নয়ন সাধু হত্যা ও সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন
কক্সবাজারে মন্দিরের সেবায়েত নয়ন সাধুকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ এবং দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোট।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের কালিবাড়ি মোড়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আখড়া বাজার পরম চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোটের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নিলয় পাল আদরের সভাপতিত্বে এবং জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক উৎপল ভৌমিক অর্থের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নারায়ণ দত্ত প্রদীপ, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক জীবন চন্দ্র দাস এবং জেলা মহিলা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রা সরকার।
এছাড়াও বক্তব্য দেন সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা, তাদের মধ্যে ছিলেন শাওন রায় বিজয়, অ্যাডভোকেট শুভ আচার্য, জয় কুন্ডু, জয় বনিক, গৌরব চক্রবর্তী, নিলয় পণ্ডিত, দ্বীপ সরকার আকাশ, শান্ত সরকার, রজত সাহা, সূর্য ঘোষ জয় ও তুর্জয় প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, স্বাধীন দেশে বারবার সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। কক্সবাজারে নয়ন সাধুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং এখনও তার হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার হয়নি। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে অগ্নিসংযোগ, প্রতিমা ভাঙচুর ও সংখ্যালঘুদের জমি দখলের ঘটনা ঘটছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা নয়ন সাধু হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সারাদেশে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার দাবি করেন। তারা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নিলয় পাল আদর বলেন, “বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই বারবার সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হচ্ছে। আমরা আর কোনো নয়ন দাসকে এভাবে হারাতে চাই না। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”
কর্মসূচি চলাকালে বিক্ষোভকারীরা ‘নয়ন হত্যার বিচার চাই’, ‘সাম্প্রদায়িক হামলা বন্ধ কর’ এবং ‘আমার মাটি, আমার মা—বাংলাদেশ ছাড়বো না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল এলাকার নাগ পঞ্চমী মন্দিরের সেবায়েত নয়ন দাস নিখোঁজ হন। ২০ এপ্রিল তার পরিবার কক্সবাজার সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরবর্তীতে ২২ এপ্রিল বিকেলে খুরুশকুল মন্দির সংলগ্ন একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় সারাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।










