রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

এসএসবি সভার অপেক্ষায় পুলিশের উচ্চপর্যায়ের পদোন্নতি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
এসএসবি সভার অপেক্ষায় পুলিশের উচ্চপর্যায়ের পদোন্নতি

সরকারের বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়মিত পদোন্নতি হলেও বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চপর্যায়ে পদোন্নতির প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) ও উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পর্যায়ে একাধিক পদ শূন্য থাকার পরও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত না হওয়ায় পদোন্নতি দেওয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শেষ হলেও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) সভা আহ্বান না হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া থমকে আছে।

উচ্চপর্যায়ের পদোন্নতি আটকে থাকায় এর প্রভাব পড়ছে নিচের ধাপেও। এতে একদিকে পুলিশের নেতৃত্বের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা ও মনোবল কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, পদোন্নতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কর্মজীবনের বিবরণ, বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর), গোয়েন্দা সংস্থার ভেটিং প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন এসএসবি সভা আহ্বান করে পদোন্নতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অপেক্ষা।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অতিরিক্ত আইজিপি পর্যায়ে পদোন্নতি হলে পরবর্তী ধাপে ডিআইজি পদে শূন্যতা তৈরি হবে। এতে নিচের ধাপের কর্মকর্তাদেরও পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে উচ্চপর্যায়ের একটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পদোন্নতি-জট অনেকটাই কাটতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন কারণে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হওয়া বেশ কিছু কর্মকর্তা বর্তমানে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি পর্যায়ের ১৪১ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হলেও প্রত্যাশিত সংখ্যায় নিয়মিত পদ শূন্য হয়নি।

সূত্রগুলো বলছে, এর অন্যতম কারণ হলো সাবেক সরকারের সময়ে নিয়মিত পদের বাইরে অতিরিক্ত বা সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি করে পদোন্নতি দেওয়ার নজির। বর্তমান সরকার সুপারনিউমারারি পদে পদোন্নতি না দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন নিয়মিত পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক দল কাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, বাংলাদেশ পুলিশের নিয়মিত ডিআইজি পদের সংখ্যা ৮৭। এর মধ্যে বর্তমানে ৮২টি পদে কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন। ফলে পাঁচটি পদ শূন্য রয়েছে। পুলিশের বিসিএস ২০ ব্যাচের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ডিআইজি পদে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন।

অতিরিক্ত আইজিপি পর্যায়ে গ্রেড-২-এর ২০টি এবং গ্রেড-১-এর দুটি—মোট ২২টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত আইজিপি পর্যায়ে পাঁচটি সুপারনিউমারারি পদ রয়েছে। পুলিশের বিসিএস ১৭ ও ১৮ ব্যাচের কয়েকজন কর্মকর্তা এই পর্যায়ে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন।

পুলিশ অধিদপ্তর সম্প্রতি অতিরিক্ত আইজিপি ও ডিআইজি পদে পদোন্নতির জন্য ১৪ কর্মকর্তার একটি তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। তালিকার সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথিপত্রও সংযুক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এখন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে এসএসবি সভা অনুষ্ঠিত হলে পদোন্নতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার মতে, অতিরিক্ত আইজিপি পদে পাঁচজনকে পদোন্নতি দেওয়া হলে সমসংখ্যক ডিআইজি পদ শূন্য হবে। এরপর ডিআইজি পদে পদোন্নতি দেওয়া হলে নিচের ধাপেও পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হবে। অর্থাৎ উচ্চপর্যায়ের পদোন্নতির একটি সিদ্ধান্ত পুরো পদোন্নতি-শৃঙ্খলকে সচল করতে পারে।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, প্রশাসন ক্যাডারে ধারাবাহিকভাবে পদোন্নতি হলেও পুলিশের ক্ষেত্রে একই গতি দেখা যাচ্ছে না।

সম্প্রতি প্রশাসন ক্যাডারের ২৫ ব্যাচের কর্মকর্তাদের যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এর প্রায় এক বছর আগে ২৪ ব্যাচের কর্মকর্তারাও যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। অথচ পুলিশের ২৪ ব্যাচের একটি বড় অংশ এখনও অতিরিক্ত ডিআইজি পদে কর্মরত।

একইভাবে পুলিশের ২৫ ব্যাচের কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতির জন্য বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভাও এখনো আহ্বান করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে পুলিশের ৩০ ব্যাচের অনেক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ সুপার (এসপি) পদে পদোন্নতির যোগ্য হলেও এখনো পদোন্নতি পাননি। বিপরীতে প্রশাসন ক্যাডারের ৩০ ব্যাচের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তা পদ শূন্য না থাকলেও সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে উপসচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভাষ্য, উচ্চপর্যায়ের পদোন্নতি দীর্ঘদিন আটকে থাকায় নিচের ধাপের পদোন্নতিও বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে একই ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে কর্মজীবনে বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি হতাশাও বাড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দিন-রাত কাজ করার পরও যদি বছরের পর বছর পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকতে হয়, তাহলে হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।”

আরেক কর্মকর্তা বলেন, “পদোন্নতি শুধু আর্থিক সুবিধার বিষয় নয়; এটি একজন কর্মকর্তার কর্মপ্রেরণা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতির সঙ্গেও জড়িত।”

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘদিন পদোন্নতি আটকে থাকায় অনেক কর্মকর্তার মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের মনোবল গুরুত্বপূর্ণ। পদোন্নতি অনিশ্চিত হয়ে পড়লে পেশাগত উদ্দীপনায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, জ্যেষ্ঠতা, শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ড এবং সরকারি বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি বলে মনে করেন জনপ্রশাসন বিশ্লেষকেরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী কোনো মন্তব্য করতে চাননি। পুলিশ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এরপরই পুলিশের ডিআইজি ও অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ফলে বর্তমানে পদোন্নতিপ্রত্যাশী পুলিশ কর্মকর্তাদের নজর এসএসবি সভার দিকে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের এই সিদ্ধান্তহীনতার অবসান ঘটিয়ে শূন্য পদে দ্রুত পদোন্নতি দেওয়া গেলে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি নিচের ধাপের পদোন্নতির পথও উন্মুক্ত হবে।

তবে সিদ্ধান্তহীনতা আরও দীর্ঘ হলে উচ্চপর্যায় থেকে মাঠপর্যায়ের নেতৃত্ব পর্যন্ত এর প্রভাব বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত এবং জুনিয়র বৃত্তি-২০২৬ অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট, পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নাচ, গান ও অভিনয়সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। তাদের মনোজ্ঞ পরিবেশনায় অনুষ্ঠানস্থলে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, মাসুদা ইসলাম, শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম খান, নির্বাহী প্রকৌশলী, কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূইয়া।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ভালো ফলাফল অর্জনকারীদের পাশাপাশি যারা প্রত্যাশিত ফলাফল করতে পারেনি, তাদেরও হতাশ না হয়ে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে। নিয়মিত অধ্যবসায় ও চেষ্টা থাকলে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতা বিকাশে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শুধু ভালো ফলাফল অর্জনই নয়, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করাই শিক্ষার্থীদের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে নিজেদের একজন যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার চর্চার ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শেষ হয়।

কিশোরগঞ্জে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র উদ্বোধন, মিলবে সহজে হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র উদ্বোধন, মিলবে সহজে হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা

ভূমিসেবা সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত এ কেন্দ্র থেকে জনসাধারণ বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভূমিসেবা নিতে পারবেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, স্থানীয় সরকার উপপরিচালক (উপসচিব) জেবুন নাহার শাম্মী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাজমুস সাকিব খান, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) নিলুফা আক্তার রূপা এবং জেলার ১৩টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)।

উদ্বোধন শেষে সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলামকে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। তিনি কেন্দ্রটির মাধ্যমে নাগরিকদের কী ধরনের ভূমিসেবা দেওয়া হবে এবং কীভাবে এসব সেবা পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে সংসদ সদস্যকে অবহিত করেন।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, জেলার নাগরিকদের ভূমিসেবা সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে এ ভূমিসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ। কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে জেলা প্রশাসন।

তিনি জানান, নাগরিকরা সরাসরি জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় ভূমিসেবা নিতে পারবেন। এর মাধ্যমে প্রতিদিন ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়া, নামজারি ও জমাখারিজ, খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি এবং মৌজা ম্যাপ বা নকশা প্রাপ্তির আবেদনসহ বিভিন্ন ধরনের ভূমিসেবা পাওয়া যাবে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত এ কেন্দ্রের মাধ্যমে এক জায়গা থেকেই নাগরিকরা প্রয়োজনীয় ভূমিসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এতে ভূমিসেবা গ্রহণে নাগরিকদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব হবে।

কিশোরগঞ্জে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও হত্যার হুমকি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

রোববার দুপুরে শহরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম চত্বর থেকে এনসিপির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় নির্ধারিত স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

এর আগে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আহনাফ সাঈদ খান, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবীর, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ ইকরাম হোসেন, ফয়সাল প্রিন্সসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মী।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ চাপে রয়েছে।

বক্তারা অবিলম্বে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

সমাবেশ শেষে একই দাবিতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।