মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে রোজারিওতে মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে রোজারিওতে মেসি

বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর পেয়ে কয়েকদিন আগে ছুটিতে থাকা আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি আবারও ফিরেছেন নিজ শহর রোজারিওতে। সেখানেই রোববার (৯ আগস্ট) বাবার শেষকৃত্যে অংশ নেন বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবলার।

৬৮ বছর বয়সে শনিবার মারা যান হোর্হে মেসি। পরদিন রোববার রোজারিওর কাছের পেরেজ শহরের একটি কবরস্থানে ঘনিষ্ঠ স্বজন ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যক্তিগত এ আয়োজনটি কঠোর গোপনীয়তায় সম্পন্ন করা হয়। শেষকৃত্য ঘিরে কবরস্থান ও আশপাশের এলাকায় ছিল কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। তবে প্রিয় তারকাকে একনজর দেখতে এবং হোর্হে মেসির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কবরস্থানের আশপাশে সাংবাদিক, পুলিশ সদস্য ও ভক্তদের উপস্থিতি দেখা যায়।

লিওনেল মেসির জীবন ও ক্যারিয়ারে হোর্হে মেসির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাবা হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন মেসির পাশে ছিলেন। পাশাপাশি মেসির এজেন্ট হিসেবেও বহু বছর দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাবার শেষ বিদায়ে তাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে রোজারিওতে ছুটে আসেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।

এর আগে ইন্টার মায়ামির কাছ থেকে ছুটি নিয়ে শনিবার সকালে ফোর্ট লডারডেল থেকে রওনা হন মেসি। দীর্ঘ যাত্রা শেষে স্থানীয় সময় রাতে নিজের শহর রোজারিওতে পৌঁছান ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে বাবাকে শেষ বিদায় জানান তিনি।

হোর্হে মেসির মৃত্যুতে মেসি পরিবারের ঘনিষ্ঠজন ও ভক্তদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। বাবার সঙ্গে মেসির দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও পেশাগত জীবনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে এই বিদায় বিশেষভাবে আবেগঘন হয়ে ওঠে।

পাঁচজনের পাঁচজনই ফেল, আট শিক্ষক নিয়েও ব্যর্থতার খবরে প্রশ্ন

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
পাঁচজনের পাঁচজনই ফেল, আট শিক্ষক নিয়েও ব্যর্থতার খবরে প্রশ্ন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের কাজিহাটি গ্রামের জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যালয়টির মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচ শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির মানবিক বিভাগ থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী পাঁচ শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়টির শতভাগ পরীক্ষার্থীই ফেল করেছে।

বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক মো. জাকিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে আটজন শিক্ষক রয়েছেন। অন্যদিকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী। শিক্ষকসংখ্যার তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম হলেও একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে না পারায় বিদ্যালয়ের পাঠদান ও একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের কয়েকজনের ভাষ্য, শিক্ষার্থীসংখ্যা কম হলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রতি আলাদাভাবে নজর দেওয়ার সুযোগ বেশি থাকার কথা। সে ক্ষেত্রে পাঁচজন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শ্রেণি কার্যক্রম, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিক্ষার্থী কম থাকলে শিক্ষকদের পক্ষে প্রত্যেকের পড়াশোনার অগ্রগতি আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করা সহজ হয়। কিন্তু এবারের ফলাফল দেখে মনে হচ্ছে, কোথাও না কোথাও ঘাটতি থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ বের করা প্রয়োজন।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, একটি বছরের ফলাফলের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক শিক্ষার মান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। একই সঙ্গে শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার মতো ফলাফল অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতি, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক কার্যক্রম ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা জরুরি।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জাকির বলেন, ‘আমি বাইরে রয়েছি। ফলাফল এখনো জানতে পারিনি।’ তিনি বিদ্যালয়ে আটজন শিক্ষক থাকার কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে।

তবে প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবার পাঠদানের অনুমতি পাওয়ার বিষয়টি এবারের শূন্য পাসের হারের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, কিংবা এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য কী ধরনের একাডেমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল—এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এদিকে বিদ্যালয়টির এমন ফলাফলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি ভিজিট করা হবে। ফলাফল এমন হওয়ায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শোকজ করা হবে।’

শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, পাঠদানের ঘাটতি, পরীক্ষার প্রস্তুতির দুর্বলতা, একাডেমিক তদারকির অভাব কিংবা অন্য কোনো কারণে এমন ফল হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করতে হবে।

বিশেষ করে মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পরও সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের যোগাযোগ ও সমন্বয় কতটা কার্যকর ছিল, সেটিও দেখা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নত করা সম্ভব। নিয়মিত পাঠদান, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস, ধারাবাহিক মূল্যায়ন, মডেল টেস্ট এবং অভিভাবকদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা গেলে এমন ফলাফল এড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এবারের এসএসসি ফলাফল তাই শুধু পাঁচ শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা নয়; একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের পাঠদান, একাডেমিক তদারকি ও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি কতটা কার্যকর ছিল, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের পরিদর্শন ও পরবর্তী তদন্তে এর প্রকৃত কারণ কতটা স্পষ্ট হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

এসএসসিতে কিশোরগঞ্জের সেরা আফতাব উদ্দিন, জিপিএ-৫-এ শীর্ষে উচ্চ বালিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
এসএসসিতে কিশোরগঞ্জের সেরা আফতাব উদ্দিন, জিপিএ-৫-এ শীর্ষে উচ্চ বালিকা

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কিশোরগঞ্জ জেলার সেরা ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে আফতার উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ৩২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩২২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় জেলার সবার ওপরে রয়েছে কিশোরগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ১৪০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পাসের হারে জেলার সেরা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আসমিয়া বারি আদর্শ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৩ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩১ জন।

তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে এসডি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ২৯৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৯০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯২ জন।

চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে সরকারি তমিজা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন।

পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ৩৪১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩২৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৪ জন।

ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা কিশোরগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে ৫৮৫ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৫০৮ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় জেলার সেরা এই প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়টির ১৪০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

সপ্তম অবস্থানে রয়েছে পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ১২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ জন।

অষ্টম অবস্থানে থাকা কটিয়াদী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩৬৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ২৬৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬ জন।

তালিকায় নবম অবস্থানে রয়েছে আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ৩৯১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৭৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৬ জন।

পাসের হারে জেলার সেরা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় দশম স্থানে রয়েছে পাকুন্দিয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ২১৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬০ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ জন।

পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুই সূচকে ভিন্ন চিত্র

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাসের হারে এগিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠান এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় এগিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আফতার উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৯৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ পাসের হার নিয়ে তালিকার শীর্ষে থাকলেও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় শীর্ষস্থান দখল করেছে কিশোরগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়।

কিশোরগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ৫৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫০৮ জন উত্তীর্ণ হলেও ১৪০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। অন্যদিকে ৩২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩২২ জন পাস করা আফতার উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৩ জন।

ফলে জেলার শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের ফলাফলে একদিকে যেমন উচ্চ পাসের হার, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক জিপিএ-৫ অর্জনের চিত্রও উঠে এসেছে।

ফল প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা এসএসসি পরীক্ষার্থীর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০০ পূর্বাহ্ণ
ফল প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা এসএসসি পরীক্ষার্থীর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু

মাগুরার মহম্মদপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রদীপ কুমার (১৯) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সজিব কুমার মণ্ডল (১৯) ও সাগর মজুমদার (২০) নামে আরও দুই যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) রাতে উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের খাজুরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত প্রদীপ খাজুরা এলাকার পূর্বাস কুমারের ছেলে। তিনি এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। ফল প্রকাশের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রদীপ, সজিব ও সাগর তিন বন্ধু একটি মোটরসাইকেলে করে নাগড়া বাজারের একটি ফটোকপির দোকানে যাচ্ছিলেন। পথে খাজুরা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাককে সাইড দিতে যান তারা। এ সময় অতিরিক্ত গতির কারণে মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।

এতে তিনজনই সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রদীপ কুমারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সজিব ও সাগরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহত প্রদীপের পরিবার কিছুদিন আগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘরবাড়ি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়। সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রদীপের মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রদীপের বাবা পূর্বাস কুমার বলেন, ‘নিজের রেজাল্টের খবর জানার আগে আমার ছেলেটা চলে গেল। মাত্র কয়েকদিন আগে আমার বাড়িতে আগুন লেগে সব পুড়ে যায়। এত কষ্ট আমি কীভাবে সইব।’

মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীম আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41