নিকলীতে কৃষি উপসহকারীর আচরণে বিতর্ক, তথ্য সংগ্রহে বাধার অভিযোগ
সাংবাদিকের উপরে মারমুখী কৃষি উপ-সহকারী
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিকের সঙ্গে কৃষি বিভাগের এক উপসহকারীর বাক্বিতণ্ডা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস প্রাঙ্গণে স্থানীয়দের মাঝে ফলজ ও বনজ গাছের চারা এবং খুঁটি বিতরণকালে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগকারী নিকলী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক আমাদের সময়-এর নিকলী প্রতিনিধি শেখ উবাইদুল হক জানান, চারা বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, এমন একটি সরকারি কর্মসূচির বিষয়ে আগে থেকে প্রচার-প্রচারণা করা হলে আরও বেশি মানুষ উপকৃত হতেন।
তার দাবি, এ কথা বলার পরই কৃষি উপসহকারী শফিকুল ইসলাম মামুন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও অভিযোগ করেন সাংবাদিক উবাইদুল হক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় উপস্থিত লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
ঘটনার সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুস সামাদ কিছুটা দূরে অবস্থান করছিলেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
সাংবাদিক উবাইদুল হকের অভিযোগ, তিনি বিষয়টি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করলে সংশ্লিষ্ট উপসহকারীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের তথ্য দিতে বাধ্য নন- এমন মন্তব্য করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কৃষি উপসহকারী শফিকুল ইসলাম মামুনের বিরুদ্ধে অতীতেও কৃষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিক শেখ উবাইদুল হক বলেন, শফিকুল ইসলাম মামুন দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রীসহ একই উপজেলায় একই বিভাগে কর্মরত থাকায় বিভিন্ন প্রকল্প ও কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। অতীতে তাঁর আচরণ নিয়ে অভিযোগ তোলার কারণেই নিজের প্রতি বিরূপ মনোভাব থেকে এ ধরনের আচরণ করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুস সামাদ বলেন, “ঘটনার সময় আমি কিছুটা দূরে ছিলাম। বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপসহকারী এবং সাংবাদিক- দুজনকেই শান্ত করার চেষ্টা করেছি। মঙ্গলবার উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
সাংবাদিকদের তথ্য দিতে বাধ্য নন- এমন বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি এ ধরনের কোনো মন্তব্য করিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা কঠোরভাবে কথা বলেছি। পরিস্থিতির কারণে হয়তো কেউ ভুল বুঝতে পারেন।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কৃষি উপসহকারী শফিকুল ইসলাম মামুনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array