তাড়াইলে ‘স্কুল ফিডিং’ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকারের ‘স্কুল ফিডিং’ বা মিড-ডে মিল কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এ কর্মসূচির খাদ্যসামগ্রী বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, কয়েকটি বিদ্যালয়ে বরাদ্দের তুলনায় কম ওজনের কলা, দুর্গন্ধযুক্ত পাউরুটি ও নষ্ট ডিম সরবরাহ করা হচ্ছে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ থেকে তাড়াইল উপজেলায় এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। উপজেলার ৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী সপ্তাহে পাঁচ দিন খাবার সরবরাহ করার কথা।
নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী, রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার পাউরুটি ও সিদ্ধ ডিম; সোমবার পাউরুটি ও ইউএইচটি দুধ এবং বুধবার ফর্টিফায়েড বিস্কুট ও স্থানীয় মৌসুমি ফল দেওয়ার কথা। খাদ্যসামগ্রীর নির্ধারিত ওজন অনুযায়ী প্রতিটি পাউরুটি ১২০ গ্রাম, ডিম ৬০ গ্রাম, দুধ ২০০ গ্রাম, বিস্কুট ৭৫ গ্রাম এবং ফল ১০০ গ্রাম হওয়ার কথা।
তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের অভিযোগ, কোনো কোনো বিদ্যালয়ে পচা ডিম, আধাপাকা কলা ও দুর্গন্ধযুক্ত পাউরুটি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, নিম্নমানের বা নষ্ট খাবার সরবরাহের বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এ ছাড়া কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন শিক্ষক ও অভিভাবক। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো দিন নির্ধারিত খাবার সরবরাহ করা হয় না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরবরাহকারীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অজুহাত দেখানো হয় বলেও তাঁরা দাবি করেন।
সরেজমিনে তাড়াইল উপজেলার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ থেকে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু হলেও সব সময় নিয়মিতভাবে খাদ্যসামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো দিন নির্ধারিত খাবার না পাওয়ার কথাও তাঁরা জানিয়েছেন। তবে বিদ্যালয়ভেদে পরিস্থিতির ভিন্নতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
কর্মসূচির তাড়াইল উপজেলার অডিটর মো. বুকারিয়া বলেন, “বনরুটি, সিদ্ধ ডিম ও কলা আমরা সরবরাহ করে থাকি। ওপর থেকে আমাদের যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেভাবেই সরবরাহ করছি।”
এ বিষয়ে তাড়াইল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) যৌথভাবে এ কর্মসূচির খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করছে। তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে খোঁজখবর রাখছি।”
অভিভাবক ও শিক্ষকদের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা খাবারের নির্ধারিত ওজন, গুণগত মান ও নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় পর্যায়ে কার্যকর তদারকি জরুরি।
সরকারের এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো, ঝরে পড়া রোধ এবং শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা। তাই খাদ্যের মান ও পরিমাণ নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।








Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array