সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

সৌদিতে সোফা কারখানায় আগুন, নিহত ১২ বাংলাদেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সৌদিতে সোফা কারখানায় আগুন, নিহত ১২ বাংলাদেশি

সৌদি আরবে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১২ বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১০ জন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের এবং দুজন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রোববার (৯ আগস্ট) সৌদি আরবের ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পর দগ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়। নিহত সবাই ওই কারখানায় কাজ করতেন বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

রোববার দিবাগত রাতে নওগাঁর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আত্রাই উপজেলার ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান প্রাথমিকভাবে সাতজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিলেন।

আত্রাইয়ে নিহত ১০ জন হলেন—উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী গ্রামের কলি (৩০), লুৎফর (৩২), জান্ডার ও রুবেল; বিষা ইউনিয়নের সাধুনগর গ্রামের সাগর ও মাধবপুর গ্রামের মজিদুল; দুবাই গ্রামের শুভ ও সুমন; পাঁচুপুর ইউনিয়নের পারকাসুন্দা গ্রামের মো. জালাল এবং সাহাবুলা ইউনিয়নের উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ শেখ।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের এসব বাসিন্দা সৌদি আরবে গিয়ে ওই সোফা তৈরির কারখানায় কাজ করছিলেন। রোববার কারখানায় আগুন লাগার ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় নিহত দুজন হলেন—খাজুরা ইউনিয়নের শ্রীপুরপাড়া গ্রামের রাব্বানীর ছেলে শুভ এবং দীঘিরপাড় গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন।

নলডাঙ্গা উপজেলার পিপরুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন রাতে ওই দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে তার পরিচয় ও মৃত্যুর বিষয়টি তখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্য যাচাইয়ের জন্য গ্রাম পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৫, ১৭ ও ১৯ জন নিহত হওয়ার তথ্য প্রচার হলেও স্থানীয় প্রশাসন বা দায়িত্বশীল কোনো সূত্র এসব সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। তাই নিশ্চিত হওয়া ১২ জনের মৃত্যুর তথ্যই আপাতত গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে সৌদি আরবে প্রবাসীদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নওগাঁর আত্রাই ও নাটোরের নলডাঙ্গায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

নওগাঁ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। নিহতদের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

ফল প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা এসএসসি পরীক্ষার্থীর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০০ পূর্বাহ্ণ
ফল প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা এসএসসি পরীক্ষার্থীর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু

মাগুরার মহম্মদপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রদীপ কুমার (১৯) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সজিব কুমার মণ্ডল (১৯) ও সাগর মজুমদার (২০) নামে আরও দুই যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) রাতে উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের খাজুরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত প্রদীপ খাজুরা এলাকার পূর্বাস কুমারের ছেলে। তিনি এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। ফল প্রকাশের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রদীপ, সজিব ও সাগর তিন বন্ধু একটি মোটরসাইকেলে করে নাগড়া বাজারের একটি ফটোকপির দোকানে যাচ্ছিলেন। পথে খাজুরা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাককে সাইড দিতে যান তারা। এ সময় অতিরিক্ত গতির কারণে মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।

এতে তিনজনই সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রদীপ কুমারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সজিব ও সাগরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহত প্রদীপের পরিবার কিছুদিন আগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘরবাড়ি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়। সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রদীপের মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রদীপের বাবা পূর্বাস কুমার বলেন, ‘নিজের রেজাল্টের খবর জানার আগে আমার ছেলেটা চলে গেল। মাত্র কয়েকদিন আগে আমার বাড়িতে আগুন লেগে সব পুড়ে যায়। এত কষ্ট আমি কীভাবে সইব।’

মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীম আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে রোজারিওতে মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ
বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে রোজারিওতে মেসি

বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর পেয়ে কয়েকদিন আগে ছুটিতে থাকা আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি আবারও ফিরেছেন নিজ শহর রোজারিওতে। সেখানেই রোববার (৯ আগস্ট) বাবার শেষকৃত্যে অংশ নেন বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবলার।

৬৮ বছর বয়সে শনিবার মারা যান হোর্হে মেসি। পরদিন রোববার রোজারিওর কাছের পেরেজ শহরের একটি কবরস্থানে ঘনিষ্ঠ স্বজন ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যক্তিগত এ আয়োজনটি কঠোর গোপনীয়তায় সম্পন্ন করা হয়। শেষকৃত্য ঘিরে কবরস্থান ও আশপাশের এলাকায় ছিল কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। তবে প্রিয় তারকাকে একনজর দেখতে এবং হোর্হে মেসির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কবরস্থানের আশপাশে সাংবাদিক, পুলিশ সদস্য ও ভক্তদের উপস্থিতি দেখা যায়।

লিওনেল মেসির জীবন ও ক্যারিয়ারে হোর্হে মেসির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাবা হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন মেসির পাশে ছিলেন। পাশাপাশি মেসির এজেন্ট হিসেবেও বহু বছর দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাবার শেষ বিদায়ে তাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে রোজারিওতে ছুটে আসেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।

এর আগে ইন্টার মায়ামির কাছ থেকে ছুটি নিয়ে শনিবার সকালে ফোর্ট লডারডেল থেকে রওনা হন মেসি। দীর্ঘ যাত্রা শেষে স্থানীয় সময় রাতে নিজের শহর রোজারিওতে পৌঁছান ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে বাবাকে শেষ বিদায় জানান তিনি।

হোর্হে মেসির মৃত্যুতে মেসি পরিবারের ঘনিষ্ঠজন ও ভক্তদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। বাবার সঙ্গে মেসির দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও পেশাগত জীবনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে এই বিদায় বিশেষভাবে আবেগঘন হয়ে ওঠে।

এসএসবি সভার অপেক্ষায় পুলিশের উচ্চপর্যায়ের পদোন্নতি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২০ পূর্বাহ্ণ
এসএসবি সভার অপেক্ষায় পুলিশের উচ্চপর্যায়ের পদোন্নতি

সরকারের বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়মিত পদোন্নতি হলেও বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চপর্যায়ে পদোন্নতির প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) ও উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পর্যায়ে একাধিক পদ শূন্য থাকার পরও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত না হওয়ায় পদোন্নতি দেওয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শেষ হলেও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) সভা আহ্বান না হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া থমকে আছে।

উচ্চপর্যায়ের পদোন্নতি আটকে থাকায় এর প্রভাব পড়ছে নিচের ধাপেও। এতে একদিকে পুলিশের নেতৃত্বের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা ও মনোবল কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, পদোন্নতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কর্মজীবনের বিবরণ, বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর), গোয়েন্দা সংস্থার ভেটিং প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন এসএসবি সভা আহ্বান করে পদোন্নতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অপেক্ষা।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অতিরিক্ত আইজিপি পর্যায়ে পদোন্নতি হলে পরবর্তী ধাপে ডিআইজি পদে শূন্যতা তৈরি হবে। এতে নিচের ধাপের কর্মকর্তাদেরও পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে উচ্চপর্যায়ের একটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পদোন্নতি-জট অনেকটাই কাটতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন কারণে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হওয়া বেশ কিছু কর্মকর্তা বর্তমানে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি পর্যায়ের ১৪১ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হলেও প্রত্যাশিত সংখ্যায় নিয়মিত পদ শূন্য হয়নি।

সূত্রগুলো বলছে, এর অন্যতম কারণ হলো সাবেক সরকারের সময়ে নিয়মিত পদের বাইরে অতিরিক্ত বা সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি করে পদোন্নতি দেওয়ার নজির। বর্তমান সরকার সুপারনিউমারারি পদে পদোন্নতি না দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন নিয়মিত পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক দল কাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, বাংলাদেশ পুলিশের নিয়মিত ডিআইজি পদের সংখ্যা ৮৭। এর মধ্যে বর্তমানে ৮২টি পদে কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন। ফলে পাঁচটি পদ শূন্য রয়েছে। পুলিশের বিসিএস ২০ ব্যাচের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ডিআইজি পদে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন।

অতিরিক্ত আইজিপি পর্যায়ে গ্রেড-২-এর ২০টি এবং গ্রেড-১-এর দুটি—মোট ২২টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত আইজিপি পর্যায়ে পাঁচটি সুপারনিউমারারি পদ রয়েছে। পুলিশের বিসিএস ১৭ ও ১৮ ব্যাচের কয়েকজন কর্মকর্তা এই পর্যায়ে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন।

পুলিশ অধিদপ্তর সম্প্রতি অতিরিক্ত আইজিপি ও ডিআইজি পদে পদোন্নতির জন্য ১৪ কর্মকর্তার একটি তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। তালিকার সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথিপত্রও সংযুক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এখন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে এসএসবি সভা অনুষ্ঠিত হলে পদোন্নতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার মতে, অতিরিক্ত আইজিপি পদে পাঁচজনকে পদোন্নতি দেওয়া হলে সমসংখ্যক ডিআইজি পদ শূন্য হবে। এরপর ডিআইজি পদে পদোন্নতি দেওয়া হলে নিচের ধাপেও পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হবে। অর্থাৎ উচ্চপর্যায়ের পদোন্নতির একটি সিদ্ধান্ত পুরো পদোন্নতি-শৃঙ্খলকে সচল করতে পারে।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, প্রশাসন ক্যাডারে ধারাবাহিকভাবে পদোন্নতি হলেও পুলিশের ক্ষেত্রে একই গতি দেখা যাচ্ছে না।

সম্প্রতি প্রশাসন ক্যাডারের ২৫ ব্যাচের কর্মকর্তাদের যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এর প্রায় এক বছর আগে ২৪ ব্যাচের কর্মকর্তারাও যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। অথচ পুলিশের ২৪ ব্যাচের একটি বড় অংশ এখনও অতিরিক্ত ডিআইজি পদে কর্মরত।

একইভাবে পুলিশের ২৫ ব্যাচের কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতির জন্য বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভাও এখনো আহ্বান করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে পুলিশের ৩০ ব্যাচের অনেক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ সুপার (এসপি) পদে পদোন্নতির যোগ্য হলেও এখনো পদোন্নতি পাননি। বিপরীতে প্রশাসন ক্যাডারের ৩০ ব্যাচের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তা পদ শূন্য না থাকলেও সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে উপসচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভাষ্য, উচ্চপর্যায়ের পদোন্নতি দীর্ঘদিন আটকে থাকায় নিচের ধাপের পদোন্নতিও বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে একই ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে কর্মজীবনে বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি হতাশাও বাড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দিন-রাত কাজ করার পরও যদি বছরের পর বছর পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকতে হয়, তাহলে হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।”

আরেক কর্মকর্তা বলেন, “পদোন্নতি শুধু আর্থিক সুবিধার বিষয় নয়; এটি একজন কর্মকর্তার কর্মপ্রেরণা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতির সঙ্গেও জড়িত।”

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘদিন পদোন্নতি আটকে থাকায় অনেক কর্মকর্তার মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের মনোবল গুরুত্বপূর্ণ। পদোন্নতি অনিশ্চিত হয়ে পড়লে পেশাগত উদ্দীপনায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, জ্যেষ্ঠতা, শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ড এবং সরকারি বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি বলে মনে করেন জনপ্রশাসন বিশ্লেষকেরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী কোনো মন্তব্য করতে চাননি। পুলিশ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এরপরই পুলিশের ডিআইজি ও অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ফলে বর্তমানে পদোন্নতিপ্রত্যাশী পুলিশ কর্মকর্তাদের নজর এসএসবি সভার দিকে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের এই সিদ্ধান্তহীনতার অবসান ঘটিয়ে শূন্য পদে দ্রুত পদোন্নতি দেওয়া গেলে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি নিচের ধাপের পদোন্নতির পথও উন্মুক্ত হবে।

তবে সিদ্ধান্তহীনতা আরও দীর্ঘ হলে উচ্চপর্যায় থেকে মাঠপর্যায়ের নেতৃত্ব পর্যন্ত এর প্রভাব বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41