোধন, পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প উদ্বোধন, পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ

কিশোরগঞ্জে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর উদ্যোগে ‘মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’ উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নতুন জেলখানা রোড এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন মো. মাজহারুল ইসলাম, যিনি কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক কর্নেল (অব.) ডা. জেহাদ খান, হাসপাতালের পরিচালক রিয়াদ আহমেদ তুষার, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও হয়বতনগর ইউএল কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, সিনিয়র সাংবাদিক সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাব-এর সভাপতি এ কে নাছিম খান এবং কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম-এর সভাপতি নূর মোহাম্মদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।

পরে শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে প্রকল্পটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব ও কার্যপ্রণালী তুলে ধরে একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নুরুন্নাহার আফরিন।

অনুষ্ঠানে শহরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা অংশ নেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, “মেডিকেল বর্জ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করলে তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করা হবে এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আধুনিক ও নিরাপদ পদ্ধতিতে মেডিকেল বর্জ সংগ্রহ, পরিবহন ও নিষ্পত্তির মাধ্যমে শহরের পরিবেশ দূষণ কমানো এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।