সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

‘রাজনীতি করার আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মানসিক সুস্থতা জরুরি’

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
‘রাজনীতি করার আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মানসিক সুস্থতা জরুরি’

সংগ্রহীত ছবি

রাজনীতি করার আগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মানসিক সুস্থতা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) মুখপাত্র আবু হানিফ।

রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক লাইব্রেরিতে জেলা গণঅধিকার পরিষদ ও এর অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কিশোরগঞ্জে ছাত্র-জনতার ভূমিকা, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আবু হানিফ বলেন, “জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তার বক্তব্য শুনে মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে, তিনি মানসিকভাবে সুস্থ কি না। রাজনীতি করার আগে তার মানসিক সুস্থতা জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “কিশোরগঞ্জের রাজনীতি ঐতিহ্যগতভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি রয়েছে। কিন্তু নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কিশোরগঞ্জে এসে আমাদের দলের সভাপতি নুরুল হক নুরকে নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। শুধু নুরুল হক নুরকে নয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধেও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। আমরা মনে করি, এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একদিনে বা মাত্র ৩৬ দিনে সৃষ্টি হয়নি। গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ ও বঞ্চনা তৈরি হয়েছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।”

তিনি বলেন, “২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে আন্দোলন আরও বিস্তৃত রূপ লাভ করে। ২০১৮ সালের পর থেকেই আমরা শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন করেছি। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতাই পরবর্তী গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি করেছে।”

আবু হানিফ আরও বলেন, “২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে দমন-পীড়নের কারণে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসে। এর মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটে।”

গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরও পতিত আওয়ামী লীগের দোসররা বিভিন্নভাবে আস্ফালন করছে এবং বিদেশ থেকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। তবে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কবর রচিত হয়েছে। তাদের আর রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ নেই।”

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের আমাদের সহযোগী জামায়াত ও তাদের জোট প্রায়ই সরকার পতনের কথা বলছে। একটি সরকার মাত্র ছয় মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছে। তাদের কাজ করার জন্য সময় দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সরকারকেও সব রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জামায়াত ও এনসিপির কিছু বক্তব্য উসকানিমূলক এবং সংঘাতমুখী। এসব বক্তব্যে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ উৎসাহিত হতে পারে। তাই এমন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা উচিত।”

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আবু হানিফ বলেন, “বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় সমস্যা হলো গ্যাস সংকট, লোডশেডিং এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি। এসব কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

তিনি বলেন, “মানুষের দৈনন্দিন ভোগান্তি বাড়তে থাকলে যে কোনো সময় তারা প্রতিবাদে রাজপথে নামতে পারে। তাই পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই সমস্যাগুলোর সমাধান করা জরুরি।”

জেলা গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি মুখলেছুর রহমান উজ্জ্বল-এর সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম।

সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী অভি, জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ রমজান, জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নোমান আহমেদ, জেলা জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শফিকুল ইসলাম, জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরাম হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদুল হাসানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।

ডিসির আকস্মিক পরিদর্শনে অফিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১০ অপরাহ্ণ
ডিসির আকস্মিক পরিদর্শনে অফিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত

গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শন চালিয়ে দালালের মাধ্যমে সরকারি কাজ পরিচালনা এবং দাপ্তরিক দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) নূরুল করিম ভূঁইয়া কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনকালে এ ব্যবস্থা নেন।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চারজন হলেন কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা ওয়াজেদ আলী খান এবং অফিস সহায়ক শফিকুল ইসলাম, মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল ও তাপস চন্দ্র শীল।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দাপ্তরিক কাজে গাফিলতি এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শন শুরু করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে তিনি কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সোহেল রানা, গাজীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন এবং টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিবুর রহমান।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা দেখতে পান, সরকারি দাপ্তরিক কাজ অফিসের বাইরের লোকজন বা দালালের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া দায়িত্ব পালনে অবহেলা, সেবাগ্রহীতাদের যথাযথ সেবা না দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক নথিপত্র সংরক্ষণে অনিয়মের অভিযোগেরও প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।

অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হলে তাঁরা সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। প্রয়োজনীয় নথিপত্রও তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।

জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, “কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত ব্যক্তিরা দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও নিয়মনীতি অনুসরণ করছেন না। তাঁদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের নানা অভিযোগ রয়েছে। পরিদর্শনের সময় অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলে তাঁরা সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। এমনকি নামজারির সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত তথ্যও দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাশিমপুর ভূমি অফিস পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক সফিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও যান। সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সেবার মান উন্নয়ন, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

হোসেনপুরে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সমাবেশ, সচেতনতা বৃদ্ধিতে নানা দিকনির্দেশনা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সমাবেশ, সচেতনতা বৃদ্ধিতে নানা দিকনির্দেশনা

গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিদ্যুতের অপচয় রোধ এবং সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ‘সচেতনতা বৃদ্ধিতে গ্রাহক সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির হোসেনপুর জোনাল অফিসের উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম (কারিগরি) মো. ফেরদৌস আহমেদ, হোসেনপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. সোহেল রানা, হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসিম সবুজ, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংবাদিক আবু বকর সিদ্দিক, পৌর বিএনপির সভাপতি এ কে এম শফিকুল হক শফিক, সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক মানছুরুল হক রবিন, হোসেনপুর মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত চন্দ্র শীল, মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের উপজেলা সভাপতি এস কে শাহীন নবাব প্রমুখ।

এ ছাড়া পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক গ্রাহক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্রাহকদের সচেতনতার বিকল্প নেই। সময়মতো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ, বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার, অবৈধ সংযোগ পরিহার এবং যেকোনো সমস্যা দ্রুত সংশ্লিষ্ট জোনাল অফিসকে জানানো হলে সেবার মান আরও উন্নত হবে।

তারা গ্রাহকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন—

  • নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে।
  • প্রয়োজন ছাড়া ফ্যান, লাইট ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চালিয়ে বিদ্যুতের অপচয় করা যাবে না।
  • অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণ বা ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • মিটার রিডিং, বিলিং কিংবা সংযোগ-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা দেখা দিলে সরাসরি জোনাল অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।
  • ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছের ডাল পড়ে গেলে কিংবা অন্য কোনো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, “গ্রাহকরাই পল্লী বিদ্যুতের প্রকৃত মালিক। গ্রাহকদের সহযোগিতা ও সচেতনতাই নিরাপদ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

সমাবেশের শেষ পর্বে গ্রাহকরা বিদ্যুৎ বিল বেশি আসা, লোডশেডিং, নতুন সংযোগ, মিটার পরিবর্তন, সংযোগের জটিলতা এবং সেবার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। উপস্থিত কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন।

সভাপতির বক্তব্যে মো. কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর বলেন, “কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গ্রাহকসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। প্রতিটি গ্রাহক যেন মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা পান, সে লক্ষ্যে আমরা আন্তরিক। তবে এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদেরও দায়িত্বশীল ও সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।”

সমাবেশ শেষে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

বিবাহবিচ্ছেদের পর ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, সাবেক স্বামীর তিন বোন কারাগারে

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২২ অপরাহ্ণ
বিবাহবিচ্ছেদের পর ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, সাবেক স্বামীর তিন বোন কারাগারে

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বিবাহবিচ্ছেদের পর সাবেক স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রধান অভিযুক্তের তিন বোনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি সাবেক স্বামী বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শরিয়াহ ও আইন অনুযায়ী জামাল হোসেনের বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের জেরে চলতি বছরের ১২ মে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিবাহবিচ্ছেদের পর দাম্পত্য জীবনের ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ কিছু ছবি ব্যবহার করে সাবেক স্বামী এবং তার সহযোগীরা ভুক্তভোগীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ফেসবুক, মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছবিগুলো প্রকাশ করে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত ১৯ জুলাই কিশোরগঞ্জের আদালতে সাবেক স্বামী জামাল হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী। আদালতের নির্দেশে মামলাটি রুজু করে তদন্ত শুরু করে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সারফিন মিয়ার নেতৃত্বে সোমবার (৩ আগস্ট) সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার পিঠাপই গ্রামে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামি—রিমা বেগম (২৪), আকলিমা বেগম (২২) ও শাপলা বেগমকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের কিশোরগঞ্জের আদালতে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ জানায়, মামলার প্রধান আসামি জামাল হোসেন বর্তমানে গ্রিসে অবস্থান করছেন। ফলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

কুলিয়ারচর থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41