খড় নিয়ে তুচ্ছ বিরোধে প্রাণ গেল কৃষকের, হোসেনপুরে আটক ৩
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ধানের খড় নিয়ে তুচ্ছ বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে মো. আশু মিয়া (৫০) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। সোমবার (৪ মে) বিকেলে উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের দরিয়াবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ বাবা-ছেলেসহ তিনজনকে আটক করেছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে আশু মিয়া নিজ বাড়ির পাশের রাস্তায় ধানখেতের খড় শুকাতে দেন। এ সময় পাশের বাড়ির চাচাতো ভাই সুরুজ মিয়ার সঙ্গে খড় রাখা নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা দ্রুতই সংঘর্ষে রূপ নেয়।
একপর্যায়ে সুরুজ মিয়া ও তার দুই ছেলে রিয়াদ ও শাকিল ক্ষিপ্ত হয়ে আশু মিয়ার ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে গুরুতর আহত হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার মাথায়ও আঘাত করা হয়।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় আশু মিয়াকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহত আশু মিয়া পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। তুচ্ছ খড় নিয়ে বিরোধের জেরে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছেন না তার পরিবার।
ঘটনার খবর পেয়ে হোসেনপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে সুরুজ মিয়া (৫০), তার ছেলে রিয়াদ (২৬) ও শাকিল (২৪)কে আটক করা হয়।
হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, “ধানের খড় রাখা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করে।”
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর দরিয়াবাদ গ্রামসহ পুরো শাহেদল ইউনিয়নে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আ. রউফ বলেন, “খড় নিয়ে এমন বিরোধ যে হত্যাকাণ্ডে গড়াবে, তা আমরা কল্পনাও করিনি। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”










