কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে ‘মানব সেবায় আমরা’ সংগঠনের উদ্যোগে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা আখতার। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তাড়াইল উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের পর এ ধরনের মানবিক ইফতার আয়োজন এর আগে দেখিনি। এ ধরনের মানবিক কাজে যারা সম্পৃক্ত রয়েছেন, তাদের জন্য শুভকামনা রইল।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ‘মানব সেবায় আমরা’ সংগঠনের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম বাকি, সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন হেকিমসহ এলাকার সচেতন ব্যক্তিবর্গ ও সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা।
পবিত্র রমজান মাসের মাহাত্ম্যকে সামনে রেখে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এই আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা জানান, মানবিক মূল্যবোধ, সচেতনতা ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকাই তাদের মূল লক্ষ্য।
এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দেয়। এ সময় সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন অলিগলিতে ঘুরে ঘুরে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন।
বাংলাদেশে খালখনন কর্মসূচি মূলত ১৯৭৬–৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর উদ্যোগে কৃষি উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচসুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শুরু হয়। ‘জিয়া মডেল’ বা কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণের অংশগ্রহণে প্রায় ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয়েছিল। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়ে।
১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর যশোরের শার্শা উপজেলার উলশী এলাকায় বেতনা নদী পুনঃখননের মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা করা হয়। কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ধারণ, শুষ্ক মৌসুমে সেচসুবিধা নিশ্চিত করা এবং খাদ্য উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন।
এই কর্মসূচি ছিল মূলত স্বেচ্ছাসেবামূলক এবং কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ভিত্তিক উদ্যোগ, যেখানে স্থানীয় জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ ছিল। এর মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল ও নদী খনন বা পুনঃখনন করা হয়, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। পরে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর এ কর্মসূচি ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে দেশব্যাপী নদী–নালা ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে আগামীকাল দিনাজপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সফরকালে তিনি তাঁর নানা-নানির কবর জিয়ারত করবেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় খালখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি। এর মাধ্যমে দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হবে।
জানা গেছে, ঢাকা থেকে রওনা হয়ে তিনি সকাল সাড়ে ১০টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর-এ পৌঁছাবেন। সেখান থেকে সড়কপথে কাহারোল যাবেন। খালখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি দিনাজপুর শহরে যাবেন।
সফরকালে তিনি তাঁর নানা-নানির কবর জিয়ারত করবেন এবং পরে সার্কিট হাউস মাঠে ইফতারে অংশ নেবেন। নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে রাত ৮টায় সৈয়দপুর থেকে বিমানে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে দিনাজপুরজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাঁর আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন। জেলা জুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
এদিকে তাঁর নানা-নানির কবর জিয়ারতের খবর প্রকাশের পর থেকে শেখ ফরিদপুর কবরস্থান-এ সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন কবরস্থানের সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব আলী।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর দিনাজপুর সফর ঘিরে নিরাপত্তায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং প্রায় তিন হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।
দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ ১৫ মার্চ ২০২৬, রবিবার, তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
সরকারের এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জেলা পরিষদসমূহের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন: পঞ্চগড় — মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, দিনাজপুর — মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, রংপুর — মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম — মোঃ সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, গাইবান্ধা — অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, জয়পুরহাট — মোঃ মাসুদ রানা প্রধান, বগুড়া — এ.কে.এম. আহাসানুল তৈয়ব জাকির, চাঁপাইনবাবগঞ্জ — মোঃ হারুনুর রশিদ, নওগাঁ — মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক, রাজশাহী — মোঃ এরশাদ আলী, নাটোর — মোঃ রহিম নেওয়াজ, মেহেরপুর — মোঃ জাভেদ মাসুদ, কুষ্টিয়া — সোহরাব উদ্দিন,ঝিনাইদহ — মোঃ আবুল মজিদ, যশোর — দেলোয়ার হোসেন খান খোকন, মাগুরা — আলী আহমেদ, বাগেরহাট — শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, খুলনা — এস এম মনিরুল হাসান (বাপ্পী), পটুয়াখালী — স্নেহাংশু সরকার, ভোলা — গোলাম নবী আলমগীর, বরিশাল — আকন কুদ্দুসর রহমান, ঝালকাঠি — মোঃ শাহাদাৎ হোসেন, পিরোজপুর — আলমগীর হোসেন, টাঙ্গাইল – এস এম ওবায়দুল হক, শেরপুর — এ.বি.এম. মামুনুর রশিদ, ময়মনসিংহ — সৈয়দ এমরান সালেহ, নেত্রকোনা — মোঃ নূরুজ্জামান (এড.), কিশোরগঞ্জ — খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, মুন্সীগঞ্জ — এ.কে.এম. ইরাদত, নারায়ণগঞ্জ — মোঃ মামুন মাহমুদ, রাজবাড়ী — আব্দুস সালাম মিয়া, গোপালগঞ্জ — শরিফ রফিক উজ্জামান, মাদারীপুর — খোন্দকার মাশুকুর রহমান, শরীয়তপুর — সরদার এ.কে.এম. নাসির উদ্দিন, সুনামগঞ্জ — মোঃ মিজানুর রহমান চৌধুরী, সিলেট — আবুল কাহের চৌধুরী, মৌলভীবাজার — মিজানুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া — সিরাজুল ইসলাম , কুমিল্লা — মোঃ মোশতাক মিয়া, নোয়াখালী — মোঃ হারুনুর রশিদ আজাদ, লক্ষ্মীপুর — সাহাব উদ্দিন এবং কক্সবাজারে এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী।