বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাত আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাত আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের সাতটি সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। জয়ী সাতজন হলেন—রুমিন ফারহানা, লুৎফর রহমান খান আজাদ, শেখ মজিবুর রহমান, আব্দুল হান্নান, আতিকুল আলম, সালমান ওমর এবং এ জেড এম রেজওয়ানুল হক।
জয়ী এই সাতজনই নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতা ছিলেন। তবে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। এ কারণে নিজ নিজ এলাকায় তারা বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
কে কোন আসন থেকে জয়ী
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক)
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা (হাঁস প্রতীক) বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের জুনায়েদ আল হাবিবের চেয়ে তিনি ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশি পান। রুমিন ফারহানা এর আগে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এবার তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন।
টাঙ্গাইল–৩ (ঘাটাইল)
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদ জয়ী হয়েছেন। বিএনপির সাবেক নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৯০১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ওবায়দুল হক নাসির পেয়েছেন ৮২ হাজার ৭৬৯ ভোট। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
কিশোরগঞ্জ–৫ (বাজিতপুর–নিকলী)
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ৭৯ হাজার ৬০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৫০ ভোট। শেখ মজিবুর রহমান ২০১৮ সালে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
চাঁদপুর–৪ (ফরিদগঞ্জ)
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হান্নান বিজয়ী হয়েছেন। উপজেলা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত আব্দুল হান্নান পেয়েছেন ৭৪ হাজার ১৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ পেয়েছেন ৬৯ হাজার ১৫৫ ভোট।
কুমিল্লা–৭ (চান্দিনা)
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম ওরফে শাওন (কলস প্রতীক) ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেদোয়ান আহমদ পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৫০৯ ভোট।
ময়মনসিংহ–১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া)
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর জয়ী হয়েছেন। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ২৪১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩৬ ভোট। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় সালমান ওমরকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
দিনাজপুর–৫
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ জেড এম রেজওয়ানুল হক ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আব্দুল আহাদ পেয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৯৫ ভোট। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন এ কে এম কামরুজ্জামান। রেজওয়ানুল হক বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে হোসেনপুরে বিএনপির মিছিল

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে হোসেনপুরে বিএনপির মিছিল

নিষিদ্ধ সংগঠনের পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতাকর্মীরা দেশবিরোধী সব ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন এবং দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

মিছিলে হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মঞ্জুরুল ইসলাম জুয়েল, যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম মাহাব্বুর রহমান মাহাবুব, আবু বাক্কার সিদ্দিক বাক্কার, আবুল হাসিম সবুজ, ফরিদ আহম্মেদ, সাদ্দাম হোসেন চাঁন মিয়া, রবিউল আলম রবিন, এ আই খান শিবলু, মোস্তাফিজ রহমান টুটুল, হোসেনপুর পৌর বিএনপি র সভাপতি এ কে এম শফিকুল হক শফিক, সাধারণ সম্পাদক মানছুরুল হক রবিনসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

আয়োজকেরা জানান, দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বিএনপির এ ধরনের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

ভৈরবে জেলি মেশানো চিংড়ি বিক্রি, তিন আড়তদারকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
ভৈরবে জেলি মেশানো চিংড়ি বিক্রি, তিন আড়তদারকে জরিমানা

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চিংড়ি মাছে ক্ষতিকর জেলি মিশিয়ে বিক্রির দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৭০ কেজি জেলি মেশানো চিংড়ি জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা চিংড়ি মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভৈরবের পুলতাকান্দা এলাকার নৈশকালীন মৎস্য আড়তে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হকের নেতৃত্বে একটি দল পুলতাকান্দা নৈশকালীন মৎস্য আড়তে অভিযান চালায়।

অভিযানে ডলফিন মৎস্য আড়ত থেকে জেলি মেশানো ২৫ কেজি চিংড়ি জব্দ করা হয়। জেলি মেশানো চিংড়ি বিক্রির দায়ে আড়ত মালিক ফরহাদ মিয়াকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একই অভিযানে অন্তর ফিস এন্টারপ্রাইজ থেকে জেলি মেশানো ৩৫ কেজি চিংড়ি জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক অন্তর বর্মণকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়া বিসমিল্লাহ মৎস্য আড়ত থেকে জেলি মেশানো ১০ কেজি চিংড়ি জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় আড়ত মালিক সেলিম মিয়াকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযানে ভৈরব উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সারোয়ার হোসেন, ভৈরব নৌপুলিশের উপপরিদর্শক মো. রহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক জানান, মৎস্য আড়তে অভিযান চালিয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৭০ কেজি ক্ষতিকর জেলি মেশানো চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে। এসব চিংড়ি বিক্রির দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান শেষে জব্দ করা চিংড়ি মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

অষ্টগ্রামে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবার পেল আর্থিক সহায়তা ও ঢেউটিন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
অষ্টগ্রামে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবার পেল আর্থিক সহায়তা ও ঢেউটিন

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ, গরিব ও অসহায় এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহীন ১২৪টি পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক ও গৃহ নির্মাণ উপকরণ হিসেবে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সায়েদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মজনু মিয়া, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বাস্তবায়িত মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় অষ্টগ্রাম উপজেলার ১২৪টি পরিবারের মধ্যে ২৫টি পরিবারের প্রত্যেককে দুই বান্ডেল করে ঢেউটিন ও ছয় হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়া হয়।

এ ছাড়া বাকি ৯৯টি পরিবারের প্রত্যেককে চার হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়া হয়েছে।