শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

দুর্ঘটনায় স্বামীর মৃত্যুর এক মাস পর মারা গেলেন স্ত্রী

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
দুর্ঘটনায় স্বামীর মৃত্যুর এক মাস পর মারা গেলেন স্ত্রী

ঘুরতে গিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামীর মৃত্যুর এক মাস পর মারা গেলেন স্ত্রী তুলি বেগম (২১)। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে গত ১২ আগস্ট সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তাঁর স্বামী সৌদি আরবপ্রবাসী ইয়াছিন আহমেদ (২৭)।

নিহত ইয়াছিন আহমেদ ভৈরব শহরের কমলপুর মুসলিমের মোড় এলাকার পূবালী ব্যাংক ভবনের মালিক মৃত বাক্কী মিয়ার ছেলে। আর তুলি বেগম শহরের স্টেডিয়াম মোড় এলাকার আক্তার হোসেনের মেয়ে।

জানা যায়, গত ১২ আগস্ট বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোডের মালিহাতা এলাকায় একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ইয়াছিন আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী তুলি বেগম আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই ইয়াছিনের মৃত্যু হয়।

গুরুতর আহত তুলি বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় এক মাস বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার দুপুরে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইয়াছিন ১৭ মাস আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। গত ২৪ জুলাই তিনি দেশে ফেরেন। সৌদি আরবে তিনি ফুড ডেলিভারির কাজ করতেন। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে তুলি বেগমকে বিয়ে করেন ইয়াছিন। তাঁদের সংসারে আলিফ নামে দুই বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, গত ১২ আগস্ট বেলা ৪টার দিকে সন্তানকে বাড়িতে রেখে স্ত্রী তুলি বেগমকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে তিতাস নদীসংলগ্ন ‘মিনি কক্সবাজার’ এলাকায় ঘুরতে যান ইয়াছিন। সেখান থেকে ফেরার পথে সন্ধ্যায় বিশ্বরোডের মালিহাতা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তাঁদের মোটরসাইকেলের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ হয়।

তুলির বোন মিতালি মিতু বলেন, তুলি প্রায় এক মাস ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সর্বশেষ ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে তিনি মারা যান।

তিনি জানান, শুক্রবার বাদ এশা কমলপুর মাদ্রাসা মাঠে তুলি বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁকে কমলপুর কবরস্থানে স্বামী ইয়াছিন আহমেদের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জে হাওরে ঘুরতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় গাজীপুরের অতিরিক্ত পিপি নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে হাওরে ঘুরতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় গাজীপুরের অতিরিক্ত পিপি নিহত

কিশোরগঞ্জের হাওরে ঘুরতে গিয়ে পিকআপ ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে গাজীপুর জেলা জজ কোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান (৫৬) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা আরও চার আইনজীবী আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়কের ভাতশালা সেতু এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মিজানুর রহমান গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার সালনা এলাকার বাসিন্দা। তিনি গাজীপুর জেলা জজ কোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

দুর্ঘটনায় আহত আইনজীবীরা হলেন গাজীপুর জেলা জজ কোর্টের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন কাজল, অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন, অ্যাডভোকেট মহসীন রেজা সরকারসহ আরও এক আইনজীবী।

গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি জাকিরুল ইসলাম জানান, সকালে গাজীপুর থেকে নয়জন আইনজীবী কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকায় ঘুরতে যান। বিকেলে মিঠামইন থেকে অষ্টগ্রামের দিকে অটোরিকশায় যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পর্যটকবাহী পিকআপের সঙ্গে তাঁদের অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হন।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাঁদের বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মারা যান।

গুরুতর আহত মকবুল হোসেন কাজল ও ইকবাল হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত পিকআপ ও অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিকলীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
নিকলীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬-এর অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় নিকলী উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সজীব ঘোষ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আসিফ ইমতিয়াজ মনির, তথ্যসেবা কর্মকর্তা তসলিমা ফেরদৌসী মণি, ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. রাসেল মিয়া, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক তাপস সাহা অপু, নিকলী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আল মামুন, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান সবুজ, ওলামা দলের সদস্যসচিব মো. নুরুজ্জামানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও শামীম আরা বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। নিকলীকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকা পলিথিন, নারিকেলের ছোবড়া, প্লাস্টিকজাতীয় বস্তু, ফুলের টবসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ঘরের আশপাশে অপ্রয়োজনীয় আগাছা থাকলে তা সরিয়ে ফেলতে হবে। মাটির গর্তে পানি জমে থাকলে তা পরিষ্কার করতে হবে। একই সঙ্গে যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।

ইউএনও আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবাই নিজে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করলে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব। এ সময় তিনি সবাইকে সম্মিলিতভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “আসুন, আমরা নিজে সচেতন হই, অন্যকে সচেতন করি এবং ডেঙ্গুমুক্ত নিকলী গড়ে তুলি।”

অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগের সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

কুলিয়ারচরে এক রাতে পাড়ার ১০ নলকূপ চুরি

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ
কুলিয়ারচরে এক রাতে পাড়ার ১০ নলকূপ চুরি

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে এক রাতেই একটি পাড়ার ১০টি নলকূপ খুলে নিয়ে গেছে চোরেরা। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার রামদী ইউনিয়নের আগরপুর মোদকপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় মাদকসেবীদের একটি অংশ এসব চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আগরপুর মোদকপাড়ায় ৪০ থেকে ৪৫টি পরিবারের বসতি রয়েছে। পাড়াটির খালপাড়ের তিন-চারটি স্থানে আশপাশের এলাকার কিছু মাদকসেবী দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত আড্ডা বা মাদকের আসর বসান। স্থানীয়দের দাবি, তাঁদের অনেকেই মাদকের টাকা জোগাড় করতে চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পাড়াটিতে এর আগেও নলকূপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রায় এক বছর আগে খুদে ব্যবসায়ী বিমল চন্দ্র মোদক মেনুর (৬৫) একটি নলকূপ চুরি হয়েছিল। এবারও শুক্রবার রাতে তাঁর নলকূপটি খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বিমল চন্দ্র মোদক মেনু বলেন, আগেরবার নলকূপ চুরি যাওয়ার পর নতুন কল কিনতে তাঁকে ধারদেনা করতে হয়েছিল। এবার আবার নলকূপ চুরি হওয়ায় কীভাবে নতুন করে কিনবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। বর্তমানে বাধ্য হয়ে অন্য জায়গা থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাঁকে।

এ ঘটনায় পাড়াটির বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা। একসঙ্গে ১০টি নলকূপ চুরি যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজন বিশ্বাস বলেন, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নলকূপ চুরির সত্যতা পাওয়া গেছে। চুরি যাওয়া নলকূপগুলো উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু করা হয়েছে।