বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

পাকিস্তানে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের ওপর নতুন বিধিনিষেধ, বাড়ছে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
পাকিস্তানে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের ওপর নতুন বিধিনিষেধ, বাড়ছে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রমে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে পাকিস্তান সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশি সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের—তাঁরা পাকিস্তানের নাগরিক হলেও—ইসলামাবাদ, করাচি ও লাহোরের বাইরে কোথাও সংবাদ সংগ্রহ করতে হলে আগে সরকারের কাছ থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) নিতে হবে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশটির সাংবাদিক সংগঠন, গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা মহলে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, নতুন বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ আরও সীমিত করবে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ফরেন মিডিয়া ফ্যাসিলিটেশন গাইডলাইনস–২০২৬’-এ সরকার বলেছে, এই নীতিমালার উদ্দেশ্য সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা নয়; বরং বিদেশি সাংবাদিকদের পরিচয় যাচাই, তথ্য সংগ্রহে সমন্বয় এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল করা।

তবে নির্দেশিকায় এনওসি পেতে কত সময় লাগবে বা কত দিনের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে প্রয়োজনীয় অনুমতি পেতে বিলম্ব হলে মাঠপর্যায়ের সংবাদ সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সমালোচকদের মতে, এই বিধিনিষেধ বাস্তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আরও সংকুচিত করবে। বর্তমানে বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩তম।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুস্তাফা নওয়াজ খোখর বলেন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করা হলে গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে। কারণ, নিরপেক্ষ তথ্যের জন্য সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল।

দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক ডন-এর সম্পাদক জাফর আব্বাস এই সিদ্ধান্তকে ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, চার দশকের সাংবাদিকতা জীবনে সামরিক শাসনসহ নানা রাজনৈতিক সময় পার করলেও সাংবাদিকদের ওপর এমন কঠোর ভ্রমণ-নিয়ন্ত্রণ আগে দেখেননি।

তাঁর ভাষায়, তিনটি বড় শহরের বাইরে সংবাদ সংগ্রহে সরকারি অনুমতির বাধ্যবাধকতা শুধু সাংবাদিকদের চলাচলের স্বাধীনতাই সীমিত করবে না, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

নতুন নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের ‘আদর্শ, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা অথবা জনশৃঙ্খলার’ বিরুদ্ধে কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের স্বীকৃতি (অ্যাক্রেডিটেশন) বাতিল করা হতে পারে।

তবে আইনজীবীদের একাংশের দাবি, এসব শর্তের ভাষা অত্যন্ত বিস্তৃত ও অস্পষ্ট। তাঁদের মতে, নির্দেশিকাটির বিভিন্ন বিধান স্পষ্ট আইনি ভিত্তির পরিবর্তে নির্বাহী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদল এবং পাকিস্তান ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টস (পিএফইউজে)-এর সভাপতি দেশটির তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন।

বিশেষ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর (পিওকে) ঘিরে। সম্প্রতি সেখানে অবস্থানরত বিদেশি সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে অবিলম্বে এলাকা ত্যাগ করে নতুন করে এনওসির আবেদন করতে বলা হয়েছে।

গত দুই মাস ধরে ওই অঞ্চলে বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। একই সময়ে বিবিসিসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ওই অঞ্চল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরই নতুন নির্দেশনা কার্যকর করা হয় বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

এ ছাড়া কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনকে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ আখ্যা দিয়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে তাদের ওয়েবসাইটে প্রবেশ সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অনুমতিনির্ভর ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং তথ্যপ্রবাহের স্বচ্ছতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

গান-কবিতায় জুলাইয়ের চেতনা, ‘পরিবর্তন যুব সংগঠন’-এর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
গান-কবিতায় জুলাইয়ের চেতনা, ‘পরিবর্তন যুব সংগঠন’-এর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

 

“মুক্তির মন্দির সোপানতলে, কত প্রাণ হলো বলিদান…”—দেশাত্মবোধের এই চিরন্তন আহ্বানের সুর যেন প্রতিধ্বনিত হলো কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মুক্তমঞ্চে। গান, কবিতা, নৃত্য আর স্মৃতিচারণে উদযাপিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক চর্চার বার্তা ছড়িয়ে দিতে কিশোরগঞ্জে ব্যতিক্রমধর্মী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করেছে ‘পরিবর্তন যুব সংগঠন’

বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মুক্তমঞ্চে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, তরুণ-তরুণী, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সুধীজনের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। উদ্বোধক ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, কিশোরগঞ্জের উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম শামীম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের জেলা লাইব্রেরিয়ান আজিজুল হক সুমন এবং পরিবর্তন যুব সংগঠনের উপদেষ্টা ফয়সাল প্রিন্স।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য পরিবেশনা এবং আলোচনা পর্বের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও চেতনাকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের নাম নয়; এটি স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। শহীদদের আত্মত্যাগকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, মানবিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।

অনুষ্ঠানে পরিবেশিত দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে তোলে। শিল্পীদের পরিবেশনায় মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, দেশপ্রেম এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এক সুতোয় গাঁথা হয়ে ওঠে। নৃত্য পরিবেশনাও দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।

আয়োজকরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও শহীদদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার পাশাপাশি তরুণ সমাজের মধ্যে দেশপ্রেম, সামাজিক সম্প্রীতি ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসার ঘটাতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। সংস্কৃতির শক্তিকে সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে সারা দেশের মতো কিশোরগঞ্জেও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। তারই অংশ হিসেবে ‘পরিবর্তন যুব সংগঠন’-এর এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা দিনটির তাৎপর্যকে ভিন্নমাত্রা দিয়েছে।

‘জুলাই কোনো দল বা গোষ্ঠীর নয়, এটি সমগ্র জাতির’- এডভোকেট জালাল

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
‘জুলাই কোনো দল বা গোষ্ঠীর নয়, এটি সমগ্র জাতির’- এডভোকেট জালাল

‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ২০ জন জুলাই যোদ্ধাকে সংবর্ধনা, সম্মাননা স্মারক ও উপহার প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, “জুলাই কোনো দল বা গোষ্ঠীর নয়, এটি সমগ্র জাতির। জুলাই কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের একক সম্পদ নয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনার নাম নয়; এটি গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতীক। এই চেতনাকে ধারণ করেই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।”

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে। সেই আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হবে জাতির অঙ্গীকার।

নির্বাচন প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, “২০১৪ সালে প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে, ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে হয়েছে এবং ২০২৪ সালে ডামি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

দেশের জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন সংকটের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে তেল ও গ্যাস খাতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরে দেশে নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হওয়ায় সংকট আরও প্রকট হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার মালয়েশিয়া, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা ও অনুসন্ধান নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ২০ জন জুলাই যোদ্ধার হাতে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও উপহার তুলে দেওয়া হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন শিক্ষার্থী ও জুলাই যোদ্ধা তাঁদের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা, কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক মো. সাজেদুর রহমান সজল, সিনিয়র সহসভাপতি ডা. জহর লাল সাহা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, মিজানুর রহমান স্বপন, জসিম উদ্দিন মেনু, মো. আতিকুর রহমান আতিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিটু ও শফিকুল ইসলাম ফুলু, পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান খলিল, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মুশফিকুর রহমান ওবায়দুর, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মাসুদ, সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম সেতু, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মো. জিল্লুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তসরিফুল হাসিবসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে সংবর্ধনাপ্রাপ্ত ২০ জন জুলাই যোদ্ধার হাতে সম্মাননা স্মারক ও উপহার তুলে দেন অতিথিরা। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা কামনায় দোয়া করা হয়।

জুলাইয়ের চেতনা ধারণের আহ্বান, পাকুন্দিয়ায় শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
জুলাইয়ের চেতনা ধারণের আহ্বান, পাকুন্দিয়ায় শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা

সংগ্রহীত ছবি

‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা এবং সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মদানকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা জানানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ শারফুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান মাসুদ, বিএনপি নেতা ভিপি কামাল উদ্দিন, মাহমুদুজ্জামান রিপন, পাকুন্দিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি এসএএম মিনহাজ উদ্দিন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শিফাত উল্লাহর বাবা মাওলানা নূরুজ্জামান।

জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষে বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুল আলম ছোটন, যুবদল নেতা রফিকুল ইসলাম পলাশ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাজহারুল হক উজ্জ্বল, যুগ্ম আহ্বায়ক রবিন আহমেদ সম্রাট, ছাত্র সমন্বয়ক আবদুল্লাহ আল সানী, মেহেদী হাসান মনির, রাসেল মিয়া ও রনি আহমেদ।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের ত্যাগ, সাহস ও আদর্শ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করবে। শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান তাঁরা।

অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় অতিথিরা শহীদ পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জুলাই যোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, জনপ্রতিনিধি, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41