মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ ১৪৩২
মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ ১৪৩২

ব্রহ্মপুত্রে অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে পাকুন্দিয়ায় মানববন্ধন, প্রশাসনের অবহেলা

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ব্রহ্মপুত্রে অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে পাকুন্দিয়ায় মানববন্ধন, প্রশাসনের অবহেলা

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরকাওনা নয়াপাড়া এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।

গত সোমবার(৩০ মার্চ) দুপুরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নারী-পুরুষ ও স্থানীয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মো. আশরাফুল ইসলাম, মোনায়েম, ফারুক মিয়া, মফিজ মিয়াসহ আরও অনেকে। বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রেজারের মাধ্যমে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এলাকার রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে পড়ছে।

তারা আরও বলেন, প্রতিদিন প্রায় শতাধিক ট্রাক ও ট্রাক্টর চলাচলের কারণে শিশুদের স্কুলে যাতায়াতে চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বক্তারা জানান, এভাবে অব্যাহত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গভীরতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নদী অববাহিকার আশপাশের জমি ধীরে ধীরে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে বুধবার(১ এপ্রিল) আমাদের প্রতিবেদক পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, “বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি তহসিলদারকে ঘটনাস্থলে পাঠাই। পরে তিনি জানান, ঘটনাস্থলটি সম্ভবত পাকুন্দিয়া উপজেলার সীমানার মধ্যে পড়ে না; এটি গফরগাঁও বা হোসেনপুর উপজেলার আওতায় হতে পারে। তাই বিষয়টি আমার এখতিয়ারের বাইরে।”

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ঘটনাস্থল যে উপজেলার আওতাধীনই হোক না কেন, অবৈধ বালু উত্তোলন একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও উদাসীনতা রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তারা দ্রুত আন্তঃপ্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে এ অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনকে গ্রেপ্তার, মিন্টো রোডে জিজ্ঞাসাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ
সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনকে গ্রেপ্তার, মিন্টো রোডে জিজ্ঞাসাবাদ

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী-কে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন সহিংসতার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ সড়কের নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে তাঁকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। তবে ঠিক কোন মামলার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানিয়েছে ডিবি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট রংপুর-এ স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। নিহতের স্ত্রী দিলরুবা আক্তারের করা মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরী ছাড়াও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি-সহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় টিপু মুনশি ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

রাজনৈতিক কর্মজীবনে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি প্রথমবার স্পিকার নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে টানা চারবার এই সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালন করেন।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে তিনি শপথ নেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর মনোনয়নে রংপুর-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন।

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি স্পিকারের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন।

৫ আগস্টের পর থেকে তিনি জনসম্মুখে খুব একটা না আসলেও তাঁর অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ছিল।

কটিয়াদীতে মার্কিন-ইসরাইল আগ্রাসন ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কমিউনিস্ট পার্টির মিছিল

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে মার্কিন-ইসরাইল আগ্রাসন ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কমিউনিস্ট পার্টির মিছিল

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির উদ্যোগে বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার বিকেলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলটির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কথিত গোপন বাণিজ্য চুক্তি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। তারা এ চুক্তি বাতিলসহ সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহতের আহ্বান জানান।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরাইল আগ্রাসন, দখল ও গণহত্যার প্রতিবাদ, জাতীয় সংসদে জাতীয় সংগীতের অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, জ্বালানি তেল, কৃষি উপকরণ ও নিত্যপণ্যের অবাধ সরবরাহ ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, জননিরাপত্তা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।

বিক্ষোভ মিছিলটি কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে পৌর সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা শাখার সভাপতি সেলিম উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা সভাপতি আব্দুর রহমান রুমি, জেলা সম্পাদকীয় কমিটির সদস্য সৈয়দ নজরুল ইসলাম, পাকুন্দিয়া উপজেলা সভাপতি মো. রেনু মিয়া এবং উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মস্তফা কামাল নান্দুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

কুলিয়ারচরে ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল বিক্রি বন্ধে মোবাইল কোর্টের অভিযান

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল বিক্রি বন্ধে মোবাইল কোর্টের অভিযান

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় ফুয়েল কার্ড ছাড়া জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেফতাহুল হাসান। অভিযানে সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার আলী আকবরী এলাকায় অবস্থিত নাহার ফিলিং স্টেশনে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় দেখা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত ফুয়েল কার্ড ছাড়া জ্বালানি তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে।

এ সময় যেসব গ্রাহক ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল নিতে এসেছিলেন, তাদের থামিয়ে সতর্ক করা হয়। প্রথমবার বিবেচনায় মানবিক দিক মাথায় রেখে কোনো জরিমানা না করে সচেতনতামূলক সতর্কবার্তা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেফতাহুল হাসান জানান, জ্বালানি তেল বিক্রয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফুয়েল কার্ড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো যানবাহনে তেল সরবরাহ করা যাবে না।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতে এই নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে, এই অভিযানের ফলে স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।