বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

আম পাড়ার বিরোধে ভৈরবে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আশঙ্কাজনক ২

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৩:৫৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
আম পাড়ার বিরোধে ভৈরবে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আশঙ্কাজনক ২

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের গ্রামবাসীর মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের বধূনগর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বধূনগর গ্রামের নত্তয়ার বাড়ির কয়েকজন কিশোর প্রায়ই ফর্সার বাড়ির মোখলেস মিয়ার আমগাছে ঢিল মেরে আম পাড়ত। এতে আম নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পাশের ঘরের টিনের চালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সোমবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া বাকবিতণ্ডা মঙ্গলবার সকালে দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন।

আহতদের মধ্যে গুরুতর আহত মামুন (৩৫) ও চাঁন মিয়া (৪৫)-কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২০ জনকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং বাকিদের কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ফর্সার বাড়ির বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “নত্তয়ার বাড়ির কয়েকজন ছেলে নিয়মিত আমাদের আমগাছে ঢিল মেরে আম পাড়ে। এতে আমাদের ঘরের টিনের চালা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তাদের অভিভাবকদের জানালেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং তারা উল্টো হামলার চেষ্টা চালায়।”

তিনি আরও বলেন, “সোমবার এ নিয়ে বিরোধের জেরে আমাদের এক স্বজনকে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়। মঙ্গলবার ভোরে প্রতিপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।”

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

হাওরে কৃষকের দুর্দশা দেখতে অষ্টগ্রাম-ইটনা-মিঠামইন পরিদর্শনে ত্রাণ সচিব

আলী রহমান খান প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ণ
হাওরে কৃষকের দুর্দশা দেখতে অষ্টগ্রাম-ইটনা-মিঠামইন পরিদর্শনে ত্রাণ সচিব

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন। তিনি অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকা ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে সচিব হাওরাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং চলমান আবহাওয়া পরিস্থিতি, কৃষি কার্যক্রম ও স্থানীয় জনজীবনের খোঁজখবর নেন। তিনি পানির স্তর, ফসলের বর্তমান অবস্থা এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন উপজেলাকে দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে হলে নির্ধারিত কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

নদী খননের বিষয়ে তিনি জানান, এটি মূলত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিনি সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এসেছেন এবং সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবেন। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সোহেল রানা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

পিডিবি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, বাজিতপুরে মানববন্ধন

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
পিডিবি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, বাজিতপুরে মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর এক নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, গ্রাহক হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে উপজেলার সরারচর বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শিল্প ও আবাসিক গ্রাহক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সরারচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলেম মোহাম্মদ আলম। এ সময় আরও বক্তব্য দেন ব্যবসায়ী ও শিল্প গ্রাহক শাহজাহান কবির, শিল্প গ্রাহক আরিফ খান জয় এবং আবাসিক গ্রাহক শামিম আহমেদ ইয়াসিন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ আলম কমল শিল্প গ্রাহকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগ এনে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। দাবি অনুযায়ী অর্থ প্রদান না করলে অযথা জরিমানা আরোপ এবং মামলার ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। প্রতিবাদ করলে গ্রাহকদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন বক্তারা।

এছাড়া শিল্প প্রিপেইড মিটার সংযোগ ও পুরোনো মিটার পরিবর্তনের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও ওঠে। গ্রাহকদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে মিটার পরিবর্তনের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারীর মাধ্যমে বিভিন্ন অটোরিকশা গ্যারেজে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বক্তারা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বদলি এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

কটিয়াদী পাইলট বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাফি উদ্দিন আর নেই

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
কটিয়াদী পাইলট বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাফি উদ্দিন আর নেই

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পাইলট বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক শাফি উদ্দিন (৯৩) আর নেই। বার্ধক্যজনিত কারণে মঙ্গলবার ভোরে নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী রেখে গেছেন। শিক্ষকতা জীবনে তিনি একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন।

শাফি উদ্দিন ১৯৬১ সালে কটিয়াদী পাইলট বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি একই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দক্ষ নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও ফলাফলে উল্লেখযোগ্য সুনাম অর্জন করে। ২০০২ সালে তিনি শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরপুক্ষিয়া গ্রামে নিজ বাড়িসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

তাঁর মৃত্যুতে কটিয়াদী পাইলট বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।