ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাত আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের সাতটি সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। জয়ী সাতজন হলেন—রুমিন ফারহানা, লুৎফর রহমান খান আজাদ, শেখ মজিবুর রহমান, আব্দুল হান্নান, আতিকুল আলম, সালমান ওমর এবং এ জেড এম রেজওয়ানুল হক।
জয়ী এই সাতজনই নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতা ছিলেন। তবে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। এ কারণে নিজ নিজ এলাকায় তারা বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
কে কোন আসন থেকে জয়ী
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক)
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা (হাঁস প্রতীক) বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের জুনায়েদ আল হাবিবের চেয়ে তিনি ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশি পান। রুমিন ফারহানা এর আগে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এবার তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন।
টাঙ্গাইল–৩ (ঘাটাইল)
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদ জয়ী হয়েছেন। বিএনপির সাবেক নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৯০১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ওবায়দুল হক নাসির পেয়েছেন ৮২ হাজার ৭৬৯ ভোট। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
কিশোরগঞ্জ–৫ (বাজিতপুর–নিকলী)
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ৭৯ হাজার ৬০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৫০ ভোট। শেখ মজিবুর রহমান ২০১৮ সালে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
চাঁদপুর–৪ (ফরিদগঞ্জ)
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হান্নান বিজয়ী হয়েছেন। উপজেলা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত আব্দুল হান্নান পেয়েছেন ৭৪ হাজার ১৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ পেয়েছেন ৬৯ হাজার ১৫৫ ভোট।
কুমিল্লা–৭ (চান্দিনা)
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম ওরফে শাওন (কলস প্রতীক) ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেদোয়ান আহমদ পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৫০৯ ভোট।
ময়মনসিংহ–১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া)
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর জয়ী হয়েছেন। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ২৪১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩৬ ভোট। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় সালমান ওমরকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
দিনাজপুর–৫
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ জেড এম রেজওয়ানুল হক ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আব্দুল আহাদ পেয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৯৫ ভোট। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন এ কে এম কামরুজ্জামান। রেজওয়ানুল হক বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।







