ভৈরবে ৩ গরুসহ চোরচক্রের ৩ সদস্য আটক
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চুরি হওয়া তিনটি গরুসহ চোরচক্রের তিন সদস্যকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এলাকায় গরু চুরির ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের গাংকুলহাটি এলাকায় স্থানীয়রা তিনজনকে গরুসহ আটক করে। এর আগে রোববার (১২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে গরু চুরির ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—শিবপুর ইউনিয়নের জামালপুর গাংকুলহাটি এলাকার মৃত আলতু মিয়ার ছেলে আরিফ মিয়া ওরফে আরু (৪২), গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি বড়বাড়ি এলাকার জমির উদ্দিনের ছেলে আলম মিয়া (৪০) এবং কুলিয়ারচর উপজেলার আগরপুর এলাকার আলতু মিয়ার ছেলে বকুল মিয়া (৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে রাধানগর গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকার হাজী করিম উদ্দিনের বাড়ির বাসিন্দা জামাল মিয়ার তিনটি গরু চুরি হয়। চুরি হওয়া গরুগুলোর মধ্যে একটি লাল রঙের গাভিন গরু, একটি সাদা রঙের গরু এবং একটি লাল রঙের বকনা গরু ছিল।
পরদিন সকালে স্থানীয়রা জামালপুর এলাকায় আরিফ মিয়ার বাড়িতে গরুগুলো দেখতে পান। এতে সন্দেহ হলে আরিফ মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, তবে তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে প্রথমে আরিফ মিয়াকে আটক করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য দুইজনকে আটক করা হয়।
ভুক্তভোগী জামাল মিয়া জানান, রাতের আঁধারে চোরচক্র প্রথমে গোয়ালঘরের গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে এবং পরে দরজার তালা ভেঙে গরুগুলো নিয়ে যায়। রাত আড়াইটার দিকে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি গোয়ালঘরে গিয়ে গরু না পেয়ে হতবাক হন।
তিনি আরও বলেন, “কৃষিকাজ ও গরু লালন-পালনের ওপরই আমার সংসার চলে। এই তিনটি গরুই ছিল আমার শেষ সম্বল। আমি চাই, জড়িতদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।”
স্থানীয় বাসিন্দা সাদেক মিয়া বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরুচোর চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই এ ধরনের চুরির ঘটনা ঘটছে, যা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ জানান, আগানগর এলাকায় গরু চুরির খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গরুগুলো উদ্ধার করে এবং তিনজনকে আটক করে। গরুগুলো মালিকের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







