বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৮ ১৪৩২
বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৮ ১৪৩২

কিশোরগঞ্জ-৫: স্বতন্ত্র প্রার্থীর চাপে বিএনপি, ত্রিমুখী লড়াইয়ে ভোট বিভক্ত হওয়ার শঙ্কা

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জ-৫: স্বতন্ত্র প্রার্থীর চাপে বিএনপি, ত্রিমুখী লড়াইয়ে ভোট বিভক্ত হওয়ার শঙ্কা

বাঁ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজিবুর রহমান ইকবাল, বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর অধ্যাপক রমজান আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর–নিকলী) আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্বাধীনতার পর থেকে একসময় মুসলিম লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনটি পরবর্তী সময়ে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি পেলেও এবারের নির্বাচনে দলটির ভেতরেই বড় ধরনের বিভাজন দেখা দিয়েছে।

দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলায় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল তৃণমূলে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। সামাজিক কর্মকাণ্ড, উন্নয়নমূলক উদ্যোগ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার কারণে দুই উপজেলাতেই তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, “দল আমাকে মূল্যায়ন করছিল। কিন্তু অন্য দলের একজন প্রার্থী তার দলের নিবন্ধন না থাকায় রাতের আঁধারে নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে আমার মার্কা লুট করে নিয়েছে। এই বিচারের ভার আমি বাজিতপুর–নিকলীর জনগণের হাতে তুলে দিলাম। দুই যুগের বেশি সময় ধরে পরিবার-পরিজনের খোঁজ না নিয়ে হামলা-মামলা ও জেল-জুলুম সহ্য করে নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছি। আজ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হচ্ছে—এটা আমার জন্য হৃদয়ের রক্তক্ষরণের মতো।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে দল-মত নির্বিশেষে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন এবং এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করবেন।

প্রথমদিকে কেন্দ্র থেকে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি ও ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদাকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, সৈয়দ এহসানুল হুদার দল বাংলাদেশ জাতীয় দল নিবন্ধন না থাকায় গত ২২ ডিসেম্বর দলটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে বিএনপিতে যোগ দেয়। এরপর তিনি ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান।

উঠান বৈঠকে সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি বাজিতপুর–নিকলীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করবেন। তবে মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন বলে মন্তব্য করছেন স্থানীয় ভোটাররা। মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভেতরে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে। একাংশ ধানের শীষের পক্ষে থাকলেও তৃণমূলের বড় একটি অংশ শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

পরবর্তীতে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে হাঁস প্রতীক বরাদ্দ পান। এ অবস্থায় দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার নামে বিএনপি থেকে একাধিক ধাপে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ৫৮জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের পরও মাঠে ইকবালের পক্ষে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের তৎপরতা আরও বেড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে মাঠ চাঙা করার চেষ্টা চললেও তা আশানুরূপ ফল দিচ্ছে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সাধারণ মানুষের ধারণা—বিএনপির ভোট এবার দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, যা ধানের শীষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

এদিকে ১১ দলীয় জোট থেকে মনোনীত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কিশোরগঞ্জ জেলা আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে দিন-রাত মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি দুই উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন। উঠান বৈঠকে অধ্যাপক রমজান আলী বলেন, নির্বাচিত হলে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী জলমহাল জনগণের জন্য উন্মুক্ত করবেন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান ও সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম দলীয় নিবন্ধন না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হরিণ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। উঠান বৈঠকে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে দিঘীরপাড়–পাটুলি এলাকায় চামড়ার ট্যানারি স্থাপনসহ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবেন।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো. দেলোয়ার হোসেন (হাতপাখা), জাতীয় পার্টি থেকে মাহবুব আলম (নাঙ্গল), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ থেকে মো. সাজ্জাদ হোসেন (হারিকেন) এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট থেকে মো. অলিউল্লাহ (মোমবাতি) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মাঠের বাস্তবতায় হাঁস, ধানের শীষ ও দাড়িপাল্লা—এই তিন প্রতীকের মধ্যেই মূল লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে শেষ মুহূর্তে এসে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ধানক্ষেতে উদ্ধার সদ্যোজাত কন্যাশিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ধানক্ষেতে উদ্ধার সদ্যোজাত কন্যাশিশু

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ময়মনসিংহ–কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশের ধানক্ষেত থেকে সদ্যোজাত এক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের খৈরাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর মহাসড়কের পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনতে পান এক পথচারী। পরে বিষয়টি স্থানীয় অটোচালক হালিম মিয়াকে জানালে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে নতুন কাপড় পরিয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নবজাতকটিকে উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। উদ্ধারকালে শিশুটির শরীরে রক্তের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসকদের ধারণা, শিশুটিকে জন্মের তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যেই ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়েছিল।

অটোচালক হালিম মিয়া জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে শিশুটিকে ধানক্ষেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। মানবিক কারণে তিনি শিশুটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে পরিচর্যা করেন এবং পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।

খবর পেয়ে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান হাসপাতালে গিয়ে নবজাতকের খোঁজখবর নেন। তিনি শিশুটির চিকিৎসা, খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। বর্তমানে নবজাতকটি সুস্থ রয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে কটিয়াদীর সাড়ে ৪ হাজার পরিবারের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ শুরু

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
ঈদ উপলক্ষে কটিয়াদীর সাড়ে ৪ হাজার পরিবারের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ শুরু

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলাজালালপুর ইউনিয়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৪ হাজার ৫৩৯টি কার্ডধারী দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে।

এ উপলক্ষে জালালপুর ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের জন্য মোট ৪৫ দশমিক ৩৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১২ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত ভিজিএফ কার্ডধারীদের মাঝে সুশৃঙ্খলভাবে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বে থাকা কটিয়াদী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম রবিন, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিটন চন্দ্র পাল, কটিয়াদী প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব ও কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মাইনুল হক মেনু, ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মোহাম্মদ নাজমুল হক, প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল মতিন আসাদ, ইউপি সদস্য মো. দিদারুল ইসলাম, মো. শাহাদাৎ হোসেন, মো. খোকন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মনোয়ারা বেগমসহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।

জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৪ হাজার ৫৩৯টি কার্ডধারী দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। প্রথম দিনে ইউনিয়নের ১, ২, ৩, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কার্ডধারীদের মাঝে সুশৃঙ্খলভাবে চাল বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনে ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কার্ডধারীদের মাঝে চাল বিতরণ করা হবে।

উন্নয়ন ও বরাদ্দের খোলামেলা হিসাব: নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
উন্নয়ন ও বরাদ্দের খোলামেলা হিসাব: নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সরকারি বরাদ্দ এবং বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার এই উদ্যোগ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক নাগরিক ও সাংবাদিক মনে করছেন, রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি নতুন সংস্কৃতির সূচনা হতে পারে এমন উদ্যোগের মাধ্যমে।

সম্প্রতি এক লাইভ উপস্থাপনায় তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা–৪ (দেবিদ্বার) আসনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি বরাদ্দ এবং সেই অর্থ ব্যয়ের খাতসমূহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তব অগ্রগতি, চলমান প্রকল্প এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যা দেন।

এই উপস্থাপনা দেখে অনেক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন স্বচ্ছ ও তথ্যসমৃদ্ধ উপস্থাপনা খুব কমই দেখা যায়। তাদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধি যদি নিজেই তার এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পূর্ণ হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরেন, তাহলে ভোটারদের মধ্যে আস্থা বাড়ে এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা শক্তিশালী হয়।

কিশোরগঞ্জের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও এনটিভির নিজস্ব প্রতিবেদক মারুফ আহমেদ তার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, “হাসনাত আব্দুল্লাহর পুরো প্রেজেন্টেশনটি আমি মনোযোগ দিয়ে একাধিকবার দেখেছি। নিজের নির্বাচনী এলাকার চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি বরাদ্দ ও ব্যয়ের বিষয়ে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দেখে আমিও অনেক কিছু নতুন করে জানতে পেরেছি। এতে নিজের সংসদীয় এলাকা নিয়েও একইভাবে জানার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমের অর্থ কোথা থেকে আসে, কীভাবে ব্যয় হয় এবং সেই কাজের অগ্রগতি কী—এসব তথ্য জানা সাধারণ ভোটারদের অধিকার। একজন জনপ্রতিনিধি যখন স্বেচ্ছায় এসব তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরেন, তখন তা গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা দাবি-দাওয়া থাকলেও সেগুলোর বিস্তারিত আর্থিক হিসাব জনসমক্ষে খুব কমই উপস্থাপন করা হয়। ফলে সাধারণ মানুষ প্রকল্পের প্রকৃত অবস্থা বা বরাদ্দের পরিমাণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান না।

এই প্রেক্ষাপটে হাসনাত আব্দুল্লাহর তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনাকে অনেকেই একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধি যদি তার এলাকার প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরেন, তাহলে তা অন্য জনপ্রতিনিধিদের জন্যও একটি উদাহরণ হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, গণতন্ত্রে জনগণ শুধু ভোটার নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদের মালিক। তাই জনগণের অর্থ দিয়ে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব জনগণের কাছে তুলে ধরা রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশ।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মতে, যদি দেশের অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সরকারি বরাদ্দের বিস্তারিত তথ্য এভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করেন, তাহলে রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে।

তাদের ভাষায়, “হাসনাত আব্দুল্লাহ হয়তো একটি নতুন ধারা শুরু করেছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্যরাও যদি একইভাবে জনগণের সামনে তাদের কাজের হিসাব তুলে ধরেন, তাহলে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের সূচনা ঘটতে পারে।”