সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাত আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাত আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের সাতটি সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। জয়ী সাতজন হলেন—রুমিন ফারহানা, লুৎফর রহমান খান আজাদ, শেখ মজিবুর রহমান, আব্দুল হান্নান, আতিকুল আলম, সালমান ওমর এবং এ জেড এম রেজওয়ানুল হক।
জয়ী এই সাতজনই নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতা ছিলেন। তবে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। এ কারণে নিজ নিজ এলাকায় তারা বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
কে কোন আসন থেকে জয়ী
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক)
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা (হাঁস প্রতীক) বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের জুনায়েদ আল হাবিবের চেয়ে তিনি ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশি পান। রুমিন ফারহানা এর আগে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এবার তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন।
টাঙ্গাইল–৩ (ঘাটাইল)
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদ জয়ী হয়েছেন। বিএনপির সাবেক নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৯০১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ওবায়দুল হক নাসির পেয়েছেন ৮২ হাজার ৭৬৯ ভোট। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
কিশোরগঞ্জ–৫ (বাজিতপুর–নিকলী)
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ৭৯ হাজার ৬০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৫০ ভোট। শেখ মজিবুর রহমান ২০১৮ সালে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
চাঁদপুর–৪ (ফরিদগঞ্জ)
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হান্নান বিজয়ী হয়েছেন। উপজেলা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত আব্দুল হান্নান পেয়েছেন ৭৪ হাজার ১৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ পেয়েছেন ৬৯ হাজার ১৫৫ ভোট।
কুমিল্লা–৭ (চান্দিনা)
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম ওরফে শাওন (কলস প্রতীক) ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেদোয়ান আহমদ পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৫০৯ ভোট।
ময়মনসিংহ–১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া)
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর জয়ী হয়েছেন। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ২৪১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩৬ ভোট। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় সালমান ওমরকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
দিনাজপুর–৫
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ জেড এম রেজওয়ানুল হক ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আব্দুল আহাদ পেয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৯৫ ভোট। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন এ কে এম কামরুজ্জামান। রেজওয়ানুল হক বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১:৪৬ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

সংগ্রহীত ছবি

বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতা প্রদান, আটক শ্রমিকদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসন এবং স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সোমবার (২২ জুন) সকালে মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি।”

তিনি আরও বলেন, দুই দেশই এমন একটি শ্রমিক নিয়োগব্যবস্থার পক্ষে একমত হয়েছে, যা হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও ব্যয়সাশ্রয়ী এবং যেখানে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমিয়ে শ্রমিকদের আর্থিক চাপ হ্রাস করা সম্ভব হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কৃষি, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি ও সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতেই দুই দেশের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফর ও আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে এবং উভয় দেশ যৌথ সমৃদ্ধি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে মালয়েশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য ঢাকা কৃতজ্ঞ।

এছাড়া বাংলাদেশ আসিয়ানের (ASEAN) সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (RCEP)-এ যোগদানের আকাঙ্ক্ষার কথাও উল্লেখ করেন।

বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদবিষয়ক গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা সংক্রান্ত দুটি পৃথক দলিলও বিনিময় করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর আনোয়ার ইব্রাহিমের শুভেচ্ছা ও আমন্ত্রণ পাওয়ার পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর। তিনি স্মরণ করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালের মালয়েশিয়া সফর এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।

শেষে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও জনগণের আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে আনোয়ার ইব্রাহিমকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

মাত্র ৫ হাজার টাকার দ্বন্দ্বে করিমগঞ্জে ভাঙারি ব্যবসায়ীর মৃত্যু

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১:১৯ অপরাহ্ণ
মাত্র ৫ হাজার টাকার দ্বন্দ্বে করিমগঞ্জে ভাঙারি ব্যবসায়ীর মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ৫ হাজার টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে রাসেল (নাম পরিবর্তন করা হয়নি) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত রাসেল উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরোনো ব্যাটারি সরবরাহের কথা বলে একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে সাইদুর রহমানের কাছ থেকে রাসেল ৫ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ে ব্যাটারি সরবরাহ না হওয়ায় টাকা ফেরত চাওয়া হয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

নিহতের চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীরের অভিযোগ, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তালের বাড়ির মোড় এলাকা থেকে মামুনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল রাসেলকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

নিহতের মা শিল্পী আক্তার অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং এর ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি মামুন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও তোলেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন বা সরকারি কোনো যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে জানা গেছে, নিহত রাসেল একটি পারিবারিক আদালতের মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন।

করিমগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করার পর ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ইতিহাসের হাতছানি: তিন বিশ্বরেকর্ডের সামনে লিওনেল মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ইতিহাসের হাতছানি: তিন বিশ্বরেকর্ডের সামনে লিওনেল মেসি

ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত একটি ম্যাচ খেলেছে, আর সেই ম্যাচেই নিজের অসাধারণ নৈপুণ্যে সব আলো কেড়ে নিয়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে শুধু দলকে জয়ই উপহার দেননি, নিজের নামের পাশেও যুক্ত করেছেন একাধিক নতুন রেকর্ড।

বিশ্বকাপে রেকর্ড ভাঙা ও গড়ার ধারাবাহিকতায় এবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামছেন মেসি। এই ম্যাচেই তাঁর সামনে রয়েছে ইতিহাসের পাতায় নতুন করে নাম লেখানোর তিনটি বড় সুযোগ।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর বিশ্বকাপে মেসির মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬। এর ফলে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে অবস্থান করছেন।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে একটি গোল করতে পারলেই ১৭ গোল নিয়ে এককভাবে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নেবেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।

শুধু গোলই নয়, বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও হাতছানি দিচ্ছে মেসিকে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে জয়টি ছিল বিশ্বকাপে তাঁর ১৬তম জয়, যা মিরোস্লাভ ক্লোসার সমান।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা জিতলে ১৭টি জয় নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল খেলোয়াড় হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়বেন তিনি।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের প্রথম গোলটি এসেছিল পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত এক শটে। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে বক্সের বাইরে থেকে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচটিতে।

এত দিন এই রেকর্ডটি এককভাবে ব্রাজিলের কিংবদন্তি রিভেলিনোর দখলে ছিল। এখন পাঁচ গোল নিয়ে তাঁর পাশে রয়েছেন মেসিও। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দূরপাল্লা থেকে আরেকটি গোল করতে পারলেই বক্সের বাইরে থেকে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের একক রেকর্ড গড়বেন তিনি।

বিশ্বকাপে মেসির বক্সের বাইরের গোলগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৪ সালে বসনিয়া, ইরান ও নাইজেরিয়ার বিপক্ষে করা তিনটি গোল। এরপর ২০২২ সালে মেক্সিকোর বিপক্ষে এবং চলতি আসরে আলজেরিয়ার বিপক্ষেও একই কীর্তি গড়েন তিনি।

অন্যদিকে, ব্রাজিলের কিংবদন্তি রিভেলিনো ১৯৭০ ও ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে বক্সের বাইরে থেকে পাঁচটি গোল করেছিলেন, যা দীর্ঘদিন ধরে রেকর্ড হিসেবে টিকে ছিল।