শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

হোসেনপুরে রোপা আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হোসেনপুরে রোপা আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার মাঠজুড়ে এখন রোপা আমনের সোনালি শীষে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন। ধানের শীষে দানা বাঁধতে শুরু করায় চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন কৃষকেরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকায় এ বছর উপজেলায় রোপা আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের ঐতিহাসিক চরপুমদী গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন পাকা হওয়ার পথে রোপা আমন ধান। প্রতিদিন ধানের শীষে দানা পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের মধ্যেও বাড়ছে ফসল ঘরে তোলার প্রত্যাশা। ভাদ্রের ব্যস্ত সময় পেরিয়ে এখন খেতের নিবিড় পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তাঁরা।

উপজেলা কৃষি অফিসার শেখ মোহাম্মদ মহসিন জানান, চলতি মৌসুমে হোসেনপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায় মোট ৮ হাজার ২৫১ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি বিভাগের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা পাওয়ায় এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি হেক্টর জমিতে ৪ থেকে সাড়ে ৪ টন হারে মোট ৩৩ হাজার থেকে ৩৭ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা বিভিন্ন মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের রোগবালাই দমন ও সঠিক পরিচর্যার বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।

কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রদর্শনী প্লটও পরিদর্শন করা হচ্ছে। এসব পরিদর্শনের মাধ্যমে ধানের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, সময়মতো সার, বীজ ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পাওয়ায় এবার খেতের অবস্থা ভালো। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার তাঁরা ভালো ফলন পাবেন এবং ঘরে সোনালি ফসল তুলতে পারবেন বলে আশাবাদী।

চরপুমদীর বিস্তীর্ণ মাঠে দুলতে থাকা রোপা আমনের শীষ এখন কৃষকদের সেই প্রত্যাশারই প্রতিচ্ছবি। ফসলের বর্তমান অবস্থা ধরে রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা ও অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন অর্জনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্টরা।

ফ্যাসিবাদের চাপে বিশ্ববিদ্যালয়েও কথা বলা যায়নি: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪০ অপরাহ্ণ
ফ্যাসিবাদের চাপে বিশ্ববিদ্যালয়েও কথা বলা যায়নি: রিজভী

বিগত সরকারের শাসনামলে ফ্যাসিবাদ এতটা বিস্তৃত হয়েছিল যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও কথা বলার সুযোগ ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংকট সমাধানে তরুণদের মতামত নেওয়া জরুরি। এ জন্য তরুণদের প্রশ্ন করার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ‘আইডিয়া ফেস্ট-২০২৫’-এর চূড়ান্ত পর্বের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের শাসনামলে যখন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কঠিন ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যখন কর্তৃত্ববাদী শাসনের চাপে ছিল, তখনও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের ব্যাপ্তি এতটা বিস্তৃত ছিল, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও কথা বলার সুযোগ ছিল না।’

রিজভী আরও বলেন, ‘আইডিয়া ফেস্ট-২০২৫’-এর মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি এবং সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটানোর যে প্রয়াস নেওয়া হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আরও সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

তরুণদের প্রশ্ন করার প্রবণতা, নতুন কিছু জানার আগ্রহ এবং উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংকট সমাধানের পথ খুঁজে বের করা সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।

চুরি ও হামলায় জড়ালে বাতিল হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ণ
চুরি ও হামলায় জড়ালে বাতিল হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা

চুরি, শারীরিক আক্রমণ ও অনুপ্রবেশের মতো অপরাধে জড়িত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিল হতে পারে। একই সঙ্গে দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে অযোগ্য বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শারীরিক আক্রমণ, চুরি, জোরপূর্বক চুরি ও অনুপ্রবেশের ঘটনায় জড়িত থাকলে ভিসা বাতিল হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন।

মার্কিন দূতাবাস জানায়, যুক্তরাষ্ট্র আইন-শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশটিতে আগত সব বিদেশি পর্যটক ও ভ্রমণকারীর কাছ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের আইন মেনে চলার প্রত্যাশা করা হয়।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিত, বিপাকে ৩ লাখ চাকরিপ্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২০ অপরাহ্ণ
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিত, বিপাকে ৩ লাখ চাকরিপ্রার্থী

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার আগের রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার দাবি ওঠে। এ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা শুরুর মাত্র আধা ঘণ্টা আগে তা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এতে বিপাকে পড়েছেন পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রস্তুতি নেওয়া তিন লাখেরও বেশি চাকরিপ্রার্থী।

শনিবার সকাল ১১টায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়। শেষ মুহূর্তে এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন পরীক্ষার্থীরা।

তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নেওয়ার পর দূরদূরান্ত থেকে ঢাকায় এসে পরীক্ষার ঠিক আগে স্থগিতের খবর শুনতে হয়েছে। এতে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচসহ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি তাঁরা মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ থেকে পরীক্ষা দিতে ঢাকায় এসেছিলেন আবু জাফর নামের এক চাকরিপ্রার্থী। পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় নিরাপত্তাকর্মীর কাছ থেকে পরীক্ষা স্থগিতের খবর পান তিনি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে আবু জাফর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিলাম। কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে, কষ্টও করতে হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর মাত্র আধা ঘণ্টা আগে যখন কেন্দ্রে ঢোকার প্রস্তুতি নিচ্ছি, তখন নিরাপত্তাকর্মী এসে বলেন, চলে যান, পরীক্ষা হবে না। এত দূর থেকে এসে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা কখনো ভাবিনি।’

তিনি আরও বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষ আগে থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখেনি কেন, সেই প্রশ্ন রয়েছে। পরীক্ষার ঠিক আগে স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাঁর মতো হাজারো চাকরিপ্রার্থী আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছেন। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণার দাবি জানান তিনি।

ময়মনসিংহ থেকে পরীক্ষা দিতে ঢাকায় এসেছিলেন ইয়াসিন আরাফাত। দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নেওয়ার পর শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেন তিনিও।

ইয়াসিন আরাফাত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছি। ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় আসতে যাতায়াতসহ থাকা-খাওয়ার পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। পরীক্ষা দিতে এসে শেষ মুহূর্তে জানতে পারলাম, পরীক্ষা হবে না। পরীক্ষা শুরুর মাত্র ৩০ মিনিট আগে এভাবে স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ অবশ্যই তদন্ত করা উচিত। তবে পরীক্ষার্থীদের সময়, অর্থ ও পরিশ্রমের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদটি ১১তম গ্রেডের। ২৪২টি শূন্য পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে তিন লাখেরও বেশি প্রার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এ জন্য রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

পরীক্ষার আগের রাত থেকেই সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একটি স্ট্যাটাসে দাবি করা হয়, অধিদপ্তরের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা, যিনি নিয়োগ পরীক্ষা কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁর এক আত্মীয়সহ অধিদপ্তরের একটি বড় চক্র এ ঘটনায় জড়িত। ওই স্ট্যাটাসে আরও দাবি করা হয়, প্রার্থীপ্রতি গড়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকায় চুক্তি করা হয়েছে এবং রাতভর বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষার্থীদের কথিত প্রশ্ন ও উত্তর পড়ানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডি এম আতিকুর রহমান বলেন, ‘যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি আমরা শুনেছি। পরে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।’

পরীক্ষা স্থগিতের পর নতুন তারিখ কবে ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিয়োগ পরীক্ষার পরবর্তী সময়সূচি দ্রুত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।