বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর বাজিতপুরে সংবর্ধিত বিএনপি নেতা ইশতিয়াক নাসির
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর নিজ জন্মস্থান কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় সংবর্ধিত হয়েছেন বিএনপির সাবেক ছাত্রনেতা ইশতিয়াক আহমেদ নাসির। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার হালিমপুর ইউনিয়নের বাহ্মনগাঁও গ্রামের সন্তান।
ইশতিয়াক আহমেদ নাসির বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পূর্বে তাকে বহিষ্কার করা হলেও, আবেদন ও সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে পুনরায় দলের প্রাথমিক সদস্য পদে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের খবরে বাহ্মনগাঁও গ্রাম, হালিমপুর ইউনিয়নসহ পুরো বাজিতপুর উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সন্তোষ ও স্বস্তির প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) আগরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা শোডাউন করেন এবং ইশতিয়াক আহমেদ নাসিরকে সংবর্ধনা প্রদান করেন। শোভাযাত্রাটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যে ইশতিয়াক আহমেদ নাসির বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আমি সবসময় শ্রদ্ধাশীল। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলীয় হাইকমান্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে আগামীতেও দলের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইশতিয়াক আহমেদ নাসিরের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর–নিকলী) সংসদীয় আসনের চলমান নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর শক্ত অবস্থান এবং জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় প্রচারণার ফলে ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের ধারণা, ইশতিয়াক আহমেদ নাসিরের সক্রিয় রাজনৈতিক উপস্থিতি তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পারে, যা নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে সক্ষম।










