বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মা-ছেলের একসঙ্গে এসএসসি, দুজনেরই জিপিএ-৫

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
মা-ছেলের একসঙ্গে এসএসসি, দুজনেরই জিপিএ-৫

সংগ্রহীত ছবি

বিয়ের পর থেমে গিয়েছিল পড়াশোনা। সংসার, সন্তান আর নানা দায়িত্বের ব্যস্ততায় আর হয়ে ওঠেনি লেখাপড়া। তবে মনের ইচ্ছেটা ছিল অটুট। শেষ পর্যন্ত স্বামীর অনুপ্রেরণা ও নিজের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিতে বিয়ের ১৯ বছর পর আবারও পড়াশোনায় ফিরলেন মোসাম্মৎ সাদিয়া বেগম। শুধু পরীক্ষায় অংশ নেওয়াই নয়, ছেলে ও মা একই সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনেই অর্জন করেছেন জিপিএ-৫।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে রাজশাহীর এই মা-ছেলের সাফল্য এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে। ছেলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবং মা সিটি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজশাহী থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। ফল প্রকাশের পর দুজনেরই জিপিএ-৫ পাওয়ার খবরে পরিবারে নেমে আসে আনন্দের বন্যা।

সাদিয়া বেগম জানান, বিয়ের পর সংসারজীবনে প্রবেশ করায় নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এরপর সংসারের দায়িত্ব, সন্তানের দেখাশোনা এবং ছেলের পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত সময় কেটেছে। তবে নিজের পড়াশোনা শেষ করার ইচ্ছা কখনো হারিয়ে যায়নি।

তিনি বলেন, স্বামীর অনুপ্রেরণায় আবার পড়াশোনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। সংসারের কাজের পাশাপাশি ছেলের স্কুল, কোচিং ও পড়াশোনার দেখভাল করেও নিজের পড়াশোনার জন্য সময় বের করেছেন। নানা ব্যস্ততার মধ্যেও নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

সাদিয়া বেগম বলেন, “বিয়ের পর পড়ালেখাটা আর হয়ে ওঠেনি। নিজের ইচ্ছা এবং স্বামীর অনুপ্রেরণায় আবার এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। সংসারের কাজ, ছেলের পড়াশোনা, স্কুল ও কোচিং সামলানোর পাশাপাশি নিজের পড়াশোনাও চালিয়ে গেছি। মা ও ছেলে দুজনেই জিপিএ-৫ পাওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত।”

পরিবারের সদস্যরা জানান, মা ও ছেলের একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া এবং দুজনেরই জিপিএ-৫ পাওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। বিশেষ করে দীর্ঘ ১৯ বছর পর সাদিয়া বেগমের পড়াশোনায় ফিরে এসে এমন ফলাফল অর্জন অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

সাদিয়া বেগমের স্বামী পুলিশের বিশেষ ইউনিটে কর্মরত তোফাজ্জল হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, “আমার স্ত্রী ও ছেলে দুজনের এই সাফল্যে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। বিয়ের পর সংসার ও সন্তান সামলাতে গিয়ে আমার স্ত্রীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তাঁর পড়াশোনা করার ইচ্ছাটা সবসময়ই ছিল। আমি তাঁকে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করতে উৎসাহ দিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “সংসারের কাজ, ছেলের পড়াশোনা ও অন্যান্য দায়িত্ব সামলে সে যে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে, এটা সত্যিই অনেক বড় অর্জন। একই সঙ্গে ছেলে জিপিএ-৫ পাওয়ায় আমাদের আনন্দ আরও দ্বিগুণ হয়েছে। আমি মনে করি, ইচ্ছাশক্তি ও পরিবারের সহযোগিতা থাকলে বয়স বা সংসারের দায়িত্ব কোনো কিছুই শিক্ষার পথে বাধা হতে পারে না। আমার স্ত্রী ও ছেলে দুজনই আমাদের পরিবারের জন্য গর্বের।”

বিয়ের পর দীর্ঘ বিরতি, সংসার ও সন্তান পালনের দায়িত্ব—সবকিছুর পরও নিজের শিক্ষাজীবন নতুন করে শুরু করে এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন সাদিয়া বেগম। তাঁর সঙ্গে একই পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ছেলেরও জিপিএ-৫ অর্জন মা-ছেলের এই সাফল্যকে করেছে আরও বিশেষ। তাঁদের এই অর্জন প্রমাণ করেছে, দৃঢ় ইচ্ছা ও পরিবারের সহযোগিতা থাকলে জীবনের কোনো পর্যায়েই শিক্ষার পথ থেমে থাকতে হয় না।

সগড়ায় ডে-নাইট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
সগড়ায় ডে-নাইট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জে জমে উঠেছিল ‘সগড়া ডে-নাইট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’। বুধবার সগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফাইনালে ‘লিজেন্ড অব সগড়া’ ও ‘কেজি টপ ওয়ান’ দল মুখোমুখি হয়।

সগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ১ নম্বর রশিদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সদর থানা বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক মুর্শিদ উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেল খান। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ফেরদৌস আহম্মেদ নেভিন।

টুর্নামেন্ট পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন মো. আব্দুল আহাদ রঞ্জু মিয়া। ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে সগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এলাকার গণ্যমান্য মুরুব্বিদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক উপস্থিত থেকে ফাইনাল খেলা উপভোগ করেন।

ফাইনাল খেলায় লিজেন্ড অব সগড়া ও কেজি টপ ওয়ান দলের মুখোমুখি লড়াই ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। খেলা শেষে আয়োজকরা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

ভৈরবে পৈত্রিক ভিটায় চলাচলের রাস্তা বন্ধ, দুর্ভোগে ৩ পরিবার

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
ভৈরবে পৈত্রিক ভিটায় চলাচলের রাস্তা বন্ধ, দুর্ভোগে ৩ পরিবার

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চলাচলের রাস্তায় বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে তিনটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এতে গত পাঁচ দিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। বাধ্য হয়ে তাদের অন্য বাড়ির রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সম্প্রতি পৌর শহরের চণ্ডিবের মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগে মাহমুদুল হাসান রনি (৩১), তাহের আলী (৫০), শফিক মিয়া (৪০), নুর মিয়া (৪০), আব্দুর রহিম (৫৫) ও মিজান মিয়া (৩০)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটির মাঝখানের চলাচলের উঠান বা রাস্তাটি টিন ও বাঁশ দিয়ে শক্তভাবে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, বংশপরম্পরায় তিনটি পরিবারের সদস্যরা এই পথটি ব্যবহার করে আসছিলেন। হঠাৎ করে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় তারা ঘরবন্দি হওয়ার উপক্রম হয়েছেন।

ভুক্তভোগী মিন্নাত আলী বলেন, “আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে আমরা ছয় ভাই ও আমাদের সন্তানরা বসবাস করছি। আমাদের ভাইদের মধ্যে এখনো কোনো বাটোয়ারা বা বণ্টননামা দলিল হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান রনিসহ একটি ভূমিদস্যু চক্র আমাদের পরিবারের দুই ভাই তাহের আলী মিয়া ও আরমান মিয়ার কাছ থেকে লিখিত পাওয়ার নিয়ে আমাদের বাড়ির স্থাপনা ও টয়লেট ভেঙে বসতবাড়ি দখল করে নেয়।”

তিনি আরও বলেন, “এরপর তারা আমার তিন ভাইয়ের ঘরের সামনে টিনের বেড়া দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। যার কারণে আমাদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। আমাদের বাকি ভাইদের বাড়ির অংশ বিক্রি না করায় ঘরের সামনেই টিনের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে আমাদের দুর্ভোগে ফেলেছে। আমরা আমাদের নিজ পৈত্রিক ভিটায় স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারছি না। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।”

আরেক ভুক্তভোগী লুৎফর রহমান বলেন, “শফিকুল রহমানসহ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গত পাঁচ দিন ধরে এই বেড়া দিয়ে আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তাদের কিছু বলতে গেলেই তারা ক্ষমতা দেখায় এবং বলে—আমাদের বিচার করার কেউ নেই। যারা জমি কিনেছেন বলে দাবি করছেন, দলিলেও তাদের নাম নেই।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ভূমিদস্যু মাহমুদুল হাসান রনির সঙ্গে যোগসাজশ করে শফিকুল ইসলাম, তাহের মিয়া ও নুরু মিয়ারা এই অপকর্ম চালাচ্ছে। আমরা এর দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার চাই এবং চলাচলের জন্য আমাদের জায়গা উন্মুক্ত চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান রনি বলেন, “আমরা একজন ওয়ারিশ বাদে বাকি সবার কাছ থেকেই জমি কিনেছি। আমরা আমাদের ক্রয়কৃত জমিতেই বেড়া দিয়েছি এবং ভুক্তভোগীদের চলাচলের জন্য বিকল্প জায়গা করে দিয়েছি।”

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, “ইদানীং ভৈরবে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। চলাচলের রাস্তা একটি মৌলিক অধিকার। মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতা যাই থাকুক না কেন, চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। এটি অবশ্যই উন্মুক্ত রাখতে হবে। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

কিশোরগঞ্জে এসআরবি-১৪-এর অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে এসআরবি-১৪-এর অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ পুলিশের এলিট ফোর্স ‘এসআরবি’ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসআরবি-১৪-এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে বিজ্ঞ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

এসআরবি-১৪-এর সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জের একটি আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করে। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সদর থানার মাদক মামলা নম্বর-৩২(১)১৯-এর আসামি মো. রাব্বি মিয়া (২৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার রাব্বি মিয়া কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার মো. ইসলাম উদ্দিনের ছেলে। সদর থানার মাদক মামলায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণি ১০(ক) ধারায় আদালত তাকে দুই বছরের সাজা প্রদান করেন। তিনি আদালতের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন।

এসআরবি-১৪-এর আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করার পর অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।