শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর ঘিরে কটিয়াদীতে প্রস্তুতি, পরিদর্শনে সংসদ সদস্য

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর ঘিরে কটিয়াদীতে প্রস্তুতি, পরিদর্শনে সংসদ সদস্য

আগামী ১৬ আগস্ট জাতীয় মৎস্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য কটিয়াদী সফরকে সামনে রেখে সম্ভাব্য অনুষ্ঠানস্থল, উন্মুক্ত জলাশয় এবং সরকারি মৎস্য হ্যাচারি পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন। এ সময় মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দিনব্যাপী এ পরিদর্শনে অংশ নেন মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) এস. এম. রেজাউল করিম, ঢাকা বিভাগের পরিচালক মো. আহসান হাসিব খান, কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম, কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ, কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কাউসার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, সহসভাপতি মিজানুর রহমান স্বপন ও শফিকুর রহমান বাদল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিটু, শফিকুল ইসলাম ফুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান খলিলসহ উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

পরিদর্শনকালে সম্ভাব্য কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানস্থল হিসেবে কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠ, কটিয়াদী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ এবং আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউটের খেলার মাঠসহ কয়েকটি স্থান ঘুরে দেখা হয়। সম্ভাব্য ভেন্যুগুলোর নিরাপত্তা, জনসমাগমের সক্ষমতা, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং সার্বিক আয়োজনের উপযোগিতা মূল্যায়ন করেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির জন্য সম্ভাব্য উন্মুক্ত জলাশয়ও পরিদর্শন করা হয়। এ সময় কটিয়াদী উপজেলা পরিষদসংলগ্ন পুকুর, করগাঁও ইউনিয়নের হাওরের উন্মুক্ত জলাশয়, মসুয়া ইউনিয়নের বেতাল দিঘি এবং ব্রহ্মপুত্র-আড়িয়াল খাঁ নদীর মোহনাসহ কয়েকটি স্থান ঘুরে দেখা হয়।

একই দিনে পরিদর্শন দল চারিপাড়া সরকারি মৎস্য হ্যাচারিও পরিদর্শন করেন। সেখানে হ্যাচারির পোনা উৎপাদন কার্যক্রম, উৎপাদন সক্ষমতা, অবকাঠামো এবং জাতীয় মৎস্য দিবস উপলক্ষে সম্ভাব্য কর্মসূচি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় মৎস্য দিবসের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি কটিয়াদীতে আয়োজন করা হলে প্রধানমন্ত্রী দিবসটির উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাঁচ হাজার নির্বাচিত মৎস্যচাষীর মধ্যে সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণ এবং উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার কর্মসূচিও থাকতে পারে।

পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, “সম্ভাব্য ভেন্যু ও উন্মুক্ত জলাশয় পরিদর্শন করা হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি দল তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জাতীয় মৎস্য দিবসের কেন্দ্রীয় আয়োজন কটিয়াদীতে অনুষ্ঠিত হলে তা সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে। সম্ভাব্য এই আয়োজন ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।”

মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় মৎস্য দিবসের কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে উদ্বোধন, নির্বাচিত মৎস্যচাষীদের সম্মাননা প্রদান এবং মাছের পোনা অবমুক্তকরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মৎস্য অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। তবে কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান কটিয়াদীতে আয়োজনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি।

কিশোরগঞ্জে ভিপি সোহেলের সুস্থতা কামনায় বিএনপির দোয়া মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে ভিপি সোহেলের সুস্থতা কামনায় বিএনপির দোয়া মাহফিল

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে শুক্রবার (১০ জুলাই) জেলা বিএনপি কার্যালয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের আশু রোগমুক্তি কামনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতি ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তাঁরা তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বলেন, তিনি যেন শিগগিরই সুস্থ হয়ে পুনরায় দলীয় কার্যক্রম ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারেন।

এ সময় সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া, সহসভাপতি লুৎফুর হক টিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল আমিন উজ্জ্বলসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. আসাদুজ্জামান মুকুল। পরে মাওলানা আবু সাইদ জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের আশু রোগমুক্তি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

হোসেনপুরের শহীদ আব্দুল্লাহর পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরের শহীদ আব্দুল্লাহর পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত হোসেনপুর উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত তার ছোট ভাই মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে তিনি ফাতেমা তুজ জোহরাকে উপযুক্ত সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান।

সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। চিকিৎসার অগ্রগতি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা-পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। একই সঙ্গে ফাতেমা তুজ জোহরার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনার ত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। আপনার বড় ছেলে আব্দুল্লাহ দেশের জন্য জীবন দিয়েছে। এখন আপনার ছোট ছেলের চিকিৎসা এবং আপনার পরিবারের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। আপনি একা নন।”

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে আবেগাপ্লুত হয়ে ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, “স্বামী-সন্তান হারিয়ে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। তারেক রহমান স্যার পাশে না দাঁড়ালে আমার ছেলের চিকিৎসা করাতে পারতাম না।”

জানা যায়, জাহিদুল ইসলাম সোহরাব ও ফাতেমা তুজ জোহরা দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করছিলেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের বর্শিকুড়া গ্রামে। দুই ছেলেকে নিয়ে ছিল তাঁদের সংসার। পরিবারের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও দুই সন্তানকে ঢাকায় লেখাপড়া করাচ্ছিলেন তারা।

বড় ছেলে আব্দুল্লাহ বিন জাহিদ ঢাকার শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট আন্দোলন-পরবর্তী একটি বিজয় মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তার মৃত্যু হয়। ৬ আগস্ট সন্ধ্যায় তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়ি বর্শিকুড়া গ্রামে দাফন করা হয়।

আব্দুল্লাহর মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ পর ছোট ভাই মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের শরীরে ক্যান্সার শনাক্ত হয়। এরপর কয়েক মাসের ব্যবধানে মারা যান তাদের বাবা জাহিদুল ইসলাম সোহরাব।

পরপর তিনটি বড় সংকটে পরিবারটি গভীর আর্থিক ও মানসিক দুর্ভোগে পড়ে। ক্যান্সার আক্রান্ত জিসানের চিকিৎসার ব্যয় বহন করাও পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে।

পরিবারের দাবি, সে সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান তাদের পাশে দাঁড়ান। তৎকালীন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক এবং বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের তত্ত্বাবধানে মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের চিকিৎসা শুরু হয়।

পরিবারটির দাবি অনুযায়ী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকাকাল থেকেই তারেক রহমান নিয়মিত জিসানের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করে আসছেন। বর্তমানেও সেই সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ফাতেমা তুজ জোহরার চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দুই দিন পানির নিচে বীজতলা, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে বড় ক্ষতি এড়াল কৃষক

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
দুই দিন পানির নিচে বীজতলা, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে বড় ক্ষতি এড়াল কৃষক

টানা ভারী বৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফাইপুটা বিলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে শতাধিক কৃষকের ধানের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে যায়। পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথে স্থানীয় কয়েকজনের বাধার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভার তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পান কৃষকরা।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ পুমদী গ্রামের বারিক মাস্টারের বাড়ি-সংলগ্ন ফাইপুটা বিলে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বিপুল পরিমাণ পানি জমে যায়। বিলের পানি বের হওয়ার একমাত্র পথটি কয়েকজনের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে হওয়ায় তারা পানি চলাচলে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। ফলে জমে থাকা পানি নামতে না পেরে পুরো এলাকার বীজতলা টানা দুই দিন পানির নিচে ডুবে থাকে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, দক্ষিণ পুমদী এলাকার শতাধিক কৃষকের আমন ধানের রোপণ উপযোগী বীজতলা এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আরও এক দিন পানি জমে থাকলে পুরো বীজতলাই নষ্ট হয়ে যেত। এতে নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে গিয়ে চলতি মৌসুমে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে হতো।

এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানান। অভিযোগ পাওয়ার পরই বৃহস্পতিবার ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পানি নিষ্কাশনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ডেকে সতর্ক করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, জনস্বার্থে পানি নিষ্কাশনে কোনো ধরনের বাধা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউএনওর নির্দেশনার পরপরই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়। এতে দ্রুত বিলের পানি কমতে শুরু করে এবং ডুবে থাকা বীজতলা থেকে পানি নেমে যেতে থাকে। এতে স্বস্তি ফিরে আসে দক্ষিণ পুমদীর শতাধিক কৃষকের মধ্যে।

স্থানীয় কৃষক রাব্বি মিয়া বলেন, “দুই দিন ধরে চোখের পানি ফেলছিলাম। পানি না নামলে সব শেষ হয়ে যেত। ইউএনও স্যার এসে নির্দেশ দেওয়ার পর এখন পানি নামছে। আমরা অনেকটা বাঁচলাম।”

আরেক কৃষক বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। একটি বীজতলা নষ্ট হলে পুরো মৌসুমে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। ইউএনও স্যার সময়মতো না এলে আমরা বড় বিপদে পড়তাম।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “কৃষকের ফসল রক্ষা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। জনস্বার্থের কাজে কেউ বাধা দিলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্যোগের সময় সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।”

তিনি আরও জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নিতে উপজেলা কৃষি অফিস ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হোসেনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মহসিন বলেন, টানা বৃষ্টিতে পুমদী, সিদলা ও জিনারী ইউনিয়নের নিচু এলাকার কিছু ধানের বীজতলা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দক্ষিণ পুমদীর ঘটনায় ইউএনওর দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41