শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

টনিহারা খাল পুনঃখননে পুমদীর কৃষিতে বিপ্লব: জলাবদ্ধতা কাটিয়ে ঘরে সোনালী ফসল

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
টনিহারা খাল পুনঃখননে পুমদীর কৃষিতে বিপ্লব: জলাবদ্ধতা কাটিয়ে ঘরে সোনালী ফসল

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নে টনিহারা খাল পুনঃখননের ফলে কৃষিতে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট কাটিয়ে চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকের ঘরে উঠছে সোনালী ফসল। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয় কৃষকরা।

জাইকা প্রকল্পের অর্থায়নে এবং রুপসা বিল সুলাদল সমবায় সমিতি লিমিটেডের বাস্তবায়নে প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ টনিহারা খালটি পুনঃখনন করা হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে খননকাজ শেষ হওয়ার পর চলতি মৌসুমেই এর সুফল পেতে শুরু করেছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুমদী ইউনিয়নের টনিহারা, পুমদী, জগদল, বর্শিকুড়া ও চরপুমদী গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে এবার নির্বিঘ্নে সেচ সুবিধা মিলেছে। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমের আগেই পানি নিষ্কাশনের পথ সচল থাকায় আগাম বন্যার ঝুঁকিও কমেছে।

স্থানীয় কৃষক মো. মেহেদী হাসান রুমান, রওশন মিয়া, নূর উদ্দিন ও আবুল কাশেমসহ অনেকেই জানান, খালটি দীর্ঘদিন ভরাট থাকায় বর্ষায় জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাবে হাজার হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। ফলে সময়মতো ধান রোপণ ও কাটার কাজ অনিশ্চিত হয়ে পড়ত।

টনিহারা গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন, “গত ১০ বছর ধরে এই বিলের জমিতে ধান করতে পারিনি। খাল ভরাট থাকায় পানি নামত না। এবার খাল কাটার পর জমিতে পানি দেওয়া গেছে, আবার পাকার পর কাটতেও পেরেছি। জাইকা ও সমিতির জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”

আরেক কৃষক জাহানারা বেগম বলেন, “আগে জমিতে পানি জমে ধান নষ্ট হয়ে যেত। এবার খাল দিয়ে সহজে পানি নামছে। আমার ৩ বিঘা জমিতে প্রায় ৯০ মণ ধান হয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারছি।”

রুপসা বিল সুলাদল সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি আ. রউফ মেম্বার বলেন, জাইকার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় স্থানীয় কৃষকদের মতামতের ভিত্তিতে স্বচ্ছতার সঙ্গে খাল খননের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর ফলে শুধু বোরো নয়, আমন মৌসুমেও কৃষকরা উপকৃত হবেন।

হোসেনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ মোহাম্মদ মহসিন জানান, টনিহারা খাল পুনঃখনন এ অঞ্চলের কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ওই এলাকায় হেক্টরপ্রতি বোরোর ফলন প্রায় ৬.২ মেট্রিক টন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। জলাবদ্ধতা দূর হওয়ায় পতিত জমিও চাষের আওতায় এসেছে।

এলাকাবাসী দুলাল ও খাইরুল ইসলামসহ অনেকে খালটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দুই পাশে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে খালটি পুনরায় ভরাট না হয় এবং বর্ষাকালে ভাঙনের ঝুঁকি কমে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল পুনঃখননের ফলে শুধু ফসল উৎপাদনই নয়, এলাকার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই মাদক কারবারিকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাদের এ দণ্ড দেওয়া হয়।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন নিয়ামতপুর ইউনিয়নের বাহিরচর গ্রামের আইজুদ্দিনের ছেলে সাফায়েতুল (২১) এবং দেহন্দা ইউনিয়নের সাকুয়া গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে রাব্বুল (২০)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির।

তিনি জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির শতভাগ বাস্তবায়নে করিমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী (কেরানি) মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা ফাজিল কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। কটিয়াদী উপজেলা প্রশাসন-এর পক্ষ থেকে কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনি আক্তার তারানা রাষ্ট্রের পক্ষে সালাম গ্রহণ করেন।

এ সময় জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত মরহুমের মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরে একই স্থানে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমকে দাফন করা হয়।

গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক মো. ঈসরাইল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মোড়ল, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাবেক সভাপতি মো. কুতুব উদ্দিন, উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাবলুসহ কটিয়াদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. মস্তোফা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ফেকামারা গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, চার মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

মোছা. জান্নাতুল মাওয়া প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে)। এ সময় শিক্ষার্থীদের মোট ৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।

শনিবার দুপুরে করিমগঞ্জ পৌরসভার নয়াকান্দি এলাকায় অবস্থিত ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ আঞ্চলিক অফিসের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শহীদুজ্জামান ভূঞা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. সজল মিয়া।

অনুষ্ঠানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে এসএসসি উত্তীর্ণ ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ১২ হাজার টাকা করে এবং এইচএসসি উত্তীর্ণ সাতজন শিক্ষার্থীকে ২৪ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হয়।

এ সময় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষা বিস্তারে সহায়তা এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ডিএসকে। সংস্থাটি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নিজেদের উপকারভোগী সদস্যদের সন্তানদের পাশাপাশি হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদেরও বৃত্তি দিয়ে থাকে।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, এ বছর জেলায় মোট ১৩১ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ২১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ পূর্ব জোনে ৫৩ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সারাদেশে ডিএসকের শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় মোট এক কোটি ১০ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।