পরীক্ষাভীতি দূর করা, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে উৎসাহিত করা এবং বৃক্ষরোপণের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার ‘জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’। প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনকারী আড়াইশ শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা। এমন অভিনব পুরস্কার পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রচলিত পুরস্কার ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে পরিবেশবান্ধব ও বাস্তবমুখী চিন্তাধারা থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই আয়োজন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের মলাই ফকির বাজারের আমিন সেন্টার সংলগ্ন জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তন্ময় আলমগীর, উপদেষ্টা আল আমিন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মুজিবুর রহমান মঞ্জু, সহকারী শিক্ষক আলাম নাশরাক নিলি, আব্দুল্লাহ আল সাদী লিয়ন, পান্না আক্তার, রিতা আক্তার, শাহীনা আক্তার ঝুনু, লামিয়া মীম, ইতি আক্তার, কণা আক্তারসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শতাধিক অভিভাবক এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তন্ময় আলমগীর বলেন, “বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই আমরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষের চারা বিতরণ করি। এতে তারা যেমন ভালো ফলাফলের জন্য উৎসাহিত হয়, তেমনি পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কেও সচেতন হয়ে ওঠে। জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ শুধু পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রেই নয়, শিক্ষার মান উন্নয়নেও ব্যতিক্রমী ভূমিকা রাখছে। আমরা শিক্ষার্থীদের আধুনিক, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি।”
বিদ্যালয়ের উপদেষ্টা আল আমিন বলেন, “একজন শিশুর শিখন দক্ষতা গড়ে ওঠে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সমন্বিত প্রচেষ্টায়। জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ সেই কাজটিই আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছে।”
দশম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি কার্যক্রমই অন্যদের থেকে আলাদা। পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি তারা পরিবেশ, নৈতিকতা ও জীবনমুখী বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পায়। পুরস্কার হিসেবে গাছের চারা পাওয়ায় তারা আনন্দিত এবং নিজেদের বাড়িতে চারা রোপণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অভিভাবকরাও বিদ্যালয়ের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, গাছের চারা উপহার শিক্ষার্থীদের শুধু পরিবেশ সচেতনই করবে না, বরং বিদ্যালয়মুখী এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা মনে করেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরনের সৃজনশীল ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।