মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩

উন্নয়ন ও বরাদ্দের খোলামেলা হিসাব: নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
উন্নয়ন ও বরাদ্দের খোলামেলা হিসাব: নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সরকারি বরাদ্দ এবং বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার এই উদ্যোগ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক নাগরিক ও সাংবাদিক মনে করছেন, রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি নতুন সংস্কৃতির সূচনা হতে পারে এমন উদ্যোগের মাধ্যমে।

সম্প্রতি এক লাইভ উপস্থাপনায় তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা–৪ (দেবিদ্বার) আসনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি বরাদ্দ এবং সেই অর্থ ব্যয়ের খাতসমূহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তব অগ্রগতি, চলমান প্রকল্প এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যা দেন।

এই উপস্থাপনা দেখে অনেক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন স্বচ্ছ ও তথ্যসমৃদ্ধ উপস্থাপনা খুব কমই দেখা যায়। তাদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধি যদি নিজেই তার এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পূর্ণ হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরেন, তাহলে ভোটারদের মধ্যে আস্থা বাড়ে এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা শক্তিশালী হয়।

কিশোরগঞ্জের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও এনটিভির নিজস্ব প্রতিবেদক মারুফ আহমেদ তার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, “হাসনাত আব্দুল্লাহর পুরো প্রেজেন্টেশনটি আমি মনোযোগ দিয়ে একাধিকবার দেখেছি। নিজের নির্বাচনী এলাকার চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি বরাদ্দ ও ব্যয়ের বিষয়ে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দেখে আমিও অনেক কিছু নতুন করে জানতে পেরেছি। এতে নিজের সংসদীয় এলাকা নিয়েও একইভাবে জানার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমের অর্থ কোথা থেকে আসে, কীভাবে ব্যয় হয় এবং সেই কাজের অগ্রগতি কী—এসব তথ্য জানা সাধারণ ভোটারদের অধিকার। একজন জনপ্রতিনিধি যখন স্বেচ্ছায় এসব তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরেন, তখন তা গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা দাবি-দাওয়া থাকলেও সেগুলোর বিস্তারিত আর্থিক হিসাব জনসমক্ষে খুব কমই উপস্থাপন করা হয়। ফলে সাধারণ মানুষ প্রকল্পের প্রকৃত অবস্থা বা বরাদ্দের পরিমাণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান না।

এই প্রেক্ষাপটে হাসনাত আব্দুল্লাহর তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনাকে অনেকেই একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধি যদি তার এলাকার প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরেন, তাহলে তা অন্য জনপ্রতিনিধিদের জন্যও একটি উদাহরণ হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, গণতন্ত্রে জনগণ শুধু ভোটার নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদের মালিক। তাই জনগণের অর্থ দিয়ে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব জনগণের কাছে তুলে ধরা রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশ।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মতে, যদি দেশের অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সরকারি বরাদ্দের বিস্তারিত তথ্য এভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করেন, তাহলে রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে।

তাদের ভাষায়, “হাসনাত আব্দুল্লাহ হয়তো একটি নতুন ধারা শুরু করেছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্যরাও যদি একইভাবে জনগণের সামনে তাদের কাজের হিসাব তুলে ধরেন, তাহলে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের সূচনা ঘটতে পারে।”

ইমন হত্যার বিচার দাবিতে হোসেনপুরে ফের বিক্ষোভ, দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
ইমন হত্যার বিচার দাবিতে হোসেনপুরে ফের বিক্ষোভ, দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে কলেজছাত্র তরিকুল ইসলাম ইমন হত্যার বিচার দাবিতে দ্বিতীয় দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।

সোমবার (৪ মে) দুপুরে বিক্ষোভ মিছিলটি হোসেনপুর মডেল মসজিদ এলাকা থেকে শুরু হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতাল মোড়ে অবস্থান নিয়ে টায়ার জ্বালিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

পরবর্তীতে হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মার্চ রাতে হোসেনপুর বাজার এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী মাসুদ মীরের একমাত্র ছেলে ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম ইমন নিখোঁজ হন। পরদিন (১৭ মার্চ) ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের খুরশিদ মহল সেতুর নিচ থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা পাগলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনার ৪৯ দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেফতারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

এর আগে একই দাবিতে গত ৬ এপ্রিল বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

জেলা ছাত্রদল কমিটি ঘিরে বিক্ষোভ: শরিফুল আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
জেলা ছাত্রদল কমিটি ঘিরে বিক্ষোভ: শরিফুল আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

কিশোরগঞ্জে নবগঠিত জেলা ছাত্রদল কমিটিকে ঘিরে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি শরিফুল আলমের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তাকে জেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা।

সোমবার (৪ মে ২০২৬) দুপুরে ‘সর্বস্তরের মজলুম ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ’-এর ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গৌরাঙ্গবাজার মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, কেন্দ্র থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণার পর অস্বাভাবিকভাবে তা স্থগিত করা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে কমিটি গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করা হয়। তাদের দাবি, পূর্বে ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদককে বাদ দিয়ে এবং বিভিন্ন মহলের হস্তক্ষেপে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, অতীতে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ত্যাগী নেতাকর্মীদের বর্তমান কমিটিতে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। তারা রেদোয়ান রহমান ওয়াকিউরের নেতৃত্বে পূর্বের আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে নতুন কমিটিকে “সিন্ডিকেটনির্ভর” আখ্যা দেন এবং তা প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন।

সমাবেশ থেকে বক্তারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বর্তমান কমিটি বাতিল করে রেদোয়ান রহমান ওয়াকিউরকে পুনর্বহালের দাবি জানান।

এ সময় শরিফুল আলম ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয় এবং তাদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানানো হয়।

করিমগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালত: মাদক সেবন ও বিক্রির দায়ে কারাদণ্ড

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালত: মাদক সেবন ও বিক্রির দায়ে কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক ব্যক্তিকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন।

সোমবার (৪ মে) পরিচালিত এ অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারায় গাঁজা সেবন ও বিক্রির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে এ দণ্ড দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন করিমগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির। অভিযানে করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এমরানুল কবির এবং গুজাদিয়া আব্দুল হেকিম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ ফকির উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় করিমগঞ্জ থানার একটি চৌকস পুলিশ দল আদালত পরিচালনা ও রায় বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা অপরিহার্য।”

তিনি আরও জানান, মাদক, মাদকাসক্ত ও মাদক কারবারি সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, মাদকবিরোধী এই অভিযানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও প্রশংসা লক্ষ্য করা গেছে।