বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

কটিয়াদীতে ফেসবুকে অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কটিয়াদীতে ফেসবুকে অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও কটিয়াদী পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম ফারুক চাষী এবং পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কথিত মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপপ্রচার প্রত্যাহার এবং নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে কটিয়াদী পৌরসভার দড়ি চরিয়াকোনা কদমতলী এলাকায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সভার আগে দলীয় নেতাকর্মীরা সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল ইসলাম পল্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাজেদুর রহমান সজল সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও কটিয়াদী পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম ফারুক চাষী এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক মো. ইলিয়াস কাঞ্চন ভূঁইয়া শরীফ।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আলমগীর হোসেন, পৌর যুবদল নেতা মো. রাসেল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাগর ইসলাম রিপন, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. উজ্জ্বল মিয়া, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম সবুতি, জয়নাল আবেদিন, দলু মিয়া, রাজিব শিকদার, সাইফুল ইসলাম, জনি মিয়া, এইচ. রনি, হারুন অর রশিদ, তাইজুল ইসলাম ও সজল বর্মনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রতিবাদ সভায় পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গোলাম ফারুক চাষী ও মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য প্রচার করছে। এর মাধ্যমে তাঁদের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তারা বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা, মিথ্যা তথ্য প্রচার কিংবা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপপ্রচারে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

সভায় বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, একটি কথিত মাদকবিরোধী কমিটির ব্যানার ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তাঁদের দাবি, মাদক নির্মূলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যুকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নিরীহ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির অভিযোগও তোলেন তাঁরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আশরাফুল হক দাদন বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছেন। সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে বিএনপি সবসময় আন্তরিক। তবে মাদকবিরোধী আন্দোলনের নামে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করলে তা বরদাশত করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে গঠিত মাদকবিরোধী কমিটিতে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতিই সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো আওয়ামী লীগের দোসর, মাদকসেবী বা মাদক ব্যবসায়ীর ওই কমিটিতে স্থান হবে না। প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হলে বিএনপি তা মেনে নেবে না।

সভা শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীরা অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সামাজিক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।

প্রথম আঘাত ইংল্যান্ডের, শেষ হাসি আর্জেন্টিনার

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ
প্রথম আঘাত ইংল্যান্ডের, শেষ হাসি আর্জেন্টিনার

প্রথমে গোল হজম, এরপর একচেটিয়া আধিপত্য। পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ৫৫ মিনিটে অ্যান্টনি গর্ডনের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের গোলে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করেন লিওনেল মেসিরা।

সেমিফাইনালের প্রথম এক ঘণ্টা পর্যন্ত ম্যাচে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। তবে সেই গোল যেন উল্টো আর্জেন্টিনাকে আরও ক্ষুধার্ত করে তোলে। গোল হজমের পর থেকেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়ে ইংল্যান্ডকে নিজেদের অর্ধেই আটকে রাখে। কার্যত হাফলাইন পেরিয়ে আক্রমণে ওঠার সুযোগই পায়নি ‘থ্রি লায়ন্স’।

৮৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরান মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। সমতায় ফিরেই আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় আর্জেন্টিনা।

নির্ধারিত সময়ের দুই মিনিট আগে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্টিনেজ। সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ফাইনালের টিকিট কাটে আলবিসেলেস্তেরা।

আগামী রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায় শিরোপার লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল রুদ্ধশ্বাস ও শারীরিক লড়াইয়ে ভরপুর। শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

  • প্রথম ১০ মিনিটেই হয় ৭টি ফাউল, যার মধ্যে ৪টিই করে আর্জেন্টিনা।
  • প্রথমার্ধ শেষে মোট ১৯টি ফাউল নথিভুক্ত হয়। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা ১২টি এবং ইংল্যান্ড ৭টি ফাউল করে।
  • মাঝেমধ্যেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
  • প্রথমার্ধে উভয় দলই দুটি করে শট নেয়। ইংল্যান্ডের একটি শট লক্ষ্যভেদী ছিল।

প্রথমার্ধ থেকেই আর্জেন্টিনার আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তাঁর নিখুঁত পাস, বল নিয়ন্ত্রণ ও টার্ন ইংল্যান্ডের রক্ষণকে বারবার চাপে ফেলে। দ্বিতীয়ার্ধে সেই চাপ আরও বাড়িয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা।

গোল হজমের পর যেভাবে পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে ইংল্যান্ডকে রক্ষণাত্মক খেলতে বাধ্য করেছে, তা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মানসিক দৃঢ়তা ও আক্রমণাত্মক ফুটবলেরই প্রমাণ। শেষ পর্যন্ত এনজো ও লাউতারোর দুই গোলেই স্বপ্নের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে মেসির দল।

মিঠামইনে গাছকাণ্ডে পদ স্থগিত সেই বিএনপি সভাপতি সন্ত্রাসী হামলায় নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
মিঠামইনে গাছকাণ্ডে পদ স্থগিত সেই বিএনপি সভাপতি সন্ত্রাসী হামলায় নিহত

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির পদ স্থগিত সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকার নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি নিহত হন। হামলায় তার সঙ্গে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াও গুরুতর আহত হয়েছেন।

মিঠামইন উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. আব্দুল আওয়াল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে মিঠামইন বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় অজ্ঞাতপরিচয় তিন থেকে চারজন। হামলাকারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হাদিস মিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারীতে কামালপুর বেড়িবাঁধের মেহগনি গাছ কাটার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। ওই মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হন এবং পরে জামিনে মুক্তি পান। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্রীয় বিএনপি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করে।

হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ। ব্যক্তিগত বিরোধ, রাজনৈতিক কারণ বা অন্য কোনো বিষয় এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করার তথ্য পাওয়া যায়নি।

কটিয়াদীতে পঁচা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে পঁচা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পঁচা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে এক মাংস ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে দোকান থেকে জব্দ করা প্রায় দুই বস্তা পঁচা গরুর মাংস জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনী আক্তার তারানার নেতৃত্বে উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি দোকানে নিম্নমানের ও পঁচা গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। অভিযানের সময় দোকানে সংরক্ষিত মাংস পরীক্ষা করে তা পচনশীল এবং মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

এ সময় বাসস্ট্যান্ড এলাকার মাংস ব্যবসায়ী শারফিন কসাইয়ের দোকান থেকে প্রায় দুই বস্তা পঁচা গরুর মাংস জব্দ করা হয়। পরে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে জব্দ করা মাংস জনস্বার্থে মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়, যাতে তা কোনোভাবেই বাজারে ফিরে যেতে না পারে।

অভিযান শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষকে অস্বাস্থ্যকর, ভেজাল বা সন্দেহজনক খাদ্য বিক্রির তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়।

অভিযানের সময় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ওই দোকানের মাংসের মান নিয়ে নানা অভিযোগ ছিল। অনেক ক্রেতা মাংস থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার অভিযোগ করলেও এতদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের অভিযানে পঁচা মাংস জব্দ ও ধ্বংস করায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনী আক্তার তারানা বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পঁচা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধার করা মাংস ধ্বংস করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতারণা বরদাশত করা হবে না। ভেজাল, নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য বিক্রির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে। কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41