মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ১৪৩২
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ১৪৩২

ঢাকাসহ দেশের ১৪ জেলা পরিষদে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ঢাকাসহ দেশের ১৪ জেলা পরিষদে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ

দেশের ১৪টি জেলা পরিষদে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর ক্ষমতাবলে এ নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালন করবেন। তারা জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন এবং বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ভাতা প্রাপ্য হবেন।

নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা হলেন—ঢাকায় মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ, গাজীপুরে চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী, ফেনীতে অধ্যাপক এম এ খালেক, ফরিদপুরে মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, নীলফামারীতে মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, লালমনিরহাটে এ কে এম মমিনুল হক, পাবনায় মোহাম্মাদ জহুরুল ইসলাম, নড়াইলে মো. মোস্তাফিজুর রহমান আলেক, বরগুনায় মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা, জামালপুরে মো. সিরাজুল হক, মানিকগঞ্জে জামিলুর রশিদ খান, নরসিংদীতে তোফাজ্জল হোসেন, হবিগঞ্জে আহমেদ আলী এবং চাঁদপুরে এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিদ্যালয়ে হাইব্রিড ক্লাসের সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিদ্যালয়ে হাইব্রিড ক্লাসের সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন ও আংশিক সশরীরে ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং বাকি তিন দিন সশরীরে ক্লাস নেওয়া হবে।

এর আগে একই দিন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী ডা. আ ন ম এহসানুল হক মিলন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান পদ্ধতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন। তিনি জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে স্কুলপর্যায়ে অনলাইন ও সশরীর ক্লাসের সমন্বয়ে পাঠদান চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে দ্রুতই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, “সপ্তাহে ছয় দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে দেশের মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে অনলাইন ক্লাসকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।”

শিক্ষাব্যবস্থার বিদ্যমান কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার বিষয়েও আলোকপাত করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচির দীর্ঘসূত্রতার কারণে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বছরের শেষ নাগাদ পাঠদান ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা শেষ করলেও পাবলিক পরীক্ষাগুলো পরবর্তী বছরের এপ্রিল ও জুন মাসে অনুষ্ঠিত হয়, যা জাতীয় পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এই সমস্যাগুলো নিরসনে শিক্ষা ব্যবস্থায় সময়োপযোগী সংস্কারের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

ফুলপুরে ‘সহজ কার্ড’ প্রতারণা: ডিলারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

জাকির হোসাইন রাজু প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
ফুলপুরে ‘সহজ কার্ড’ প্রতারণা: ডিলারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে ‘সহজ কার্ড’ বিক্রির মাধ্যমে প্রতারণা করায় এক ডিলারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) বালিয়া সুলতানের মোড় এলাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ডিলার মোঃ সারোয়ার (পিতা: মৃত আবুল কালাম) ১০০ টাকার বিনিময়ে স্থানীয়দের কাছে প্রতিটি ‘সহজ কার্ড’ বিক্রি করছিলেন। কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি গ্রাহককে ১,০০০ টাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, বাস্তবে গ্রাহকদের হাতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের পণ্য দেওয়া হতো।

ঘটনাটি জেলা প্রশাসনের নজরে আসার পর ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন। তদন্তে প্রতারণার অভিযোগটি হাতেনাতে প্রমাণিত হয়। এ সময় অভিযুক্ত সারোয়ারকে আটক করা হয়।

ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, “অভিযুক্ত সারোয়ার শেরপুরের রামপুর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সরবরাহ করার দায়ে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া জব্দকৃত অবৈধ পণ্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের রুখতে ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জনমনে স্বস্তির বাতাস ফিরে এসেছে।

মীর জাফরের ৩৪৬ বংশধরের ভোটার নাম বাতিল, নাগরিকত্ব প্রমাণে ট্রাইব্যুনালে দৌড়

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
মীর জাফরের ৩৪৬ বংশধরের ভোটার নাম বাতিল, নাগরিকত্ব প্রমাণে ট্রাইব্যুনালে দৌড়

সংগ্রহীত

একসময় যাদের পূর্বপুরুষদের শাসন বিস্তৃত ছিল বাংলা, বিহার ও ওড়িশাজুড়ে, সময়ের বিবর্তনে আজ তাদেরই লড়তে হচ্ছে নাগরিকত্বের স্বীকৃতির জন্য। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের নবাব বংশের অন্যতম উত্তরসূরি নবাব মীর জাফরের প্রায় ৩৪৬ জন বংশধরের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ফলে নিজেদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করতে এখন ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে রাজবংশের উত্তরসূরিদের।

বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) কার্যক্রম শেষে লালবাগ নব আদর্শ হাই স্কুলের ১২১ নম্বর বুথের ভোটারদের নাম ২০২৫ সাল পর্যন্ত ‘বিচারাধীন’ রাখা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত তালিকায় দেখা যায়, ‘ছোটে নবাব’ নামে পরিচিত ৮২ বছর বয়সী সৈয়দ রেজা আলী মীরজাসহ তার পরিবারের ৯ জন সদস্যের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়াদের মধ্যে বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ ফাহিম মীরজাও রয়েছেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে সৈয়দ রেজা আলী মীরজা বলেন, “শুনানির সময় আমি সব বৈধ নথিপত্র নিয়ে হাজির হয়েছিলাম। কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছিলেন নাম বহাল থাকবে। কিন্তু সম্পূরক তালিকায় দেখলাম আমাদের পুরো পরিবারসহ নবাবী সম্প্রদায়ের শত শত মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।”

লালবাগের ঐতিহাসিক কিল্লা নিজামতের সন্নিকটে বসবাসকারী মীর জাফরের পঞ্চদশ প্রজন্মের এই উত্তরসূরি বলেন, “একসময় আমাদের পূর্বপুরুষরা প্রজাদের বিচার করতেন, আর আজ আমাদেরই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

পরিবারটির দাবি, দেশভাগের সময় তাদের পূর্বপুরুষ ওয়াসিফ আলী মীরজা পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ভারতে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এমনকি স্বাধীনতার পর মুর্শিদাবাদ তিন দিনের জন্য পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হলেও তাদের পরিবারের উদ্যোগেই তা পুনরায় ভারতের অংশ হয় বলে দাবি করা হয়। নাগরিকত্বের বিষয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট থেকেও ইতিবাচক পর্যবেক্ষণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন কাউন্সিলর ফাহিম মীরজা।

আগামী ২৩ এপ্রিল মুর্শিদাবাদে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনালের দীর্ঘসূত্রতার কারণে এবারের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে পরিবারটি।

এ বিষয়ে মুর্শিদাবাদের জেলা প্রশাসক আর. অর্জুন বলেন, নবাব পরিবারের পক্ষ থেকে নাম বাদ দেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের ট্রাইব্যুনালে গিয়ে আইনি প্রতিকার নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হবে।