শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

কৃষি খাতে ২০ হাজার উদ্যোক্তা গড়বে সরকার, ৬০ শতাংশ নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কৃষি খাতে ২০ হাজার উদ্যোক্তা গড়বে সরকার, ৬০ শতাংশ নারী

কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি বাড়াতে সারাদেশে ২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগের আওতায় ৬০ শতাংশ নারী ও ৪০ শতাংশ পুরুষকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি আয় বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬৪ জেলার ২০৮টি উপজেলায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বীজ, নার্সারি, মাশরুম, ভার্মিকম্পোস্ট, পাটজাত ও দুগ্ধজাত পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে উদ্যোক্তা তৈরি করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি আলু, আম, কাঁঠাল, টমেটো ও সুগন্ধি চালের ভ্যালুচেইনভিত্তিক সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষিত উদ্যোক্তাদের কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও ইনকিউবেশন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পার্টনার-ডিএএম অঙ্গের এজেন্সি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফারুক বাসসকে বলেন, এ পর্যন্ত ছয় হাজার ৮৭৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর প্রায় সাত হাজার উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনাগত জ্ঞান বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারের সঙ্গে সংযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রশিক্ষিত উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে ইনকিউবেশন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া গৃহভিত্তিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রপাতি কেনার জন্য প্রকল্প থেকে ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হবে। বাকি ৩০ শতাংশ ব্যয় বহন করবেন উদ্যোক্তারা।

কৃষিপণ্যের বাজারব্যবস্থা উন্নয়নে ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ৭৬৭টি মার্কেট অ্যাক্টরস বিজনেস স্কুল গঠন করা হয়েছে। এসব স্কুলের মাধ্যমে কৃষক, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, হিমাগার মালিক ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে। এর মধ্যে আলুর জন্য গড়ে তোলা হয়েছে ২২৭টি স্কুল। চলতি বছর আরও ৩৩৫টি স্কুল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর আবুল কালাম আজাদ বলেন, উদ্যোক্তারা নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেন। কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কৃষিকে আধুনিক ও সম্মানজনক পেশায় রূপান্তর করা সম্ভব।

এ উদ্যোগের সুফল পাচ্ছেন তরুণ উদ্যোক্তারাও। গাজীপুরের পিরুজালী ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের তামিমা আক্তার ন্যান্সি কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ১২ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে দক্ষতা অর্জন করেন। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি জ্যাম, জেলি, আচার, কাঁঠাল ও মাছের চিপস তৈরি করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি শুরু করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ন্যান্সি অ্যাগ্রো অ্যান্ড ফুড’-এ বর্তমানে চারজন কাজ করছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কার্যকর পরিকল্পনা ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কৃষি খাতের উৎপাদনশীলতা এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। এর ফলে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, সবার পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, সবার পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার, যেখানে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরুর বিভাজন থাকবে না; সবার পরিচয় হবে বাংলাদেশি। রাষ্ট্র, সমাজ ও সরকারের কাছ থেকে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা পাবেন। নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করাই সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মহালয়া ১৪৩৩’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন।

সকাল ৬টার দিকে বনানী মাঠে পৌঁছালে মাহদী আমিনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের নেতারা। পরে সেখানে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। শুভ মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান মাহদী আমিন। একই সঙ্গে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আধুনিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, মহালয়া মানেই নতুন আশার আলো এবং অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়। অন্ধকারকে পেছনে ফেলে আলোর জয় নিশ্চিত করাই এ উৎসবের মূল বার্তা। সুন্দর ও সুশৃঙ্খল আয়োজনের জন্য তিনি গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, ‘আজ আমরা এমন একটি এলাকায় সমবেত হয়েছি, যা সংসদীয় আসন হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এলাকা। আমরা বিশ্বাস করি, সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলব, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিন্নতা ছাপিয়ে আমাদের একটাই পরিচয় হবে—আমরা সবাই বাংলাদেশি।’

তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্য কিংবা বিভেদের শিকার হতে হবে না—এমন বাংলাদেশ গড়তে চায় সরকার। প্রতিটি মানুষ স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচবেন এবং সমান মর্যাদা নিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় অংশ নেবেন।

দীর্ঘ সময় পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখে পূজার সরকারি ছুটিও বাড়ানো হয়েছে। এই উৎসবের আনন্দ সনাতন সম্প্রদায়ের প্রতিটি মানুষের অন্তরে ছড়িয়ে পড়ুক, সেটিই সরকারের প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব বাংলাদেশের আবহমান ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির দৃঢ় বন্ধন। পারস্পরিক ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এমন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে বিদ্বেষের জায়গা নেবে ভালোবাসা, বৈষম্যের জায়গা নেবে ন্যায়বিচার এবং বিভাজনের জায়গা নেবে ঐক্য।

বাংলাদেশের মূল শক্তি এ দেশের জনগণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার দৃঢ় প্রত্যয়ই দেশের অগ্রযাত্রার চালিকাশক্তি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার বিশ্বাস করে, দেশের মানুষের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সার্বিক জনকল্যাণই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এ কারণেই সরকারের স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। দেশকে অগ্রাধিকার দিয়ে সামনে এগিয়ে নিতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করতে হবে।

মাহদী আমিন আরও বলেন, মহালয়ার বার্তা ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। দুর্গোৎসবের এই শুভ সূচনা সবার জীবনে অনাবিল শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক। আয়োজনের সাফল্য কামনার পাশাপাশি তিনি সনাতনী সমাজের সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন কান্তি মজুমদার, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহা ও সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায় প্রমুখ।

দৌলতপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি কৃষক আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ
দৌলতপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি কৃষক আহত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বিএসএফের গুলিতে সাহাজুল ইসলাম (৩২) নামের এক বাংলাদেশি কৃষক আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার জামালপুর সীমান্তে মাথাভাঙ্গা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

আহত সাহাজুল ইসলাম উপজেলার জামালপুর গ্রামের সাহাবাজের ছেলে।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে সাহাজুল মাথাভাঙ্গা নদীতে মাছ ধরতে যান। এ সময় সীমান্ত এলাকায় এক ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এ ঘটনার পর বিএসএফ সদস্যরা সাহাজুলকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড ছররা গুলি ছোড়েন। এতে তাঁর পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি ও স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে সীমান্তবর্তী মাঠে কাজ করা বাংলাদেশি কৃষকেরা এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করে নিয়ে আসেন। পরে তাঁকে বিজিবির হেফাজতে দেওয়া হয়।

বিএসএফের গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যরা সতর্কতামূলকভাবে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। বর্তমানে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাইফুল ইসলাম জানান, নদীতে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিএসএফ সদস্যরা হঠাৎ গুলি চালান। এতে সাহাজুল আহত হওয়ার পর সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, বিএসএফের গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। গুলিবর্ষণ ও আটক ভারতীয় নাগরিকের বিষয়ে সীমান্ত প্রটোকল ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

জ্বালানির দাম কমাতে রাশিয়ার ডিজেল আমদানির ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ণ
জ্বালানির দাম কমাতে রাশিয়ার ডিজেল আমদানির ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর চাপে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে ৩ লাখ টন ডিজেল সরবরাহে সম্মত হয়েছেন। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে আরও ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে।

শুক্রবার ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ আগামী ৭ এপ্রিল পর্যন্ত রুশ ডিজেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে সাময়িক অনুমতিপত্র জারি করেছে। তবে মার্কিন ব্যাংকে থাকা রাশিয়ার সম্পদসহ অন্যান্য সম্পদ অবরুদ্ধই থাকছে।

ট্রাম্পের এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি চুক্তিটিকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের জন্য ‘উপহার’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এভাবে পুতিনকে উপহার দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বরং এতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে জানান, স্বল্প সময়ের মধ্যে আরও ৩০ লাখ টন রুশ ডিজেল সরবরাহ করা হবে। তবে এ সরবরাহ নির্ভর করছে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর পরিস্থিতির ওপর। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় দেশটির শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পরে পুতিন জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহে রাশিয়া আগ্রহী। তবে তিনি নির্দিষ্ট পরিমাণের কথা উল্লেখ করেননি। শুক্রবার বিশ্ব জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলেও জানান পুতিন। রাশিয়ার দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ডিজেল ও জ্বালানি খাতে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা বিশ্বের উপকারে আসবে।

তবে বিশ্লেষকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, রাশিয়া আদৌ প্রতিশ্রুত পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করতে পারবে কি না এবং এতে মার্কিন ভোক্তাদের জ্বালানির দাম কতটা কমবে। কুইল্টার চেভিওটের বিনিয়োগ কৌশলবিদ টিম আর্মিটেজের মতে, ট্রাম্পের উল্লেখ করা পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। প্রথম ধাপে ঘোষিত ডিজেলের পরিমাণ তেলের হিসাবে প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলের সমতুল্য। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন তেলের ব্যবহার প্রায় ৩৮ লাখ ব্যারেল। ফলে জ্বালানির দাম কমাতে এ উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এই চুক্তির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে রাশিয়া কী পাবে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কাছে জানতে চেয়েছে বিবিসি। চুক্তির বিস্তারিত এবং রাশিয়া কীভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায্য সমর্থন এবং রাশিয়ার সঙ্গে কঠোর আলোচনার ওপর তাঁরা ভরসা করছেন। এ আলোচনা হতে হবে বলিষ্ঠ, দুর্বল নয়। রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর রাশিয়ার দীর্ঘদিনের হামলার জবাবেই এসব আঘাত হানা হয়েছে।

ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চলতি বছর দেশটিতে দুবার তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (আইইএ) তথ্যমতে, রাশিয়ার ডিজেল উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির জন্য এসব হামলাকে দায়ী করে ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, ইউক্রেনের আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে তারা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে। দেশটির এক মুখপাত্র বলেন, রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ অব্যাহত রাখা হবে এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইউক্রেনকে সহায়তা করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রুশ ডিজেল আমদানির ঘোষণা অন্যতম। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাত এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে এর প্রভাবের কারণে গত কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোল ও বিশেষ করে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৬ দশমিক ২৮ ডলার। সেপ্টেম্বরের শেষে এ দাম রেকর্ড ৬ দশমিক ৫৩ ডলারে উঠেছিল।

রাশিয়ার সঙ্গে এ চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেস এমন একটি আইন পাস করেছে, যাতে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরও রয়েছে। ওই আইনের আওতায় রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। এ কারণে চুক্তিটি ইউরোপীয় মিত্রদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেনপন্থী রাজনীতিকদের সমালোচনার মুখে ফেলতে পারে ট্রাম্পকে।

চুক্তির ফলে জ্বালানির দাম কতটা কমবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। অপরিশোধিত তেলের বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এখনো ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলারের বেশি। যুদ্ধের আগে এর দাম ছিল প্রায় ৭৩ ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চাপ কমানোর উপায় খুঁজছেন ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনি পেট্রোলের ওপর ফেডারেল কর স্থগিত করার বিষয়টি বিবেচনার কথা জানান। পাশাপাশি ফেডারেল কর ছাড়াই মার্কিন মহাসড়কে ‘রেড ডাই ডিজেল’ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ঘোষণাও দেন।

জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমাতে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোকে তাদের মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়তে বাধ্য করার ক্ষেত্রেও ট্রাম্প সফল হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার দাবির প্রতিও সমর্থন জানিয়েছিলেন।