সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

হোসেনপুরে জমি বিরোধে হামলা: নারীসহ আহত ৪, দোকান ভাঙচুর-লুটপাট

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হোসেনপুরে জমি বিরোধে হামলা: নারীসহ আহত ৪, দোকান ভাঙচুর-লুটপাট

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে দোকানপাট ভাঙচুর ও লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটপাটের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. ফজলুল করিম হোসেনপুর থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মাধখলা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী মো. ফজলুল করিম (৬৫) জানান, তিনি প্রায় ৩৫ বছর ধরে ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে পুকুরের মাটি ভরাট করে দোকানপাট নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে প্রতিবেশী কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে জমিটি নিজেদের দাবি করে জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিস হলেও বিবাদীরা তা মানেননি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন অভিযুক্তরা অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ফজলুল করিমের জমিতে অবস্থান নেয়। এতে বাধা দিলে তারা গালিগালাজ করে এবং তাকে ধাক্কা দিয়ে মারধর করে আহত করে।

এ সময় ফজলুল করিমের স্ত্রী মোছা. আঙ্গুরা খাতুন (৫২) এগিয়ে এলে তাকেও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। তাদের মেয়ে মোছা. লাকী আক্তার (৩২) এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে আহত করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা নির্মাণাধীন দোকানপাটে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং ভাড়াটিয়া দোকানদারের মালামাল নষ্ট করে প্রায় ৩৫ হাজার টাকার ক্ষতি করে। এছাড়া বিভিন্ন মালামাল লুটপাটসহ আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকার জিনিসপত্র নিয়ে যায়। দোকানের সামনে থাকা প্রায় ৪২ হাজার টাকার কাঠও তারা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া একটি দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বিছানা, আলমারি, আসবাবপত্রসহ আনুমানিক ৮০ হাজার টাকার মালামাল লুট করা হয়। একই সঙ্গে নগদ ৮ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগে উল্লেখিত জমির বিবরণ অনুযায়ী, মৌজা—মাধখলা; খতিয়ান নম্বর ৬১৮; এসএ দাগ ১৬৭৭ এবং আরএস দাগ ৩৪৪৪, ৩৪৪৫ ও ৩৪৪৬; জমির শ্রেণি কান্দা।

ভুক্তভোগী দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কটিয়াদীতে দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনা অবমুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনা অবমুক্ত

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি সংরক্ষণ এবং প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে উন্মুক্ত জলাশয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির আওতায় একটি প্রাতিষ্ঠানিক পুকুর ও একটি উন্মুক্ত জলাশয়ে মোট ৩৩৩ দশমিক ৩৩ কেজি রুইজাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।

সোমবার দুপুরে উপজেলার করগাঁও হাওরে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় এ পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কাউসার মিয়া, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মিজানুর রহমান স্বপন, শেখ জসিম উদ্দিন মেনু, শরাফ উদ্দিন লস্কর পারভেজ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফুলুসহ উপজেলা বিএনপি ও সব অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি সংরক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জলাশয় সংরক্ষণ ও অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, জলাশয়গুলোতে পরিকল্পিতভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক জলাশয়ের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধ করা গেলে দেশীয় মাছের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং এর সুফল পাবে স্থানীয় জনগোষ্ঠী।

সংসদ সদস্য আরও বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কটিয়াদীর জলাশয়গুলো দেশীয় মাছে সমৃদ্ধ হবে এবং এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে—এটাই প্রত্যাশা।

মৎস্য বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার মাধ্যমে দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাছের চাহিদা পূরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

কিশোরগঞ্জে হাইভোল্টেজ তারে জড়িয়ে দুই নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে হাইভোল্টেজ তারে জড়িয়ে দুই নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

কিশোরগঞ্জ শহরে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের পুরাতন থানা এলাকায় ইসলামিয়া সুপার মার্কেটের সামনে আব্দুস সামাদ প্লাজার পাঁচতলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত জিনারাই গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে আফাজুল (৩৪) এবং হোসেনপুর উপজেলার সাব্বির (২৫)।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুস সামাদ প্লাজার পাঁচতলার ছাদে নির্মাণকাজ চলছিল। দুপুরে নিচ থেকে রড ওপরে তোলার সময় সেটি ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া হাইভোল্টেজ বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে আসে। এতে মুহূর্তেই দুই শ্রমিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ডিজেল-কেরোসিন-পেট্রোল-অকটেনের দাম বাড়ল ২০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
ডিজেল-কেরোসিন-পেট্রোল-অকটেনের দাম বাড়ল ২০ টাকা

দেশের বাজারে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে নতুন দাম নির্ধারণের তথ্য জানানো হয়েছে। পুনর্নির্ধারিত দাম সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।

নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ চার ধরনের জ্বালানি তেলের প্রতিটির দাম লিটারে ২০ টাকা করে বেড়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। ফলে রোববার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে অর্থাৎ সোমবারের শুরু থেকেই ভোক্তারা নতুন দামে জ্বালানি তেল কিনবেন।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থে এতদিন দেশে পুরোপুরি সমন্বয় করা হয়নি বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না করায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী, ডিজেলে বিপিসির লিটারপ্রতি লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা এবং এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা হচ্ছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত লোকসান হতে পারে। লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ালে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের তুলনায় পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে জ্বালানি তেলের দাম বেশি থাকায় সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বিপিসির লোকসান কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং পাচারের ঝুঁকি কমানোর বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এর আগে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ৩১ আগস্ট নির্ধারিত দামে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা ও পেট্রোল ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই দামই এক সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর ছিল।

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এসে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম একসঙ্গে লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ল। সোমবার থেকে নতুন নির্ধারিত দামেই দেশের বাজারে এসব জ্বালানি তেল বিক্রি হবে।