মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

পাঁচজনের পাঁচজনই ফেল, আট শিক্ষক নিয়েও ব্যর্থতার খবরে প্রশ্ন

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
পাঁচজনের পাঁচজনই ফেল, আট শিক্ষক নিয়েও ব্যর্থতার খবরে প্রশ্ন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের কাজিহাটি গ্রামের জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যালয়টির মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচ শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির মানবিক বিভাগ থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী পাঁচ শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়টির শতভাগ পরীক্ষার্থীই ফেল করেছে।

বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক মো. জাকিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে আটজন শিক্ষক রয়েছেন। অন্যদিকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী। শিক্ষকসংখ্যার তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম হলেও একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে না পারায় বিদ্যালয়ের পাঠদান ও একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের কয়েকজনের ভাষ্য, শিক্ষার্থীসংখ্যা কম হলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রতি আলাদাভাবে নজর দেওয়ার সুযোগ বেশি থাকার কথা। সে ক্ষেত্রে পাঁচজন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শ্রেণি কার্যক্রম, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিক্ষার্থী কম থাকলে শিক্ষকদের পক্ষে প্রত্যেকের পড়াশোনার অগ্রগতি আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করা সহজ হয়। কিন্তু এবারের ফলাফল দেখে মনে হচ্ছে, কোথাও না কোথাও ঘাটতি থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ বের করা প্রয়োজন।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, একটি বছরের ফলাফলের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক শিক্ষার মান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। একই সঙ্গে শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার মতো ফলাফল অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতি, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক কার্যক্রম ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা জরুরি।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জাকির বলেন, ‘আমি বাইরে রয়েছি। ফলাফল এখনো জানতে পারিনি।’ তিনি বিদ্যালয়ে আটজন শিক্ষক থাকার কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে।

তবে প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবার পাঠদানের অনুমতি পাওয়ার বিষয়টি এবারের শূন্য পাসের হারের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, কিংবা এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য কী ধরনের একাডেমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল—এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এদিকে বিদ্যালয়টির এমন ফলাফলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি ভিজিট করা হবে। ফলাফল এমন হওয়ায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শোকজ করা হবে।’

শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, পাঠদানের ঘাটতি, পরীক্ষার প্রস্তুতির দুর্বলতা, একাডেমিক তদারকির অভাব কিংবা অন্য কোনো কারণে এমন ফল হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করতে হবে।

বিশেষ করে মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পরও সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের যোগাযোগ ও সমন্বয় কতটা কার্যকর ছিল, সেটিও দেখা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নত করা সম্ভব। নিয়মিত পাঠদান, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস, ধারাবাহিক মূল্যায়ন, মডেল টেস্ট এবং অভিভাবকদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা গেলে এমন ফলাফল এড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এবারের এসএসসি ফলাফল তাই শুধু পাঁচ শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা নয়; একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের পাঠদান, একাডেমিক তদারকি ও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি কতটা কার্যকর ছিল, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের পরিদর্শন ও পরবর্তী তদন্তে এর প্রকৃত কারণ কতটা স্পষ্ট হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

বাংলাদেশে প্রযুক্তি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্থাপনে ভিসাকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে প্রযুক্তি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্থাপনে ভিসাকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাপী আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভিসা। একই সঙ্গে ডিজিটাল আর্থিক সেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল পেমেন্ট ও প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভিসার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন কার্পিনের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে স্টিফেন কার্পিন বাংলাদেশে ভিসার বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আগ্রহের কথা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল আর্থিক সেবা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে কাজ করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

ভিসার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট বলেন, যেসব ব্যাংক হিসাবধারী এখনো কার্ড ব্যবহারের আওতার বাইরে রয়েছেন, তাদের কার্ড ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং দেশে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি বাড়াতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করতে চায় ভিসা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, সহজ ও দ্রুত করার ক্ষেত্রেও ভিসা কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান স্টিফেন কার্পিন।

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেন আরও সহজ করতে মেট্রোরেল, টোল প্লাজা ও এক্সপ্রেসওয়েসহ বিভিন্ন সরকারি ও জনসেবামূলক ব্যবস্থায় ভিসা কার্ড ব্যবহারের সুযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও ক্রিয়েটিভ ইকোনমির বিকাশে অবদান রাখার আগ্রহের কথাও জানান ভিসার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট। বিশেষ করে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় নিরাপদ ও সহজে দেশে আনার জন্য কার্যকর ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ভিসার একটি প্রযুক্তি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার অথবা গ্লোবাল সার্ভিস সেন্টার স্থাপনের জন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিকে আহ্বান জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবা ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণে বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানান। তিনি বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিসার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং ভিসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মা-ছেলের একসঙ্গে এসএসসি, দুজনেরই জিপিএ-৫

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
মা-ছেলের একসঙ্গে এসএসসি, দুজনেরই জিপিএ-৫

সংগ্রহীত ছবি

বিয়ের পর থেমে গিয়েছিল পড়াশোনা। সংসার, সন্তান আর নানা দায়িত্বের ব্যস্ততায় আর হয়ে ওঠেনি লেখাপড়া। তবে মনের ইচ্ছেটা ছিল অটুট। শেষ পর্যন্ত স্বামীর অনুপ্রেরণা ও নিজের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিতে বিয়ের ১৯ বছর পর আবারও পড়াশোনায় ফিরলেন মোসাম্মৎ সাদিয়া বেগম। শুধু পরীক্ষায় অংশ নেওয়াই নয়, ছেলে ও মা একই সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনেই অর্জন করেছেন জিপিএ-৫।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে রাজশাহীর এই মা-ছেলের সাফল্য এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে। ছেলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবং মা সিটি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজশাহী থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। ফল প্রকাশের পর দুজনেরই জিপিএ-৫ পাওয়ার খবরে পরিবারে নেমে আসে আনন্দের বন্যা।

সাদিয়া বেগম জানান, বিয়ের পর সংসারজীবনে প্রবেশ করায় নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এরপর সংসারের দায়িত্ব, সন্তানের দেখাশোনা এবং ছেলের পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত সময় কেটেছে। তবে নিজের পড়াশোনা শেষ করার ইচ্ছা কখনো হারিয়ে যায়নি।

তিনি বলেন, স্বামীর অনুপ্রেরণায় আবার পড়াশোনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। সংসারের কাজের পাশাপাশি ছেলের স্কুল, কোচিং ও পড়াশোনার দেখভাল করেও নিজের পড়াশোনার জন্য সময় বের করেছেন। নানা ব্যস্ততার মধ্যেও নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

সাদিয়া বেগম বলেন, “বিয়ের পর পড়ালেখাটা আর হয়ে ওঠেনি। নিজের ইচ্ছা এবং স্বামীর অনুপ্রেরণায় আবার এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। সংসারের কাজ, ছেলের পড়াশোনা, স্কুল ও কোচিং সামলানোর পাশাপাশি নিজের পড়াশোনাও চালিয়ে গেছি। মা ও ছেলে দুজনেই জিপিএ-৫ পাওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত।”

পরিবারের সদস্যরা জানান, মা ও ছেলের একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া এবং দুজনেরই জিপিএ-৫ পাওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। বিশেষ করে দীর্ঘ ১৯ বছর পর সাদিয়া বেগমের পড়াশোনায় ফিরে এসে এমন ফলাফল অর্জন অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

সাদিয়া বেগমের স্বামী পুলিশের বিশেষ ইউনিটে কর্মরত তোফাজ্জল হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, “আমার স্ত্রী ও ছেলে দুজনের এই সাফল্যে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। বিয়ের পর সংসার ও সন্তান সামলাতে গিয়ে আমার স্ত্রীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তাঁর পড়াশোনা করার ইচ্ছাটা সবসময়ই ছিল। আমি তাঁকে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করতে উৎসাহ দিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “সংসারের কাজ, ছেলের পড়াশোনা ও অন্যান্য দায়িত্ব সামলে সে যে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে, এটা সত্যিই অনেক বড় অর্জন। একই সঙ্গে ছেলে জিপিএ-৫ পাওয়ায় আমাদের আনন্দ আরও দ্বিগুণ হয়েছে। আমি মনে করি, ইচ্ছাশক্তি ও পরিবারের সহযোগিতা থাকলে বয়স বা সংসারের দায়িত্ব কোনো কিছুই শিক্ষার পথে বাধা হতে পারে না। আমার স্ত্রী ও ছেলে দুজনই আমাদের পরিবারের জন্য গর্বের।”

বিয়ের পর দীর্ঘ বিরতি, সংসার ও সন্তান পালনের দায়িত্ব—সবকিছুর পরও নিজের শিক্ষাজীবন নতুন করে শুরু করে এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন সাদিয়া বেগম। তাঁর সঙ্গে একই পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ছেলেরও জিপিএ-৫ অর্জন মা-ছেলের এই সাফল্যকে করেছে আরও বিশেষ। তাঁদের এই অর্জন প্রমাণ করেছে, দৃঢ় ইচ্ছা ও পরিবারের সহযোগিতা থাকলে জীবনের কোনো পর্যায়েই শিক্ষার পথ থেমে থাকতে হয় না।

অসুস্থ এমপির গলায় রামদা ধরে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ, আদালতে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
অসুস্থ এমপির গলায় রামদা ধরে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ, আদালতে মামলা

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে গলায় রামদা ধরে তাঁর বসতবাড়িসহ সম্পত্তি জোরপূর্বক লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংসদ সদস্যের স্ত্রী পারভিন আক্তার বাদী হয়ে তাঁর তিন সৎ ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে দিরাই আদালতে মামলা করেছেন।

সোমবার (১০ আগস্ট) অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিমের আদালতে মামলাটি করা হয়। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার প্রধান আসামিরা হলেন—নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী। অন্য আসামিরা হলেন দিরাই উপজেলার মাতারগাঁওয়ের আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁওয়ের ছয়ফুল চৌধুরী, দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, তাজুল ইসলাম এবং মোহরার মমতাজ বেগম।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নাছির উদ্দিন চৌধুরী অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষম থাকার সুযোগে তাঁর দুই স্ত্রী ও সন্তানদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার পরিকল্পনা করেন আসামিরা। এর অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দুই কর্মচারীকে কর্মকর্তা পরিচয়ে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর অসুস্থ নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে একটি দলিলে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। তিনি এতে অসম্মতি জানালে একপর্যায়ে আসামিরা তাঁর গলায় রামদা ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অপর স্ত্রী শেলী চৌধুরী বাধা দিতে গেলে তাঁকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। একই সময় সংসদ সদস্যের এক সমর্থক ওয়াকিব হাসান সেখানে উপস্থিত হয়ে ঘটনাটি দেখে ফেললে তাঁকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২২ সালের জানুয়ারিতে সংসদ সদস্যের বাড়িতে গেলে তাঁর স্ত্রী পারভিন আক্তারকে মারধর ও শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার বাদী পারভিন আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, নাছির উদ্দিন চৌধুরী স্ট্রোক করার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় থাকাকালে তাঁর গলায় রামদা ধরে বসতবাড়িটি লিখে নেওয়া হয়। সংসদ সদস্য হওয়ার অনেক আগেই তাঁর স্বামী ওই বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

পারভিন আক্তারের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পরে নাছির উদ্দিন চৌধুরী তাঁকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) দিলে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

তবে সম্পত্তি জোর করে লিখে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার প্রধান আসামি ও নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গলায় দা ধরে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মামলার বিষয়টি বিস্তারিত জেনে আমরা আইনিভাবেই এর মোকাবিলা করব।’

দিরাই আদালতের পেশকার মুহিত লাল চন্দ মিঠু মামলার আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সিআইডি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবে। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেবেন বলে জানা গেছে।

নাছির উদ্দিন চৌধুরী দিরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পরিবারের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে সৎ ভাইদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল বলে জানা গেছে। তাঁর অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে সম্পত্তি জোরপূর্বক লিখে নেওয়ার এমন অভিযোগের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে মামলায় করা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন এবং পরবর্তী আদালতের কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা নির্ধারিত হবে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41