সৌদিতে সোফা কারখানায় আগুন, নিহত ১২ বাংলাদেশি
সৌদি আরবে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১২ বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১০ জন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের এবং দুজন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রোববার (৯ আগস্ট) সৌদি আরবের ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পর দগ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়। নিহত সবাই ওই কারখানায় কাজ করতেন বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
রোববার দিবাগত রাতে নওগাঁর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আত্রাই উপজেলার ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান প্রাথমিকভাবে সাতজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিলেন।
আত্রাইয়ে নিহত ১০ জন হলেন—উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী গ্রামের কলি (৩০), লুৎফর (৩২), জান্ডার ও রুবেল; বিষা ইউনিয়নের সাধুনগর গ্রামের সাগর ও মাধবপুর গ্রামের মজিদুল; দুবাই গ্রামের শুভ ও সুমন; পাঁচুপুর ইউনিয়নের পারকাসুন্দা গ্রামের মো. জালাল এবং সাহাবুলা ইউনিয়নের উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ শেখ।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের এসব বাসিন্দা সৌদি আরবে গিয়ে ওই সোফা তৈরির কারখানায় কাজ করছিলেন। রোববার কারখানায় আগুন লাগার ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় নিহত দুজন হলেন—খাজুরা ইউনিয়নের শ্রীপুরপাড়া গ্রামের রাব্বানীর ছেলে শুভ এবং দীঘিরপাড় গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন।
নলডাঙ্গা উপজেলার পিপরুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন রাতে ওই দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে তার পরিচয় ও মৃত্যুর বিষয়টি তখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্য যাচাইয়ের জন্য গ্রাম পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৫, ১৭ ও ১৯ জন নিহত হওয়ার তথ্য প্রচার হলেও স্থানীয় প্রশাসন বা দায়িত্বশীল কোনো সূত্র এসব সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। তাই নিশ্চিত হওয়া ১২ জনের মৃত্যুর তথ্যই আপাতত গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরবে প্রবাসীদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নওগাঁর আত্রাই ও নাটোরের নলডাঙ্গায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
নওগাঁ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। নিহতদের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।














Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array