রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জ-৫: স্বতন্ত্র প্রার্থীর চাপে বিএনপি, ত্রিমুখী লড়াইয়ে ভোট বিভক্ত হওয়ার শঙ্কা

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জ-৫: স্বতন্ত্র প্রার্থীর চাপে বিএনপি, ত্রিমুখী লড়াইয়ে ভোট বিভক্ত হওয়ার শঙ্কা

বাঁ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজিবুর রহমান ইকবাল, বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর অধ্যাপক রমজান আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর–নিকলী) আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্বাধীনতার পর থেকে একসময় মুসলিম লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনটি পরবর্তী সময়ে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি পেলেও এবারের নির্বাচনে দলটির ভেতরেই বড় ধরনের বিভাজন দেখা দিয়েছে।

দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলায় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল তৃণমূলে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। সামাজিক কর্মকাণ্ড, উন্নয়নমূলক উদ্যোগ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার কারণে দুই উপজেলাতেই তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, “দল আমাকে মূল্যায়ন করছিল। কিন্তু অন্য দলের একজন প্রার্থী তার দলের নিবন্ধন না থাকায় রাতের আঁধারে নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে আমার মার্কা লুট করে নিয়েছে। এই বিচারের ভার আমি বাজিতপুর–নিকলীর জনগণের হাতে তুলে দিলাম। দুই যুগের বেশি সময় ধরে পরিবার-পরিজনের খোঁজ না নিয়ে হামলা-মামলা ও জেল-জুলুম সহ্য করে নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছি। আজ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হচ্ছে—এটা আমার জন্য হৃদয়ের রক্তক্ষরণের মতো।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে দল-মত নির্বিশেষে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন এবং এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করবেন।

প্রথমদিকে কেন্দ্র থেকে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি ও ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদাকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, সৈয়দ এহসানুল হুদার দল বাংলাদেশ জাতীয় দল নিবন্ধন না থাকায় গত ২২ ডিসেম্বর দলটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে বিএনপিতে যোগ দেয়। এরপর তিনি ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান।

উঠান বৈঠকে সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি বাজিতপুর–নিকলীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করবেন। তবে মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন বলে মন্তব্য করছেন স্থানীয় ভোটাররা। মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভেতরে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে। একাংশ ধানের শীষের পক্ষে থাকলেও তৃণমূলের বড় একটি অংশ শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

পরবর্তীতে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে হাঁস প্রতীক বরাদ্দ পান। এ অবস্থায় দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার নামে বিএনপি থেকে একাধিক ধাপে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ৫৮জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের পরও মাঠে ইকবালের পক্ষে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের তৎপরতা আরও বেড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে মাঠ চাঙা করার চেষ্টা চললেও তা আশানুরূপ ফল দিচ্ছে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সাধারণ মানুষের ধারণা—বিএনপির ভোট এবার দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, যা ধানের শীষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

এদিকে ১১ দলীয় জোট থেকে মনোনীত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কিশোরগঞ্জ জেলা আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে দিন-রাত মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি দুই উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন। উঠান বৈঠকে অধ্যাপক রমজান আলী বলেন, নির্বাচিত হলে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী জলমহাল জনগণের জন্য উন্মুক্ত করবেন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান ও সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম দলীয় নিবন্ধন না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হরিণ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। উঠান বৈঠকে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে দিঘীরপাড়–পাটুলি এলাকায় চামড়ার ট্যানারি স্থাপনসহ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবেন।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো. দেলোয়ার হোসেন (হাতপাখা), জাতীয় পার্টি থেকে মাহবুব আলম (নাঙ্গল), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ থেকে মো. সাজ্জাদ হোসেন (হারিকেন) এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট থেকে মো. অলিউল্লাহ (মোমবাতি) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মাঠের বাস্তবতায় হাঁস, ধানের শীষ ও দাড়িপাল্লা—এই তিন প্রতীকের মধ্যেই মূল লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে শেষ মুহূর্তে এসে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফরে মাছের পোনা অবমুক্তসহ থাকছে নানা কর্মসূচি

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফরে মাছের পোনা অবমুক্তসহ থাকছে নানা কর্মসূচি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সফরকালে তিনি উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত, সফল মৎস্য উদ্যোক্তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা প্রদান, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার কর্মসূচির উদ্বোধন এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের রাষ্ট্রীয় ভাতা প্রদান কার্যক্রমের সূচনা করবেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে মতবিনিময় সভা ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সফরের বিভিন্ন কর্মসূচি, প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি তুলে ধরেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম কর্মসূচি হিসেবে তিনি উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন। এর মাধ্যমে দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।

সফরকালে জাতীয় পর্যায়ে মৎস্যসম্পদে বিশেষ অবদানের জন্য নির্বাচিত দেশের ১৪ জন সফল উদ্যোক্তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গোল্ড মেডেল প্রদান করা হবে বলেও প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। মৎস্য খাতে উদ্যোক্তাদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার কর্মসূচির উদ্বোধন এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের রাষ্ট্রীয় ভাতা প্রদান কার্যক্রমেরও সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও প্রেস ব্রিফিংয়ে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জেলার সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা, যাতায়াত, অনুষ্ঠানস্থল ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফর সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সফরকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ে প্রস্তুতিও জোরদার করা হচ্ছে।

‘ম্যাজিক জালে’ ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য, মাছের শরীরে মিলছে মাইক্রোপ্লাস্টিক: মৎস্যমন্ত্রী

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
‘ম্যাজিক জালে’ ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য, মাছের শরীরে মিলছে মাইক্রোপ্লাস্টিক: মৎস্যমন্ত্রী

সারাদেশে মিঠাপানির মাছ সংরক্ষণ ও বংশবিস্তার বাড়াতে মাছের অভয়াশ্রম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ডিমওয়ালা মা মাছ সংরক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে উন্মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করার মাধ্যমে মাছের উৎপাদন ও বংশবিস্তার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

শনিবার (৮ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে আগামী ১৬ আগস্ট জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থলের সর্বশেষ প্রস্তুতি দেখতে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, মিঠাপানির ডিমওয়ালা মা মাছ সংরক্ষণের জন্য আগামীতে দেশের প্রতিটি এলাকায় মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হবে। এসব অভয়াশ্রমে ডিমওয়ালা মা মাছ সংরক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পরবর্তীতে উপযুক্ত সময়ে মাছগুলো উন্মুক্ত জলাশয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। এর ফলে মাছের বংশবিস্তার বাড়বে এবং মিঠাপানির মাছের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অভয়াশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় মাছ ধরার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়ানো হবে।

‘ম্যাজিক জাল’ প্রসঙ্গে মৎস্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ‘ম্যাজিক জাল’ নামে এক ধরনের ক্ষতিকর জালের কারণে জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এই জালে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছসহ জলজ প্রাণী আটকা পড়ে। ফলে মাছের প্রজনন ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে এসব জালের আমদানি বন্ধ করেছে। তবে জনবল সংকটের কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করে এর ব্যবহার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে। এ কারণে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে জনগণকেও সচেতন হতে হবে। কেউ যেন ‘ম্যাজিক জাল’ ব্যবহার করে মাছ ধরতে না পারে, সে বিষয়ে স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি এলাকার মানুষ এ জালের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে সরকার তাদের পাশে থাকবে।

মাছের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি গবেষণায় কিছু মাছের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বরং বৈশ্বিক সমস্যা। এমনকি সমুদ্রের মাছের শরীরেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, জলজ পরিবেশ দূষণ রোধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মাছ ও মাছের আবাসস্থল রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। মৎস্যসম্পদের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

মৎস্যচাষিদের উৎসাহিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মাছচাষিদের উৎপাদন বাড়াতে সরকার নানা ধরনের প্রকল্প ও সহায়তা দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৬ আগস্ট কটিয়াদীতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সারাদেশের সেরা মাছচাষি ও খামারিদের বিশেষভাবে পুরস্কৃত করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আগামী ১৬ আগস্ট কটিয়াদীর আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানস্থলে প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করে প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক দেখেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

ওসমানীনগরে বাস দুর্ঘটনায় ৯ মৃত্যু: তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
ওসমানীনগরে বাস দুর্ঘটনায় ৯ মৃত্যু: তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি

সিলেটের ওসমানীনগরে যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

শনিবার সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে আহ্বায়ক এবং ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশাকে সদস্যসচিব করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের একজন করে প্রতিনিধিকে সদস্য করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটিকে দুর্ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধান, দুর্ঘটনার পেছনে কারও ব্যক্তিগত বা পেশাগত দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতি ছিল কি না, তা উদ্ঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।

অফিস আদেশে কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকালে ওসমানীনগরের কাশিকাপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় নয়জনে।

দুর্ঘটনায় আহত ১৬ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্টদের কোনো দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন—তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে আসবে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41