বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গর্ব: একুশে পদক পেলেন করিমগঞ্জের ইসলাম উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গর্ব: একুশে পদক পেলেন করিমগঞ্জের ইসলাম উদ্দিন

কিশোরগঞ্জের জনপ্রিয় পালাকার ইসলাম উদ্দিন (৫৮) চলতি বছর নাট্যকলা বিভাগে একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে একুশে পদক তুলে দেওয়া হয়।

পদকের জন্য তিনি কোনো আবেদন না করলেও গত ৫ জানুয়ারি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ফোনে সুখবরটি পান। পরে ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি তাঁর মোবাইল ফোনে পাঠানো বার্তায় পদক প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়।

করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নের নোয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা ইসলাম উদ্দিন এ সম্মাননায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এটি তাঁর দীর্ঘদিনের সাধনা ও লোকসংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসার স্বীকৃতি। তাঁর এই অর্জনে গর্বিত এলাকাবাসীও। দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত পালাগানের আমন্ত্রণ পাওয়ার পাশাপাশি বিদেশের মঞ্চেও নিজের শিল্পকলা প্রদর্শন করেছেন তিনি। ১৯৯৯ সালে প্রথম লন্ডনে পালাগান পরিবেশন করেন। পরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সরকারিভাবে ফ্রান্সে যান। এছাড়া ভারতেও পালাগান পরিবেশন করেছেন।

সম্প্রতি নোয়াবাদের দর্গাভিটা বাজারে তাঁর সঙ্গে কথা হলে দেখা যায়, স্বল্প পুঁজির একটি রকমারি দোকান পরিচালনা করছেন তিনি। দোকানের পেছনেই গড়ে তুলেছেন ছোট একটি স্টুডিও। সেখানে একটি কম্পিউটার রয়েছে, যেখানে মাঝে মাঝে কাজ করেন তাঁর ছেলে দিদারুল ইসলাম। দোকানেই বসে ইসলাম উদ্দিন শোনান শৈশব থেকে আজ পর্যন্ত তাঁর লোকজ সংগীত ও নাট্যচর্চার গল্প।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাবাকে হারান ইসলাম উদ্দিন। মা আমেনা খাতুন ও দুই বড় ভাইকে নিয়ে সংসার চললেও আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না। বড় ভাইরা দিনমজুরি করে পরিবার চালাতেন। সেই কঠিন সময়েই পালাগানের প্রতি তাঁর আগ্রহ জন্ম নেয়। নেত্রকোণার বরেণ্য পালাকার কুদ্দুস বয়াতি-এর পালা শুনে অনুপ্রাণিত হন তিনি। ১৯৮৮ সালে কুদ্দুস বয়াতির বাড়িতে গিয়ে টানা নয় মাস তালিম নেন। পরের বছর থেকেই মঞ্চে নিয়মিত পরিবেশনা শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে পরিচিতি বাড়তে থাকে।

কর্মজীবনের শুরুতে ঝুমুর যাত্রাপালায় গান ও অভিনয় করেন ইসলাম উদ্দিন। লোককাহিনিভিত্তিক সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি গানও গেয়েছেন। ‘কীর্তনখোলা’, ‘পাগলা ঘোড়া’ এবং নুহাশ হুমায়ুন-এর ওয়েব সিরিজ ‘বেসুরা’-তেও অভিনয় ও সংগীত পরিবেশন করেছেন। বর্তমানে স্থানীয় পরিচালক মোস্তাফিজ মামুনের ‘জলমহল’ সিনেমায় কাজ করছেন। এতে গান লেখা, সুরারোপ, কণ্ঠদান ও অভিনয়—সবকিছুই করছেন নিজে।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর নাট্যকলা বিভাগে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

ব্যক্তিজীবনে তিন সন্তানের জনক ইসলাম উদ্দিন। বড় মেয়ে দিলরুবা আক্তারের মাস্টার্স সম্পন্ন হয়েছে। ছেলে দিদারুল ইসলাম জেলা শহরের ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজ থেকে ভূগোল বিষয়ে অনার্স শেষ করে মাস্টার্সে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ছোট মেয়ে মাহবুবা আক্তার অনার্সে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দিদারুল ইসলাম বলেন, “বাবা খুবই খোলা মনের মানুষ। তিনি কোনো কিছুই গোপন করেন না।”

লোকজ সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবে ইসলাম উদ্দিনের একুশে পদক প্রাপ্তি কিশোরগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন গর্বের সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

হোসেনপুরে বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি থাকা অবস্থায় জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী মো. নাজমুল ইসলাম হোসেনপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ আদালতের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার আলোকে নোটিশ জারি করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের মেচেড়া (আটকাপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম (৪৮) তার পৈত্রিক সম্পত্তিতে দখল ও বসতঘর নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে থানায় আবেদন করেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, একই গ্রামের শহীদ মিয়া, সোহাগ মিয়া, মো. ফজলু গংসহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছে এবং তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।

আরও বলা হয়, বিবাদীরা সংঘবদ্ধ হয়ে জমিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে দখল নেওয়া এবং বসতঘর নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যারা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারবেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশনায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। হোসেনপুর থানা থেকে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, বিরোধপূর্ণ জমিতে কেউ কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা, দখল বা অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, বিবাদীপক্ষ ওই নির্দেশনা অমান্য করে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা অবনতিরোধে উভয় পক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত বিষয়টির স্থায়ী সমাধান ও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।

হোসেনপুরের সন্তান মোশারফ হোসেনের সাটুরিয়া থানার ওসি হিসেবে পদায়ন

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরের সন্তান মোশারফ হোসেনের সাটুরিয়া থানার ওসি হিসেবে পদায়ন

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ৬ নম্বর পুমদী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী নান্দানিয়া গ্রামের কৃতি সন্তান পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোশারফ হোসেনকে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

তার এই গুরুত্বপূর্ণ পদায়নে পুমদী ইউনিয়নসহ হোসেনপুর উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

জানা যায়, মোশারফ হোসেন এর আগে মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-তে ওসি (ডিবি) হিসেবে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।

পুমদী ইউনিয়নবাসী আশা প্রকাশ করেন, তিনি নতুন কর্মস্থল সাটুরিয়া থানায়ও দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

এ সময় তার সার্বিক সফলতা, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ কর্মজীবনের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানানো হয়।

অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ৬,৪৭৬ জনের নাম বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ৬,৪৭৬ জনের নাম বাতিল

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী জানান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এমআইএসে সংরক্ষিত সমন্বিত তালিকা অনুযায়ী এই সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিভিন্ন ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপাতত সম্মানি ভাতা বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, উপজেলা পর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণেরও কোনো পরিকল্পনা নেই।

তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য প্রতি বছর চার হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়। এছাড়া কোনো মুক্তিযোদ্ধা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে, স্বীকৃত হাসপাতালের বিল মন্ত্রণালয় পরিশোধ করে থাকে।

মন্ত্রী আরও জানান, ‘উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন উপজেলায় অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে।

পৃথক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো গেজেটধারী মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অভিযোগ পাওয়া গেলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) তদন্ত ও শুনানির মাধ্যমে তা যাচাই করে।

অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

মন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত অমুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত ৮৪২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে তদন্ত শেষে ৪৮১ জনের গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা বা ভারতীয় তালিকা বাতিল করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জামুকা প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১০৩টি সভার মাধ্যমে মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জনের গেজেট বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।