রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

কটিয়াদীতে ফেসবুকে অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কটিয়াদীতে ফেসবুকে অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও কটিয়াদী পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম ফারুক চাষী এবং পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কথিত মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপপ্রচার প্রত্যাহার এবং নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে কটিয়াদী পৌরসভার দড়ি চরিয়াকোনা কদমতলী এলাকায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সভার আগে দলীয় নেতাকর্মীরা সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল ইসলাম পল্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাজেদুর রহমান সজল সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও কটিয়াদী পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম ফারুক চাষী এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক মো. ইলিয়াস কাঞ্চন ভূঁইয়া শরীফ।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আলমগীর হোসেন, পৌর যুবদল নেতা মো. রাসেল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাগর ইসলাম রিপন, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. উজ্জ্বল মিয়া, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম সবুতি, জয়নাল আবেদিন, দলু মিয়া, রাজিব শিকদার, সাইফুল ইসলাম, জনি মিয়া, এইচ. রনি, হারুন অর রশিদ, তাইজুল ইসলাম ও সজল বর্মনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রতিবাদ সভায় পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গোলাম ফারুক চাষী ও মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য প্রচার করছে। এর মাধ্যমে তাঁদের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তারা বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা, মিথ্যা তথ্য প্রচার কিংবা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপপ্রচারে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

সভায় বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, একটি কথিত মাদকবিরোধী কমিটির ব্যানার ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তাঁদের দাবি, মাদক নির্মূলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যুকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নিরীহ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির অভিযোগও তোলেন তাঁরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আশরাফুল হক দাদন বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছেন। সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে বিএনপি সবসময় আন্তরিক। তবে মাদকবিরোধী আন্দোলনের নামে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করলে তা বরদাশত করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে গঠিত মাদকবিরোধী কমিটিতে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতিই সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো আওয়ামী লীগের দোসর, মাদকসেবী বা মাদক ব্যবসায়ীর ওই কমিটিতে স্থান হবে না। প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হলে বিএনপি তা মেনে নেবে না।

সভা শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীরা অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সামাজিক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।

কিশোরগঞ্জে ৬ কেজি গাঁজাসহ ময়মনসিংহের যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে ৬ কেজি গাঁজাসহ ময়মনসিংহের যুবক গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ মো. সবুজ (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানাধীন বিন্নাটি বাজার এলাকায় ঈসাখাঁ ট্রান্সপোর্ট অফিসের পশ্চিম পাশে সড়ক থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, কিশোরগঞ্জের ‘ক’ সার্কেলের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার মো. সবুজ ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার আকুয়া (মড়লপাড়া) এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মো. আসলাম এবং মায়ের নাম নূরজাহান।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক মো. ওবায়দুল্লাহ খান বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনায়েত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কুলিয়ারচরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা অভিযান

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করেছে পৌরসভা। ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করার পাশাপাশি বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দেশব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬-এর অংশ হিসেবে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির আওতায় শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক সাফফাত আরা সাঈদ। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওয়াসিম, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পীযুষ কান্তি ঘোষ এবং পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ জন্য প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বাড়ির আঙিনা, ছাদ ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

তাঁরা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগও জরুরি। বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সবাই সচেতন হলে মশার প্রজননস্থল কমানো এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকি হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

কুলিয়ারচরকে পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুর ঝুঁকিমুক্ত রাখতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে কিশোরগঞ্জে তরুণদের সংলাপ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে কিশোরগঞ্জে তরুণদের সংলাপ

জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈষম্যমূলক সামাজিক প্রথার পরিবর্তনে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা জোরদার করার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং কমিউনিটির সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কিশোরগঞ্জের শেরাটন হোটেলের হলরুমে ‘যতক্ষণ না আমরা সবাই সমান’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ সভার আয়োজন করা হয়। ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সক্ষমতা বৃদ্ধিবিষয়ক এ আয়োজন করে যুব সংগঠন ‘তারুণ্যের আহ্বান’।

সভায় জেন্ডার স্টেরিওটাইপ বা নারী-পুরুষের ভূমিকা নিয়ে প্রচলিত গৎবাঁধা ধারণা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, গণমাধ্যম সম্পর্কে সচেতনতা এবং অ্যাডভোকেসির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, সমাজে নারী ও পুরুষের ভূমিকা নিয়ে প্রচলিত একপেশে ধারণা জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠার অন্যতম অন্তরায়। এসব ধারণা পরিবর্তনে পরিবার থেকেই ইতিবাচক চর্চা শুরু করতে হবে।

আলোচনায় উঠে আসে, ঘরের কাজ শুধু নারীদের দায়িত্ব, ছেলেরা রান্না করতে পারে না, নারীরা নেতৃত্বে দুর্বল কিংবা ছেলেদের আবেগ প্রকাশ করা উচিত নয়—এমন ধারণা সমাজে বৈষম্যকে টিকিয়ে রাখে। পাশাপাশি নারীর স্বাধীন মতপ্রকাশ, শিক্ষা, বিজ্ঞানচর্চা ও নেতৃত্ব বিকাশের পথে বিদ্যমান সামাজিক বাধা এবং বিয়ের ক্ষেত্রে যৌতুক ও অতিরিক্ত উপহারের চাপ নিয়েও আলোচনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, ছেলে ও মেয়েশিশুর প্রতি সমান আচরণ, পারিবারিক দায়িত্ব ভাগাভাগি, নারীর নেতৃত্ব বিকাশ এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের অনুকূল পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে বৈষম্য কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের মতো ক্ষতিকর সামাজিক প্রথা প্রতিরোধে প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও কমিউনিটির সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়ে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার, অনলাইন হয়রানি মোকাবিলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের দক্ষতা তরুণদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা শনাক্ত করতে গণমাধ্যম সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

আলোচনায় স্থানীয় পর্যায়ে জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং বৈষম্যমূলক সামাজিক রীতিনীতি চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যৌক্তিক দাবি তুলে ধরার কৌশল নিয়েও মতবিনিময় হয়। বক্তারা বলেন, অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে তরুণদের মতামত ও দাবি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সরকারি সহযোগিতার সুযোগ সম্পর্কে তরুণদের অবহিত করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম শামীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আল আমিন ভূঞা এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তফা গিয়াস উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘তারুণ্যের আহ্বান’-এর সভাপতি সুমন আচার্য্য।

এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার তরুণ উদ্যোক্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও কমিউনিটি প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. রফিকুল ইসলাম শামীম বলেন, “জেন্ডার বৈষম্য দূর করার কাজ পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে। শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা দিয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে বৈষম্যবিরোধী উদ্যোগ কার্যকর করতে যুবসমাজ, প্রশাসন, নাগরিক সমাজ ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। শুধু সচেতনতা সৃষ্টি নয়, বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সেগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও প্রয়োজন।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আলোচনা তরুণদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নেতৃত্বের বিকাশে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও যুবসমাজের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করে বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের পথ আরও সুগম করবে।