বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

পাকিস্তানে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের ওপর নতুন বিধিনিষেধ, বাড়ছে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
পাকিস্তানে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের ওপর নতুন বিধিনিষেধ, বাড়ছে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রমে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে পাকিস্তান সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশি সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের—তাঁরা পাকিস্তানের নাগরিক হলেও—ইসলামাবাদ, করাচি ও লাহোরের বাইরে কোথাও সংবাদ সংগ্রহ করতে হলে আগে সরকারের কাছ থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) নিতে হবে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশটির সাংবাদিক সংগঠন, গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা মহলে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, নতুন বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ আরও সীমিত করবে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ফরেন মিডিয়া ফ্যাসিলিটেশন গাইডলাইনস–২০২৬’-এ সরকার বলেছে, এই নীতিমালার উদ্দেশ্য সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা নয়; বরং বিদেশি সাংবাদিকদের পরিচয় যাচাই, তথ্য সংগ্রহে সমন্বয় এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল করা।

তবে নির্দেশিকায় এনওসি পেতে কত সময় লাগবে বা কত দিনের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে প্রয়োজনীয় অনুমতি পেতে বিলম্ব হলে মাঠপর্যায়ের সংবাদ সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সমালোচকদের মতে, এই বিধিনিষেধ বাস্তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আরও সংকুচিত করবে। বর্তমানে বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩তম।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুস্তাফা নওয়াজ খোখর বলেন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করা হলে গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে। কারণ, নিরপেক্ষ তথ্যের জন্য সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল।

দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক ডন-এর সম্পাদক জাফর আব্বাস এই সিদ্ধান্তকে ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, চার দশকের সাংবাদিকতা জীবনে সামরিক শাসনসহ নানা রাজনৈতিক সময় পার করলেও সাংবাদিকদের ওপর এমন কঠোর ভ্রমণ-নিয়ন্ত্রণ আগে দেখেননি।

তাঁর ভাষায়, তিনটি বড় শহরের বাইরে সংবাদ সংগ্রহে সরকারি অনুমতির বাধ্যবাধকতা শুধু সাংবাদিকদের চলাচলের স্বাধীনতাই সীমিত করবে না, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

নতুন নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের ‘আদর্শ, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা অথবা জনশৃঙ্খলার’ বিরুদ্ধে কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের স্বীকৃতি (অ্যাক্রেডিটেশন) বাতিল করা হতে পারে।

তবে আইনজীবীদের একাংশের দাবি, এসব শর্তের ভাষা অত্যন্ত বিস্তৃত ও অস্পষ্ট। তাঁদের মতে, নির্দেশিকাটির বিভিন্ন বিধান স্পষ্ট আইনি ভিত্তির পরিবর্তে নির্বাহী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদল এবং পাকিস্তান ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টস (পিএফইউজে)-এর সভাপতি দেশটির তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন।

বিশেষ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর (পিওকে) ঘিরে। সম্প্রতি সেখানে অবস্থানরত বিদেশি সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে অবিলম্বে এলাকা ত্যাগ করে নতুন করে এনওসির আবেদন করতে বলা হয়েছে।

গত দুই মাস ধরে ওই অঞ্চলে বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। একই সময়ে বিবিসিসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ওই অঞ্চল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরই নতুন নির্দেশনা কার্যকর করা হয় বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

এ ছাড়া কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনকে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ আখ্যা দিয়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে তাদের ওয়েবসাইটে প্রবেশ সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অনুমতিনির্ভর ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং তথ্যপ্রবাহের স্বচ্ছতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

‘বাংলাদেশে বসবাসকারী সবার পরিচয় বাংলাদেশি, কোনো আদিবাসী গোষ্ঠী নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
‘বাংলাদেশে বসবাসকারী সবার পরিচয় বাংলাদেশি, কোনো আদিবাসী গোষ্ঠী নেই’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সব নাগরিকের একটিই পরিচয়—‘বাংলাদেশি’। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে কোনো ‘আদিবাসী’ গোষ্ঠী নেই।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে চিটাগাং হিল ট্র্যাকটস রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিএইচটিআরএফ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জন্য ‘আদিবাসী’ পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিএইচটিআরএফের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা সকলেই বাংলাদেশের অধিবাসী। সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সমানভাবে সুরক্ষিত।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানায় বসবাসরত সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করেন।”

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ দেশের সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজন সর্বসম্মতিক্রমে সম্মত হয়েছেন যে, বাংলাদেশের ভূখণ্ডের সর্বস্তরের মানুষের পরিচয় হবে বাংলাদেশি। এই জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার মূল ভিত্তি।”

অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ রাষ্ট্র তার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, উপজাতি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা, বিকাশ ও সংরক্ষণে পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তিনি বলেন, “জাতীয় মূলধারার সঙ্গে সমতা আনার লক্ষ্যে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, নারী ও শিশুদের কল্যাণে রাষ্ট্র বিশেষ সুবিধা ও কোটা ব্যবস্থা বজায় রেখেছে, যা সংবিধানেও স্বীকৃত।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বহুভাষী ও বহুজাতিক রাষ্ট্রের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, এসব দেশে শত শত ভাষা প্রচলিত থাকা সত্ত্বেও পৃথক ‘আদিবাসী’ সত্তার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। বরং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে মূলধারায় যুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

২০০৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে গৃহীত ‘ইউনাইটেড নেশনস ডিক্লারেশন অন দ্য রাইটস অব ইনডিজিনাস পিপলস’ (ইউএনডিআরআইপি) প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ শুরু থেকেই এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ওই ভোটাভুটিতে ভোটদানে বিরত ছিল এবং বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী রাষ্ট্রও এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “এই আন্তর্জাতিক ডিক্লারেশন বা আইএলও কনভেনশন ১৬৯ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই প্রযোজ্য নয় এবং বাংলাদেশ এর অংশীদার নয়।”

গোলটেবিল আলোচনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) রাশেদ খান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী, মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক মারুফ কামাল খান এবং মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব প্রমুখ।

সিসি ক্যামেরাই ‘ভিলেন’, ১৮ পরীক্ষার্থীর ফলাফল শূন্য!

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
সিসি ক্যামেরাই ‘ভিলেন’, ১৮ পরীক্ষার্থীর ফলাফল শূন্য!

রংপুরের কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ১৮ জন পরীক্ষার্থী এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। ফলাফল নিয়ে যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কার্যক্রমের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন এর কারণ হিসেবে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সিসি ক্যামেরার উপস্থিতিকে দায়ী করার বক্তব্য নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

শিক্ষকদের দাবি, পরীক্ষার হলে সিসি ক্যামেরা বসানো থাকায় পরীক্ষার্থীরা একধরনের ভীতির মধ্যে ছিল। ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে তারা নাকি স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দিতে পারেনি। ফলে পরীক্ষার্থীদের ফলাফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তবে সিসি ক্যামেরার উপস্থিতির কারণে ১৮ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে—এমন দাবির পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক বা শিক্ষাবিষয়ক প্রমাণ নেই। বরং পরীক্ষার হলে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পরীক্ষার পরিবেশে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম বা নকল প্রতিরোধ করা।

এমন ব্যাখ্যা সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, পরীক্ষার্থীরা যদি শুধু ক্যামেরার উপস্থিতিতেই পরীক্ষায় স্বাভাবিকভাবে অংশ নিতে না পারে, তাহলে তাদের প্রস্তুতি, আত্মবিশ্বাস, নিয়মিত পাঠদান ও একাডেমিক তদারকির অবস্থা কেমন ছিল?

১৮ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনাটি নিঃসন্দেহে বিদ্যালয়টির জন্য উদ্বেগজনক। একটি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী ফেল করার পেছনে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতি, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, পাঠদানের মান, বিদ্যালয়ের একাডেমিক ব্যবস্থাপনা কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সিসি ক্যামেরাকে দায়ী করার ব্যাখ্যাটি তাই অনেকের কাছে হাস্যরসের বিষয় হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে বলছেন, পরীক্ষার্থীদের ফল বিপর্যয়ের ‘ভিলেন’ যদি সত্যিই সিসি ক্যামেরা হয়, তাহলে আগামীবার পরীক্ষা শুরুর আগে ক্যামেরার ‘ভয়’ কাটাতে হয়তো বিশেষ প্রস্তুতিরও প্রয়োজন হবে!

তবে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের বাইরে ১৮ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করাই সবচেয়ে জরুরি। কারণ একটি পরীক্ষার ফলাফল শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতার চিত্র নয়; এটি একই সঙ্গে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান, তদারকি ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির কার্যকারিতারও প্রতিফলন।

৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগে তিন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালু করতে চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগে তিন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালু করতে চুক্তি

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বেসরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইজারা (লিজ) চুক্তি করেছে সরকার। চুক্তির আওতায় মিল তিনটিতে প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। এসব পাটকল চালু হলে কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) সঙ্গে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড ও খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড ইজারা নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। অন্যদিকে, খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড ইজারা নিয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।

চুক্তিতে বিজেএমসির পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার স্বাক্ষর করেন। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষে কোম্পানি সচিব আমিনুর রহমান এবং হ্যামকো গ্রুপের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তির আওতায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মিল তিনটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা হবে। এতে মোট প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদন শুরু হলে তিন প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি মিলগুলোর সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা।

সিরাজগঞ্জের রায়পুরে অবস্থিত জাতীয় জুট মিলস লিমিটেডে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি পুনরায় চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা টার্নওভারের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

খুলনার দিঘলিয়ায় অবস্থিত স্টার জুট মিলস লিমিটেডে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা টার্নওভারের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

অন্যদিকে, খুলনার খালিশপুরে অবস্থিত প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেডে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে কমপক্ষে ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এর সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিজেএমসির উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি ইজারার ভিত্তিতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লিজগ্রহীতাদের কাছে দখল হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি মিলে উৎপাদনও শুরু হয়েছে।

সরকারের এ উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোতে আবার উৎপাদন কার্যক্রম চালুর পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পাটশিল্পে গতি ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাটসচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীসহ বিজেএমসি এবং ইজারা নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41