জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ
গ্রামাঞ্চলের উন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গ্রামাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ছাড়া বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গ্রামীণ অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান ও মানুষের আয় বৃদ্ধির ওপর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে শুধু রাস্তাঘাট বা অবকাঠামো নির্মাণ করলেই উন্নয়ন পূর্ণতা পায় না; জনগণের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত হলেই প্রকৃত উন্নয়ন অর্জন সম্ভব।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
এর আগে সকালে রাজধানীর সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (সিরডাপ) মিলনায়তনে সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং দ্বিতীয় বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রাঙ্গণে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার স্টল পরিদর্শন করেন। পরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে মিলনায়তন প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হলেও সরকারের লক্ষ্য একটি দারিদ্র্যমুক্ত, আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বল্প সময়ে কৃষি উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির শক্ত ভিত নির্মাণ করেছিলেন।
তিনি বলেন, অতীতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-কে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো হয়নি। বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিক, দক্ষ ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে গ্রামীণ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য হ্রাসে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের উন্নয়নে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আত্মনির্ভরশীল হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে দুর্নীতিকে দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি দেশের পল্লী উন্নয়নের শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার গ্রামীণ উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ এবং সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিআরডিবির হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আলোচনা সভার শুরুতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক একেএম তারেক।
পরে বিভিন্ন সফল উদ্যোক্তা তাঁদের উদ্যোক্তা জীবনের সংগ্রাম, অভিজ্ঞতা ও সফলতার গল্প তুলে ধরেন। তাঁরা সরকারের সহায়তা এবং নিজস্ব উদ্যোগের মাধ্যমে কীভাবে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন, সে অভিজ্ঞতাও উপস্থিত সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করেন।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও অধিদপ্তরের প্রধান, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সমবায়ী, সুফলভোগী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।








Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array