“রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ সহ্য করা হবে না”- পাকুন্দিয়ায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রোগীদের সঙ্গে হাসপাতালের কোনো স্টাফ খারাপ আচরণ করলে দায়ীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে আগত মানুষ যেন সম্মানজনক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পায়, সে বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানান কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নুর-এ আলম খান, উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড, শিশু ও মাতৃসেবা ইউনিট এবং রোগীদের খাবার প্রস্তুতের রান্নাঘর ঘুরে দেখেন। তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
কয়েকজন রোগী হাসপাতালের সার্বিক সেবার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও কেউ কেউ চিকিৎসক সংকট ও বিভিন্ন ভোগান্তির বিষয় তুলে ধরেন। রোগীদের অভিযোগ ও পরামর্শ মনোযোগ দিয়ে শোনেন মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
এ সময় চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের স্টাফদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, “রোগীরা অসহায় অবস্থায় হাসপাতালে আসে। তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা শুধু দায়িত্ব নয়, এটি মানবিক কর্তব্যও। কোনো রোগী যেন অবহেলা বা অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, সরকার তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল সংকট দূর করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ, হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং রোগীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। আমরা রুট লেভেলে বাস্তব পরিস্থিতি দেখতে কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার প্রকৃত চিত্র যাচাই করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে সরকার বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে সারাদেশে বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিশুদের হাম ও রুবেলার টিকা প্রদান করা হয়েছে। যেসব শিশু এখনো টিকার আওতায় আসেনি, তাদের খুঁজে খুঁজে টিকা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও সচেতন ও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা, জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন।













