শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

হোসেনপুরে বিএনপি নেতার পিতা-মাতার স্মরণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হোসেনপুরে বিএনপি নেতার পিতা-মাতার স্মরণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর পৌর বিএনপির সভাপতি এ.কে.এম. শফিকুল হক শফিকের পিতা ও মাতার আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) হোসেনপুর উপজেলা সদরে অবস্থিত হোসেনপুর মডেল মসজিদে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

পারিবারিক ও দলীয় উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে মরহুম পিতা ও মরহুমা মাতার রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে হোসেনপুর উপজেলার উন্নয়ন, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করা হয়।

ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাহফিল শেষে উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়। এ সময় এ.কে.এম. শফিকুল হক শফিক তাঁর পিতা-মাতার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

জনপ্রিয় হাওর পর্যটনকেন্দ্র নিকলী, অব্যবস্থাপনায় সৌন্দর্য হারানোর শঙ্কা

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ
জনপ্রিয় হাওর পর্যটনকেন্দ্র নিকলী, অব্যবস্থাপনায় সৌন্দর্য হারানোর শঙ্কা

বর্ষার শুরুতেই প্রাণ ফিরে পেয়েছে কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত পর্যটনকেন্দ্র নিকলী। অথৈ জলরাশি, দিগন্তজোড়া হাওর, ঢেউয়ের দোলা আর মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভিড় করছেন হাজারো পর্যটক। তবে পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই নিকলী হাওরের অন্যতম আকর্ষণীয় এলাকাগুলো ময়লা-আবর্জনা, খড়ের স্তূপ ও গোবরের তৈরি জ্বালানিতে (ঘুঁটে) দখল হয়ে পড়ায় নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা।

প্রতি বছরের মতো এবারও জুলাই শুরুর আগ থেকেই থেকে নিকলী হাওর রূপ নিয়েছে এক বিশাল জলরাশির রাজ্যে। উপজেলা পরিষদ চত্বর, মহারকোনা বেড়িবাঁধ, ছাতিরচর এবং আশপাশের এলাকাগুলোতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুরা। বিশেষ করে বিকেলের সূর্যাস্ত উপভোগ করতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

কিন্তু এই পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই বেড়িবাঁধ ও সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা, রাস্তা ও বাঁধজুড়ে শুকাতে দেওয়া খড় এবং গোবরের তৈরি জ্বালানি (ঘুঁটে) পর্যটকদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে পরিবেশ দূষণের কারণে নষ্ট হচ্ছে এলাকার নান্দনিকতা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পর্যটকদের কাছে নিকলী হাওরের সৌন্দর্যই সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে ময়লা ফেলা এবং সরকারি জায়গা দখল করে খড় ও ঘুঁটে শুকানোর কারণে পর্যটকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে নিকলীর সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পর্যটকরা বলেন, এত সুন্দর একটি প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্রের এমন নোংরা পরিবেশ হতাশাজনক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং বেড়িবাঁধে দখলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

স্থানীয় ট্রলার মালিক, অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালক, রেস্টুরেন্ট এবং আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষা মৌসুমই তাদের আয়ের প্রধান সময়। পর্যটকদের ওপরই নির্ভর করে তাদের অধিকাংশ ব্যবসা।

তারা বলেন, “সারা বছর আমরা বর্ষার অপেক্ষায় থাকি। পর্যটক এলে আমাদের ব্যবসা সচল থাকে। পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, “বর্ষা মৌসুমে পর্যটকদের আগমনে নিকলীর অর্থনীতি সচল থাকে। এই পর্যটন সম্ভাবনাকে কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। ইতোমধ্যে মাইকিং করে ময়লা-আবর্জনা, খড় ও অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার জন্য সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে অভিযান পরিচালনা করে বেড়িবাঁধ ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার এবং দখলমুক্ত করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, শুধু মৌসুমি অভিযান নয়, নিকলী হাওরের পর্যটন এলাকা রক্ষায় স্থায়ী পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই হাওর পর্যটনকেন্দ্রের আকর্ষণ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে।

লাঠি-বৈঠা হাতে কিশোরগঞ্জে ছাত্রলীগের মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
লাঠি-বৈঠা হাতে কিশোরগঞ্জে ছাত্রলীগের মিছিল

ভিডিও হতে সংগ্রহীত

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রতিবাদ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে কিশোরগঞ্জে মিছিল করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে জেলা শহরে অনুষ্ঠিত এ মিছিলকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৮টার দিকে জেলা শহরের রথখলা এলাকা থেকে জেলা কমিটির ব্যানারে মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বত্রিশ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকের হাতে বৈঠা ও লাঠি দেখা যায়। মিছিলে জেলা ছাত্রলীগের সম্পাদক পরিষদের সদস্য তানিম ইসলাম, রতন মিয়াসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী অংশ নেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশ সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ছেলে রাসেল আহমেদ তুহিনের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। মিছিল চলাকালে তার নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন স্লোগানও দেওয়া হয়।

ঘটনার বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, “ফেসবুকের মাধ্যমে মিছিলের বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টি অনুসন্ধান করে দেখা হচ্ছে। মিছিলের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের পরিচয়, মিছিল আয়োজনের প্রেক্ষাপট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মসজিদে তওবা করে মাদক ব্যবসা ছাড়ার ঘোষণা ৫ কারবারির

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৪:৪৫ পূর্বাহ্ণ
মসজিদে তওবা করে মাদক ব্যবসা ছাড়ার ঘোষণা ৫ কারবারির

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সতাল পাক্কার মাথা এলাকায় মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয়রা। বায়তুন নূর জামে মসজিদে আয়োজিত এক মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে পাঁচজন মাদক কারবারি প্রকাশ্যে তওবা করে ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসাসহ সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেছেন।

অনুষ্ঠানটির প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান। আর পুরো উদ্যোগটির প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন প্রকৌশলী ওমর ফারুক। মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মোজাম্মেল হকের মাধ্যমে আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে আল্লাহর কাছে তওবা করেন এবং সুপথে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, যুবসমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা বলেন, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। মাদক নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক ও ধর্মীয় সচেতনতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল নূর তারেক বলেন, সদর উপজেলার পাক্কার মাথা এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদকের প্রভাব উদ্বেগজনক। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। কোনো অপরাধ বা মাদক-সংক্রান্ত তথ্য থাকলে গোপনে পুলিশকে জানাতে হবে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের চলাফেরা ও কর্মকাণ্ডের প্রতি নজর রাখারও আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান সমন্বয়ক আব্দুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা কারও বাড়িঘর ভাঙচুর বা কাউকে আঘাত করতে চাই না। যারা ভুল পথে চলে গেছে, তাদের আল্লাহর ঘরে এনে তওবার মাধ্যমে সুপথে ফিরিয়ে আনাই আমাদের উদ্দেশ্য। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

প্রধান উদ্যোক্তা প্রকৌশলী ওমর ফারুক বলেন, “দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের আন্দোলন ও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও হামলা, ভাঙচুর কিংবা বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। আমরা সেই পথ বেছে নিইনি। বরং তাদের বুঝিয়ে-সুঝিয়ে, অনুতপ্ত করে স্বেচ্ছায় মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে উদ্বুদ্ধ করেছি। আজকের তওবা সেই উদ্যোগেরই অংশ। যারা তওবা করেছেন, তারা আর কখনো মাদক ব্যবসায় জড়াবেন না বলে সবার সামনে অঙ্গীকার করেছেন। ভবিষ্যতেও মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের মানবিক ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বায়তুন নূর জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, ইটনা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মো. মোবারক হুসেন এবং বায়তুন নূর জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মোজাম্মেল হক।

আত্মসমর্পণকারী পাঁচ মাদক কারবারি হলেন— শাহানশাহ (পিতা: আরফান শাহ), মো. রুবেল মিয়া (পিতা: মৃত আব্দুর রহিম), মো. রাসেল মিয়া (পিতা: মৃত জামাল উদ্দিন), মো. টুটুল মিয়া (পিতা: হুসেন মিয়া) এবং মো. সাঈদী (পিতা: আলী হুসেন)। তারা সবাই কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সতাল ভট্টাচার্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত এলাকাবাসী আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সহযোগিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি মাদকমুক্ত এলাকা গড়ে তুলতে সামাজিকভাবে সবাইকে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।