শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

পাকুন্দিয়ায় নূরুল ইসলাম হত্যার অভিযোগ, বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
পাকুন্দিয়ায় নূরুল ইসলাম হত্যার অভিযোগ, বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় কৃষক নূরুল ইসলামকে হত্যার অভিযোগে জড়িতদের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁর স্বজনরা। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নূরুল ইসলামের ছেলে মোবারক মিয়া অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে মজিদপুর গ্রামের মান্নান, রেজ উদ্দিন, হাদিছ মিয়া, রাসেল মিয়া ও রশিদ মিয়াসহ কয়েকজনের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে গত ২৩ জুন সকালে মজিদপুর গ্রামে তাঁর বাবা নূরুল ইসলামের পথরোধ করে অভিযুক্তরা মারধর করেন।

মোবারক মিয়া আরও অভিযোগ করেন, এ সময় তিনি তাঁর বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে অভিযুক্তরা তাঁকেও ইট ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত নূরুল ইসলামকে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর নূরুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

পরে এ ঘটনায় পাকুন্দিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মজিদপুর গ্রামের মৃত সাত্তার মিয়ার ছেলে মান্নান (৬০), রেজ উদ্দিন (৫০), হাদিছ মিয়া (৪০), মান্নানের ছেলে রাসেল মিয়া (৩০) এবং মৃত সাত্তার মিয়ার ছেলে রশিদ মিয়া (৬৫)-সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।

সংবাদ সম্মেলনে স্বজনরা অভিযোগ করেন, নূরুল ইসলামকে মারধরের ঘটনায় পরবর্তী সময়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

একই সঙ্গে নূরুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান নিহতের স্বজনরা।

কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা পরিষদের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা পরিষদের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আয়োজন করেছে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ।

শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর সামনে এ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। তাঁর নেতৃত্বে জেলা পরিষদের সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন।

এ সময় খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান বলেন, “ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। জলাশয়, নর্দমা এবং বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানিতে মশা বংশবৃদ্ধি করে। আমাদের নিজ নিজ আঙিনা ও এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে মশার বিস্তার রোধ করতে হবে। জেলা পরিষদ এ বিষয়ে সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে এবং জনসচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মাধ্যমে জেলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জমে থাকা আবর্জনা অপসারণ এবং মশার লার্ভা ধ্বংসের লক্ষ্যে ওষুধ ছিটানো হবে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় জনসাধারণ এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছেন।

ভৈরবে রেললাইনের নাটবল্টু খুলতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা চিহ্নিত চোর

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ অপরাহ্ণ
ভৈরবে রেললাইনের নাটবল্টু খুলতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা চিহ্নিত চোর

ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশনের অদূরে রেললাইনের জয়েন্টের নাটবল্টু খুলে চুরির সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েছেন আশিক মিয়া (৩০) নামে এক চিহ্নিত চোর ও ছিনতাইকারী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে আশিককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তার হেফাজতে থাকা রেললাইনের জয়েন্টের ১৪টি নাটবল্টু উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। আশিক নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানাধীন কার্ডরা গ্রামের মৃত আব্দুল কাশেম মিয়ার ছেলে।

গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, রেললাইনের জয়েন্টের নাট খুলে একজন চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে—স্থানীয়দের কাছ থেকে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ভৈরব রেলওয়ে থানাধীন ২৬ নম্বর মেঘনা ব্রিজের কাছে পৌঁছায়। এ সময় আপলাইনের এপ্রোন লাইনের ওপর ২৩২২৫-২৬২-৬-এর মধ্যবর্তী স্থান থেকে আশিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি বলেন, আশিকের হেফাজতে রাখা রেললাইনের জয়েন্টে লাগানো ১৪টি নাট উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। প্রতিটি নাটের দৈর্ঘ্য ৫ দশমিক ৫ ইঞ্চি এবং ওজন ৯ দশমিক ১ কেজি। প্রতিটি নাটের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬০০ টাকা হিসেবে ১৪টি নাটের মোট মূল্য ৮ হাজার ৪০০ টাকা। এ ঘটনায় আশিক মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ওসি রফিকুল হাসান আরও বলেন, রেললাইনের জয়েন্টের নাট খুলে ফেলা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং নাশকতামূলক কাজ। জয়েন্টের নাট খুলে ফেলা হলে যেকোনো মুহূর্তে প্রাণহানির মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সামান্য কিছু টাকার প্রয়োজনে যারা এ ধরনের নাশকতামূলক কাজ করে, তাদের বিরুদ্ধে শুধু আইনগত ব্যবস্থা নিলেই চলবে না; জনগণকেও সচেতন হতে হবে।

তিনি চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ এবং রেললাইনের জয়েন্টের নাট খুলে ফেলা প্রতিরোধে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।

তাড়াইলে কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে পার্চিং পদ্ধতি

রুহুল আমিন প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
তাড়াইলে কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে পার্চিং পদ্ধতি

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে আমন ধানের ক্ষেতে পোকা দমনে কীটনাশকের পরিবর্তে কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পার্চিং পদ্ধতি। ধানখেতে গাছের ডাল, খুঁটি, বাঁশের কঞ্চি ও ধইঞ্চার ডাল পুঁতে দেওয়া হয়। এসবের ওপর বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসে ফসলের ক্ষতিকারক পোকামাকড় খেয়ে ফেলে। পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় এ প্রাকৃতিক পদ্ধতিই পার্চিং নামে পরিচিত।

শনিবার সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আমন ধানের ক্ষেতে বিঘাপ্রতি পাঁচ থেকে ছয়টি করে ডাল বা কঞ্চি পুঁতে ক্ষতিকারক পোকা দমন করছেন চাষিরা। জমিতে উঁচু স্থানে পাখি বসার সুযোগ তৈরি করে দেওয়াই এ পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য। ডাল বা কঞ্চির ওপর পাখি বসে পোকামাকড় ও পোকার ডিম খেয়ে ফেলায় কীটনাশকের ব্যবহার কমানো সম্ভব হচ্ছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পার্চিং পদ্ধতি পরিবেশবান্ধব ও তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল। এ পদ্ধতিতে কীটনাশকের ব্যবহার ও ফসল উৎপাদন খরচ কমে। একই সঙ্গে বালাইনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা এবং পোকার বংশবিস্তার কমানো যায়। এ ছাড়া পাখির বিষ্ঠা জমিতে জৈব পদার্থ যোগ করে মাটির উর্বরতা বাড়াতে সহায়তা করে।

পার্চিং পদ্ধতিতে বসে পাখিরা বিভিন্ন ক্ষতিকারক পোকা ধরে খায়। এর মধ্যে রয়েছে মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি পোকা, ধানের স্কিপা পোকার মথ, শিষ কাটা লেদা পোকা, সবুজ শুঁড় লেদা পোকা, শুঁড় ঘাসফড়িং, লম্বা শুঁড় ঘাসফড়িং ও উড়চুঙ্গা।

সাধারণত জমিতে সার দেওয়ার পর রোপা-আমনের ফসলি জমিতে বাদামি ঘাসফড়িং বা কারেন্ট পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি ও মাজরাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এতদিন এসব পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকেরা কীটনাশকসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছিলেন। এখন পোকা দমনে প্রাকৃতিক পার্চিং পদ্ধতি কৃষকদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক চাষি হাবিবুর রহমান, ফজলুর রহমান, আল আমিন, সুশান্ত কুমার, মাহফুজুর রহমান, শাহিন আলম ও মাহবুবুর রহমানসহ আরও অনেকে বলেন, এলাকার কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তাদের পরামর্শে তাঁরা জমিতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। ফসলি জমিতে পোঁতা ডালগুলোর ওপর পাখি বসে ক্ষতিকারক পোকা ও পোকার ডিম খেয়ে ফেলে। ফলে কীটনাশকের ব্যবহার কমে যায় এবং কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া যায়।

তাঁরা আরও বলেন, সব ধরনের পাখি পার্চিংয়ে বসে না। মূলত ফিঙে, শালিক, বুলবুলি, শ্যামা, দোয়েল ও সাতভায়রা পাখি পার্চিংয়ে বসে পোকা ধরে খায়। এ কারণে তাঁরা কীটনাশক পরিহার করে পোকা দমনে সহজ ও পরিবেশবান্ধব এ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তাড়াইলে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৮২৩ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ৫৪০ হেক্টর, উফশী ৭ হাজার ২৮০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ৩ হেক্টর। বিপরীতে আবাদ হয়েছে হাইব্রিড ৫০০ হেক্টর, উফশী ৪ হাজার ৯৫০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ৩ হেক্টর। সব মিলিয়ে মোট ৫ হাজার ৪৫৩ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিকাশ রায় বলেন, পার্চিং পদ্ধতি ফসলের পোকা দমনের জন্য অত্যন্ত কম ব্যয়বহুল ও পরিবেশবান্ধব। এ পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন খরচ ও কীটনাশকের ব্যবহার কমে যাওয়ায় এটি উপজেলার কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনেক কৃষক আমন ফসলের ক্ষেতে কীটনাশক পরিহার করে পোকা দমনে সহজ ও লাভজনক পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

তিনি আরও বলেন, একটি ফিঙে পাখি সারা দিনে কমপক্ষে ৩০টি মাজরা পোকার মথ, ডিম ও পুত্তলি খেয়ে থাকে। ফসল রোপণের পরপরই পার্চিং স্থাপন করতে হয়।