বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জুলাই দিবসের আয়োজনে ইটনায় ক্ষোভ জামায়াত-এনসিপি-গণঅধিকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
জুলাই দিবসের আয়োজনে ইটনায় ক্ষোভ জামায়াত-এনসিপি-গণঅধিকারের

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও গণঅধিকার পরিষদকে আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠানের পর এসব অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, রাষ্ট্রীয় এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে জুলাই আন্দোলনের অংশীজন, আহত জুলাই যোদ্ধা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল। কিন্তু জামায়াত, এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদের কোনো নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

অভিযোগকারী নেতাদের ভাষ্য, অনুষ্ঠানটি প্রকৃত অংশীজনদের বাদ দিয়ে সীমিত পরিসরে আয়োজন করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এতে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিফলন ঘটেছে।

ইটনা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক হাফেজ নুরুল্লাহ বলেন, “স্থানীয় প্রশাসন, বিশেষ করে ইউএনও কীভাবে এবং কার প্ররোচনায় এমন বৈষম্যমূলক আচরণ করলেন, তার জবাব দিতে হবে। এখন তো মনে হয় তাঁর সঙ্গে ফ্যাসিস্টের যোগসাজশ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত হওয়া দরকার।”

গণঅধিকার পরিষদের ইটনা উপজেলা শাখার সভাপতি উত্তম কায়েস বলেন, “এটি আমাদের জন্য চরম অপমানজনক। রাষ্ট্রীয় একটি দিবসে কেন আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, ইউএনওকে তার জবাব দিতে হবে। আমার সন্দেহ হয়, তিনি পলায়নকারী ফ্যাসিস্টের কোনো অনুচর কি না।”

এনসিপির ইটনা উপজেলা শাখার সদস্যসচিব আফজাল হোসেন শান্ত বলেন, “বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। অথচ ইটনার ইউএনও আমন্ত্রণের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য করেছেন। আমাদের বক্তব্য, এই কাজের মাধ্যমে তিনি গণঅভ্যুত্থানের পরাজিত শক্তির সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন।”

এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, বিষয়টি তদন্ত করে আমন্ত্রণ তালিকা কীভাবে করা হয়েছে এবং কোনো প্রভাব বা পক্ষপাত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলেও প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি, সারাদেশের পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ জেলার প্রায় সব উপজেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচি ও আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও ইটনায় এমনটি হয়নি। ফলে ইটনা উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সে সময় তিনি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে জুম সভায় ব্যস্ত ছিলেন। তিনি বলেন, “জুলাই যোদ্ধাদের আমন্ত্রণ দিয়েছি।” তবে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদকে কেন আমন্ত্রণ জানানো হয়নি—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমি এমপি স্যারের সঙ্গে কথা বলব। তাছাড়া এখন আমি ডিসি স্যারের সঙ্গে জুম মিটিংয়ে আছি।”

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশীজনদের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, সমতা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

সগড়ায় ডে-নাইট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
সগড়ায় ডে-নাইট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জে জমে উঠেছিল ‘সগড়া ডে-নাইট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’। বুধবার সগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফাইনালে ‘লিজেন্ড অব সগড়া’ ও ‘কেজি টপ ওয়ান’ দল মুখোমুখি হয়।

সগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ১ নম্বর রশিদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সদর থানা বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক মুর্শিদ উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেল খান। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ফেরদৌস আহম্মেদ নেভিন।

টুর্নামেন্ট পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন মো. আব্দুল আহাদ রঞ্জু মিয়া। ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে সগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এলাকার গণ্যমান্য মুরুব্বিদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক উপস্থিত থেকে ফাইনাল খেলা উপভোগ করেন।

ফাইনাল খেলায় লিজেন্ড অব সগড়া ও কেজি টপ ওয়ান দলের মুখোমুখি লড়াই ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। খেলা শেষে আয়োজকরা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

ভৈরবে পৈত্রিক ভিটায় চলাচলের রাস্তা বন্ধ, দুর্ভোগে ৩ পরিবার

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
ভৈরবে পৈত্রিক ভিটায় চলাচলের রাস্তা বন্ধ, দুর্ভোগে ৩ পরিবার

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চলাচলের রাস্তায় বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে তিনটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এতে গত পাঁচ দিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। বাধ্য হয়ে তাদের অন্য বাড়ির রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সম্প্রতি পৌর শহরের চণ্ডিবের মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগে মাহমুদুল হাসান রনি (৩১), তাহের আলী (৫০), শফিক মিয়া (৪০), নুর মিয়া (৪০), আব্দুর রহিম (৫৫) ও মিজান মিয়া (৩০)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটির মাঝখানের চলাচলের উঠান বা রাস্তাটি টিন ও বাঁশ দিয়ে শক্তভাবে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, বংশপরম্পরায় তিনটি পরিবারের সদস্যরা এই পথটি ব্যবহার করে আসছিলেন। হঠাৎ করে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় তারা ঘরবন্দি হওয়ার উপক্রম হয়েছেন।

ভুক্তভোগী মিন্নাত আলী বলেন, “আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে আমরা ছয় ভাই ও আমাদের সন্তানরা বসবাস করছি। আমাদের ভাইদের মধ্যে এখনো কোনো বাটোয়ারা বা বণ্টননামা দলিল হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান রনিসহ একটি ভূমিদস্যু চক্র আমাদের পরিবারের দুই ভাই তাহের আলী মিয়া ও আরমান মিয়ার কাছ থেকে লিখিত পাওয়ার নিয়ে আমাদের বাড়ির স্থাপনা ও টয়লেট ভেঙে বসতবাড়ি দখল করে নেয়।”

তিনি আরও বলেন, “এরপর তারা আমার তিন ভাইয়ের ঘরের সামনে টিনের বেড়া দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। যার কারণে আমাদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। আমাদের বাকি ভাইদের বাড়ির অংশ বিক্রি না করায় ঘরের সামনেই টিনের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে আমাদের দুর্ভোগে ফেলেছে। আমরা আমাদের নিজ পৈত্রিক ভিটায় স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারছি না। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।”

আরেক ভুক্তভোগী লুৎফর রহমান বলেন, “শফিকুল রহমানসহ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গত পাঁচ দিন ধরে এই বেড়া দিয়ে আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তাদের কিছু বলতে গেলেই তারা ক্ষমতা দেখায় এবং বলে—আমাদের বিচার করার কেউ নেই। যারা জমি কিনেছেন বলে দাবি করছেন, দলিলেও তাদের নাম নেই।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ভূমিদস্যু মাহমুদুল হাসান রনির সঙ্গে যোগসাজশ করে শফিকুল ইসলাম, তাহের মিয়া ও নুরু মিয়ারা এই অপকর্ম চালাচ্ছে। আমরা এর দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার চাই এবং চলাচলের জন্য আমাদের জায়গা উন্মুক্ত চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান রনি বলেন, “আমরা একজন ওয়ারিশ বাদে বাকি সবার কাছ থেকেই জমি কিনেছি। আমরা আমাদের ক্রয়কৃত জমিতেই বেড়া দিয়েছি এবং ভুক্তভোগীদের চলাচলের জন্য বিকল্প জায়গা করে দিয়েছি।”

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, “ইদানীং ভৈরবে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। চলাচলের রাস্তা একটি মৌলিক অধিকার। মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতা যাই থাকুক না কেন, চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। এটি অবশ্যই উন্মুক্ত রাখতে হবে। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

কিশোরগঞ্জে এসআরবি-১৪-এর অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে এসআরবি-১৪-এর অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ পুলিশের এলিট ফোর্স ‘এসআরবি’ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসআরবি-১৪-এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে বিজ্ঞ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

এসআরবি-১৪-এর সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জের একটি আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করে। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সদর থানার মাদক মামলা নম্বর-৩২(১)১৯-এর আসামি মো. রাব্বি মিয়া (২৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার রাব্বি মিয়া কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার মো. ইসলাম উদ্দিনের ছেলে। সদর থানার মাদক মামলায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণি ১০(ক) ধারায় আদালত তাকে দুই বছরের সাজা প্রদান করেন। তিনি আদালতের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন।

এসআরবি-১৪-এর আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করার পর অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।