টনিহারা খাল পুনঃখননে পুমদীর কৃষিতে বিপ্লব: জলাবদ্ধতা কাটিয়ে ঘরে সোনালী ফসল
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নে টনিহারা খাল পুনঃখননের ফলে কৃষিতে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট কাটিয়ে চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকের ঘরে উঠছে সোনালী ফসল। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয় কৃষকরা।
জাইকা প্রকল্পের অর্থায়নে এবং রুপসা বিল সুলাদল সমবায় সমিতি লিমিটেডের বাস্তবায়নে প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ টনিহারা খালটি পুনঃখনন করা হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে খননকাজ শেষ হওয়ার পর চলতি মৌসুমেই এর সুফল পেতে শুরু করেছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পুমদী ইউনিয়নের টনিহারা, পুমদী, জগদল, বর্শিকুড়া ও চরপুমদী গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে এবার নির্বিঘ্নে সেচ সুবিধা মিলেছে। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমের আগেই পানি নিষ্কাশনের পথ সচল থাকায় আগাম বন্যার ঝুঁকিও কমেছে।
স্থানীয় কৃষক মো. মেহেদী হাসান রুমান, রওশন মিয়া, নূর উদ্দিন ও আবুল কাশেমসহ অনেকেই জানান, খালটি দীর্ঘদিন ভরাট থাকায় বর্ষায় জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাবে হাজার হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। ফলে সময়মতো ধান রোপণ ও কাটার কাজ অনিশ্চিত হয়ে পড়ত।
টনিহারা গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন, “গত ১০ বছর ধরে এই বিলের জমিতে ধান করতে পারিনি। খাল ভরাট থাকায় পানি নামত না। এবার খাল কাটার পর জমিতে পানি দেওয়া গেছে, আবার পাকার পর কাটতেও পেরেছি। জাইকা ও সমিতির জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”
আরেক কৃষক জাহানারা বেগম বলেন, “আগে জমিতে পানি জমে ধান নষ্ট হয়ে যেত। এবার খাল দিয়ে সহজে পানি নামছে। আমার ৩ বিঘা জমিতে প্রায় ৯০ মণ ধান হয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারছি।”
রুপসা বিল সুলাদল সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি আ. রউফ মেম্বার বলেন, জাইকার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় স্থানীয় কৃষকদের মতামতের ভিত্তিতে স্বচ্ছতার সঙ্গে খাল খননের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর ফলে শুধু বোরো নয়, আমন মৌসুমেও কৃষকরা উপকৃত হবেন।
হোসেনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ মোহাম্মদ মহসিন জানান, টনিহারা খাল পুনঃখনন এ অঞ্চলের কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ওই এলাকায় হেক্টরপ্রতি বোরোর ফলন প্রায় ৬.২ মেট্রিক টন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। জলাবদ্ধতা দূর হওয়ায় পতিত জমিও চাষের আওতায় এসেছে।
এলাকাবাসী দুলাল ও খাইরুল ইসলামসহ অনেকে খালটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দুই পাশে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে খালটি পুনরায় ভরাট না হয় এবং বর্ষাকালে ভাঙনের ঝুঁকি কমে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল পুনঃখননের ফলে শুধু ফসল উৎপাদনই নয়, এলাকার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।










