আম পাড়ার বিরোধে ভৈরবে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আশঙ্কাজনক ২
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের গ্রামবাসীর মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের বধূনগর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বধূনগর গ্রামের নত্তয়ার বাড়ির কয়েকজন কিশোর প্রায়ই ফর্সার বাড়ির মোখলেস মিয়ার আমগাছে ঢিল মেরে আম পাড়ত। এতে আম নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পাশের ঘরের টিনের চালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সোমবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া বাকবিতণ্ডা মঙ্গলবার সকালে দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে গুরুতর আহত মামুন (৩৫) ও চাঁন মিয়া (৪৫)-কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২০ জনকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং বাকিদের কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ফর্সার বাড়ির বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “নত্তয়ার বাড়ির কয়েকজন ছেলে নিয়মিত আমাদের আমগাছে ঢিল মেরে আম পাড়ে। এতে আমাদের ঘরের টিনের চালা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তাদের অভিভাবকদের জানালেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং তারা উল্টো হামলার চেষ্টা চালায়।”
তিনি আরও বলেন, “সোমবার এ নিয়ে বিরোধের জেরে আমাদের এক স্বজনকে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়। মঙ্গলবার ভোরে প্রতিপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।”
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।










