কিশোরগঞ্জে প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় দ্বিতীয়বারের মতো এক আসামিকে বাবার লাশ কারাগারের গেটে নিয়ে যেতে হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর গ্রামের মিলন মিয়া (৪৫)-এর বাবা ফুল মিয়া (৭০)-এর মরদেহ একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার-১ এ নিয়ে যাওয়া হয়।

আসামির চাচা আতাউর রহমান জানান, তার ভাই ফুল মিয়া ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি সোমবার ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর পর মিলন মিয়াকে বাবার জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলের আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর করা হয়। পরিবর্তে মরদেহ কারাগারের গেটে নিয়ে দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, মরদেহ কারাগারে নেওয়ার পর শুধু তাকেই ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। অন্য কোনো স্বজনকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কারাগার থেকে বের হয়ে তিনি বলেন, “যেখানে আমাদের এখন জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ছিল, সেখানে বাড়ি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে বাবার লাশ নিয়ে কারাগারের গেটে আসতে হয়েছে।”

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার রিতেশ চাকমা বলেন, মিলন মিয়াকে গত ১৪ ডিসেম্বর একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার করা হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। প্যারোল দেওয়ার বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। এটি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সিদ্ধান্তের বিষয়।

আসামির আইনজীবী জানান, মিলন মিয়া কোনো সুনির্দিষ্ট মামলায় আটক নন। ১৪ ডিসেম্বর গ্রেফতারের পর ১৯ ডিসেম্বর তিনি জামিন পেলেও পরবর্তীতে আরেকটি মামলায় তাকে ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়।

এর আগে গত বছরের ৩ ডিসেম্বর পাকুন্দিয়া উপজেলার আরেক আসামির বাবার মৃত্যু হলে তার মরদেহও কারাগারের গেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে মানবাধিকারকর্মী আহসানউল্লাহ বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো আসামির পরিবারের সদস্যের মৃত্যু হলে প্যারোলে মুক্তির সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ইদানীং বিভিন্ন অজুহাতে সেই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এর পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *