অন্ধকার থেকে আলোর পথে: কিশোরগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণ
কিশোরগঞ্জ শহরের বত্রিশ মনিপুরঘাট মসজিদসংলগ্ন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ, স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তন এবং দেশীয় অস্ত্র জমাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কয়েকজন নারীসহ একাধিক মাদক ব্যবসায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে অবৈধ কার্যক্রম ছেড়ে নতুন জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন।
রোববার (৩ মে) বিকেল ৫টায় কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জহির আহমেদ, রুজি আক্তার, মো. সুজন, মোহাম্মদ নাদিম, শাহ আলমসহ আরও অনেকে আত্মসমর্পণ করেন। তারা প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা পরিত্যাগের ঘোষণা দেন এবং দেশীয় অস্ত্র জমা দেন।
আত্মসমর্পণকারী রুজি আক্তার বলেন, “আমি ও আমার স্বামী এই ব্যবসা ছেড়ে আলোর পথে ফিরে এসেছি। তবে আমার বড় ভাই এখনো এই কাজে জড়িত। তাকে এই পথ থেকে ফেরাতে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।”
অন্য আত্মসমর্পণকারীরা জানান, দীর্ঘদিন মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তারা মানসিকভাবে অশান্তিতে ভুগতেন। তারা বলেন, “অবৈধ আয়ে অর্থ থাকলেও শান্তি ছিল না। এখন আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে চাই। তবে আমাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো বিবেচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। সঞ্চালনা করেন কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, “মাদক ব্যবসা থেকে ফিরে আসার এই উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে এটি স্থায়ী হতে হবে। কেউ যেন পুনরায় এ পথে না ফেরে। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। পাশাপাশি সমাজে পুনর্বাসনের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।”
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, “কিশোরগঞ্জকে মাদকমুক্ত করা আমাদের অঙ্গীকার। এ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়েও আমরা কাজ করছি।”
এছাড়াও অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) শরীফুল হক, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া, বড়বাজারের ব্যবসায়ী মাসুদুল হাসান, জেলা যুবদল সভাপতি খসরুজ্জামান শরীফ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সুমন এবং ছাত্রদলের নবনির্বাচিত সভাপতি নিশাদ ও সাধারণ সম্পাদক নওশাদসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আত্মসমর্পণের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও অনেককে অনুপ্রাণিত করবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।










