মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিএনপির
বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির একাধিক নেতা। তাঁদের ভাষ্য, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন।
তবে এ বিষয়ে এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত দলীয় সূত্রের বক্তব্য হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দলীয় চেয়ারম্যান মির্জা ফখরুলের নাম প্রায় নিশ্চিতভাবেই চূড়ান্ত করেছেন। দীর্ঘদিনের বিএনপি মহাসচিবই রাষ্ট্রপতি পদে দলের পছন্দ।’
দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষমতা বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হলেও তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত হননি।
তবে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একজন নেতা দাবি করেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে রোববার নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি। দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
এর আগে বিএনপির সর্বশেষ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষমতা সর্বসম্মতভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয় বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রয়োজন হলে ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ হবে।
তবে একাধিক প্রার্থী না থাকলে সংসদে ভোটের প্রয়োজন হবে না। সে ক্ষেত্রে একক প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হতে পারে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির বাইরে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সহ ১১ দলীয় জোট অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ইতোমধ্যে এই জোট রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ তথ্য জানান।
ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী জোট—দুই পক্ষেরই প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির মহাসচিব পদটি শূন্য হবে। দীর্ঘদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন নেতৃত্ব আসা নিয়ে ইতোমধ্যে দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেন। পরে ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দৃশ্যমান নেতা হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থানের সময় দল পরিচালনায় মির্জা ফখরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দলের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্য ধরে রাখার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখেন।
দলের ভেতরে নতুন মহাসচিব হিসেবে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় রয়েছে।
দলীয় একটি সূত্রের দাবি, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে রুহুল কবির রিজভীকে আপাতত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে অথবা কাউন্সিলের সময় নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত করার আগ পর্যন্ত দলটি একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে বলেও বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে।
গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়। বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এবং বিরোধী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই প্রক্রিয়া এখন প্রকাশ্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিকে এগোচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং একই সঙ্গে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচন—দুই ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array