সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জের সতালে দেড়শ বছরের মহাশ্মশানের মঠ দখলের অভিযোগে ক্ষোভ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জের সতালে দেড়শ বছরের মহাশ্মশানের মঠ দখলের অভিযোগে ক্ষোভ

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সতাল মহাশ্মশান ঘাট। প্রায় দেড়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে এটি এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শেষকৃত্যের অন্যতম প্রধান স্থান এবং ধর্মীয় অনুভূতি, ঐতিহ্য ও ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। তবে এই ঐতিহাসিক মহাশ্মশানের মঠ ও জমি দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্মশানের প্রায় দুই শতাংশ জমি দখল করে সীমানা পরিবর্তন করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক মঠটি বর্তমানে শ্মশানের সীমানার বাইরে চলে গেছে। বিষয়টি স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১৫০ বছর আগে শ্মশানের নিজস্ব জমির ওপর মঠটি নির্মিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এটি শুধু ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবেই নয়, বরং এলাকার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পূর্বপুরুষদের স্মৃতিবিজড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।

অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি শ্মশানের সীমানা পরিবর্তন করে মঠসংলগ্ন প্রায় দুই শতাংশ জমি নিজের দখলে নিয়েছেন। এর ফলে মঠটি বর্তমান সীমানার বাইরে চলে গেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

সতাল মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি বাপ্পি দত্ত বলেন, “আমাদের জন্মের পর থেকেই এই মঠ ও এর চারপাশের জায়গা শ্মশানের সম্পত্তি হিসেবে দেখে আসছি। এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতিবিজড়িত একটি পবিত্র স্থান। কিন্তু কিছুদিন আগে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মঠটিকে বাউন্ডারির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং শ্মশানের প্রায় দুই শতাংশ জমি দখল করা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, শ্মশানের জায়গা দখলমুক্ত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া না হলে ভবিষ্যতে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক জহিরুল ইসলাম সেলিম বলেন, “এই শ্মশান ও মঠ প্রায় দেড়শ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। মানবিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দখলকৃত জায়গা শ্মশান কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শ্মশানের পবিত্রতা, ধর্মীয় মর্যাদা এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, প্রয়োজনে অবৈধ দখলমুক্তকরণ এবং শ্মশানের সম্পত্তি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

এ বিষয়ে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে প্রকাশ করা হবে।

এদিকে, একটি প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা ও শ্মশানের জমি দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং ঐতিহাসিক এই ধর্মীয় স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

কটিয়াদীতে ফেসবুকে অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে ফেসবুকে অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও কটিয়াদী পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম ফারুক চাষী এবং পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কথিত মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপপ্রচার প্রত্যাহার এবং নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে কটিয়াদী পৌরসভার দড়ি চরিয়াকোনা কদমতলী এলাকায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সভার আগে দলীয় নেতাকর্মীরা সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল ইসলাম পল্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাজেদুর রহমান সজল সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও কটিয়াদী পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম ফারুক চাষী এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক মো. ইলিয়াস কাঞ্চন ভূঁইয়া শরীফ।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আলমগীর হোসেন, পৌর যুবদল নেতা মো. রাসেল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাগর ইসলাম রিপন, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. উজ্জ্বল মিয়া, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম সবুতি, জয়নাল আবেদিন, দলু মিয়া, রাজিব শিকদার, সাইফুল ইসলাম, জনি মিয়া, এইচ. রনি, হারুন অর রশিদ, তাইজুল ইসলাম ও সজল বর্মনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রতিবাদ সভায় পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গোলাম ফারুক চাষী ও মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য প্রচার করছে। এর মাধ্যমে তাঁদের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তারা বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা, মিথ্যা তথ্য প্রচার কিংবা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপপ্রচারে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

সভায় বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, একটি কথিত মাদকবিরোধী কমিটির ব্যানার ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তাঁদের দাবি, মাদক নির্মূলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যুকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নিরীহ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির অভিযোগও তোলেন তাঁরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আশরাফুল হক দাদন বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছেন। সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে বিএনপি সবসময় আন্তরিক। তবে মাদকবিরোধী আন্দোলনের নামে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করলে তা বরদাশত করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে গঠিত মাদকবিরোধী কমিটিতে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতিই সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো আওয়ামী লীগের দোসর, মাদকসেবী বা মাদক ব্যবসায়ীর ওই কমিটিতে স্থান হবে না। প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হলে বিএনপি তা মেনে নেবে না।

সভা শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীরা অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সামাজিক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।

অব্যবহৃত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র চালু ও নদীভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
অব্যবহৃত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র চালু ও নদীভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস

উদ্বোধনের প্রায় পাঁচ বছর পরও অব্যবহৃত থাকা কিশোরগঞ্জের ভৈরবের ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন ভৈরব-কুলিয়ারচর আসনের সংসদ সদস্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। একই সফরে তিনি মেঘনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আপৎকালীন জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন।

সোমবার (৬ জুলাই) নিজ নির্বাচনী এলাকা সফরের অংশ হিসেবে দুপুর ৩টার দিকে প্রতিমন্ত্রী ভৈরব পৌর শহরের ফেরিঘাট এলাকার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরে ভৈরব বাজারসংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে চলমান নদীভাঙন প্রতিরোধ কার্যক্রমে অংশ নিয়ে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

এ ছাড়া সফরকালে প্রতিমন্ত্রীর স্বেচ্ছাধীন তহবিল এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তার চেক সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণ করেন। পাশাপাশি গজারিয়া ইউনিয়নে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত মাদক প্রতিরোধবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কেন অবতরণ কেন্দ্রটি চালু হয়নি এবং এতে কোনো কারিগরি বা প্রশাসনিক ত্রুটি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভৈরবের মাছের আড়ত সারা দেশে সুপরিচিত। তাই ব্যবসায়ীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে অবতরণ কেন্দ্রটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিদেশগামী প্রবাসীদের দক্ষতা উন্নয়নে ভাষা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মেঘনা নদীর ভাঙনরোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আপৎকালীন জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভৈরব ও কুলিয়ারচর উপজেলায় একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে, যার সুফল অচিরেই দৃশ্যমান হবে। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ জেলার প্রতিটি উপজেলার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদ, ভৈরব বাজার-আশুগঞ্জ নৌবন্দর ও পরিবহন বিভাগের উপপরিচালক মো. নাহিদ হোসেন, যুগ্ম পরিচালক চাঁদ মো. জসিম উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র হাজী মো. শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভিপি মুজিবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মারুকী শাহীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ভিপি সাইফুল হক, মো. নুরুজ্জামানসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রতিমন্ত্রী নবনির্মিত ভৈরব লঞ্চঘাটের পন্টুন পরিদর্শন করেন এবং নৌকাযোগে মেঘনা নদীতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রমে অংশ নেন।

এর আগে সকালে কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি প্রয়াত শামসু উদ্দিন ও প্রয়াত শহিদুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেন। এরপর প্রতিমন্ত্রীর স্বেচ্ছাধীন তহবিল ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তার আওতায় সুবিধাভোগীদের মাঝে চেক বিতরণ এবং প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে রোপা আমন চাষের প্রণোদনা বিতরণ করেন।

এ ছাড়া কুলিয়ারচর পৌরসভার গাইলকাটা টিএন্ডটি সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণকাজের উদ্বোধন এবং কুলিয়ারচর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন তিনি।

হোসেনপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন

এস কে শাহীন নবাব প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন

“উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ- সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), হোসেনপুরের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা এবং গ্রামীণ উন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু কালাম আজাদ, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোছা. সাহেনা আক্তার, বিআরডিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, হোসেনপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান চন্দনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সমবায় সমিতির প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, আত্মকর্মসংস্থান এবং সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রমে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বক্তারা আরও বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আত্মনির্ভরশীল সমাজ গঠনে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার সুফল প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিআরডিবির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সমবায়ী সদস্য, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় সুধীজন এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশ নেন।