ভৈরব রেলস্টেশনে ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে কিশোরগঞ্জগামী ট্রেনে যুবক নিহত
ভৈরব রেলস্টেশনে ট্রেন থেকে নামার পর ছিনতাইকারীর হামলায় কিশোরগঞ্জগামী এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি এগারোসিন্দুর গোধূলি ট্রেনে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ যাচ্ছিলেন। ঘটনাটি ভৈরব রেলস্টেশন এলাকায় ঘটে।
নিহত যুবক শাহ আলম কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বাদে কড়িয়াইল গ্রামের মোঃ তাহের উদ্দিনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ট্রেন থেকে নামার পরপরই কয়েকজন ছিনতাইকারী শাহ আলমের পথরোধ করে। মুহূর্তের মধ্যে তারা ছুরি ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শাহ আলম তার পরিবারের সঙ্গে ভৈরব পৌঁছানোর পর শেষবার ফোনে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, “আমি ভৈরব এসে গেছি।” এরপর পরিবারের একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না পাওয়ায় পরিবারের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। পরে রেল কর্তৃপক্ষ ভৈরব রেললাইনের পাশে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।
ভৈরব রেলস্টেশন জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত কেন্দ্র। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই রাতের বেলায় স্টেশন এলাকায় ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয় থাকলেও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ডে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ভারী হয়ে উঠেছে। এক স্বজন বলেন, “আমার ভাই জীবিকা ও স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। লাশ হয়ে ফিরবে—এটা আমরা কখনো কল্পনাও করিনি।”
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
ঘটনার পর থেকে রাতের ট্রেনে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল যাত্রীদের একা চলাফেরা এড়িয়ে চলা এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতি নজরে এলে দ্রুত রেলওয়ে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করেছেন।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।













