শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

অসহায়-দুস্থদের মাঝে রাজশাহী জেলা পরিষদের অনুদানের চেক বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
অসহায়-দুস্থদের মাঝে রাজশাহী জেলা পরিষদের অনুদানের চেক বিতরণ

রাজশাহী জেলা পরিষদ আয়োজিত অসহায়, দুস্থ, শিক্ষার্থী ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন মানবিক ক্ষেত্রে সহায়তার জন্য আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ ও আলোচনা সভা আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভা ও চেক বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল আলিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চেক বিতরণ করেন, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. মো. এরশাদ আলী (ঈশা)।
প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. মো. এরশাদ আলী (ঈশা) বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁর নেতৃত্বে দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণ, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।’
তিনি বলেন, তারই ধারাবাহিকতায় সমাজের অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলে আমাদের দায়িত্ববোধ আরও অর্থবহ হবে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে সহায়তা করা এবং অসুস্থ মানুষের চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া একটি মানবিক কাজ।

আলোচনা সভা শেষে ৩৮ জন উপকারভোগীর মাঝে মোট ২ লাখ ৬২ হাজার টাকার আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা, সহকারী প্রকৌশলী মো. আল আমীন মল্লিক এবং প্রধান সহকারী এস. এম. আল মতিন।

এছাড়াও জেলা পরিষদের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপকারভোগী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিশাল ভিমরুলের চাক, আতঙ্কে সেবাপ্রার্থীরা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ
হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিশাল ভিমরুলের চাক, আতঙ্কে সেবাপ্রার্থীরা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরের একটি আমগাছের ডালে বিশাল আকারের ভিমরুলের (স্থানীয় ভাষায় ভেংগুল) চাক বাসা বেঁধেছে। এতে উপজেলা পরিষদে বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন সেবা নিতে আসা শত শত সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের মূল মাঠের পাশে থাকা একটি বড় আমগাছের ডালে ফুটবলের আকৃতির বিশাল ভিমরুলের চাক ঝুলছে। গাছটির নিচ দিয়েই প্রতিদিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও আদালতে যাতায়াত করেন সাধারণ মানুষ। এ পথে কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন।

স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে চাকটি ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। তাঁদের ভাষ্য, ভিমরুল অত্যন্ত বিষাক্ত ও আক্রমণাত্মক। সামান্য শব্দ বা ঢিল ছোড়া হলে এগুলো দলবদ্ধভাবে আক্রমণ করতে পারে। ভিমরুলের কামড়ে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে বলেও জানান তারা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিষয়টি আরও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা পরিষদে সেবা নিতে আসা কয়েকজন বলেন, “আমরা খুব ভয়ে ভয়ে এই গাছের নিচ দিয়ে যাতায়াত করি। বাচ্চাদের নিয়ে এসেছি, কখন কামড়ে দেয়—সেই ভয়ে আছি। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় এটি অপসারণ করা।”

এ বিষয়ে সচেতন মহলের দাবি, বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ভিমরুলের চাকটি নিরাপদে অপসারণ অথবা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে উপজেলা পরিষদে বিভিন্ন কাজে আসা সাধারণ মানুষ ভিমরুলের আক্রমণের শিকার হয়ে গুরুতরভাবে আহত বা অসুস্থ হতে পারেন।

জনসাধারণের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

করিমগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মো. হেলিম (৩৫) নামে এক কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় খোকন (৩০) নামে আরও এক শ্রমিক আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার গুজাদিয়া নামাপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকালে জমিতে কাজ করার সময় হেলিম বজ্রপাতে আক্রান্ত হন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত হেলিম গুজাদিয়া নামাপাড়া গ্রামের মো. মুসলিমের ছেলে।

গুজাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আরজু মিয়া জানান, সকাল ৬টা থেকে নিহত হেলিমসহ আটজন শ্রমিক স্থানীয় বৈরাটিয়া পাড়া গ্রামের কৃষক আল ইসলামের জমিতে ধনেপাতা সংগ্রহের কাজ করছিলেন। এ সময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হলে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বজ্রপাত আঘাত হানে। এতে ঘটনাস্থলেই হেলিমের মৃত্যু হয়। বজ্রপাতে খোকন (৩০) নামে আরেক শ্রমিক আহত হন। তাঁকে করিমগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কৃষি শ্রমিক মো. হেলিম অন্যের জমিতে শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে স্ত্রী ও দুই সন্তানের জীবনযাপন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে বলে জানান ইউপি সদস্য আরজু মিয়া। এ অবস্থায় তিনি সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয়বান ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরিবারের জন্য মানবিক সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছেন।

করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেব খান দৈনিক কিশোরগঞ্জকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে মুসলিমা বজ্রপাতে নিহত কৃষি শ্রমিক মো. হেলিমের পরিবারকে সরকারি সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।

বই-ভালোবাসায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে গ্রিন হিউম্যানিটি সোসাইটি

রেজাউল হক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
বই-ভালোবাসায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে গ্রিন হিউম্যানিটি সোসাইটি

‘শিক্ষা একটি শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে সুবিধাবঞ্চিত ও শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত শিশুদের জন্য পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গ্রিন হিউম্যানিটি সোসাইটি (GHS)।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে এ পাঠদান কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। এতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা অংশ নেয়।

কার্যক্রমে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, বর্ণমালা ও বিভিন্ন মৌলিক বিষয়ে পাঠদান করা হয়। শুধু পড়াশোনার মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে সময় কাটানো, তাদের কথা শোনা এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরি করতেও কাজ করেন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা।

আয়োজকদের মতে, একটি শিশুর হাতে বই তুলে দেওয়া মানে শুধু একটি বই দেওয়া নয়; বরং তার স্বপ্ন দেখার অধিকারকে আরও শক্তিশালী করা। অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা কিংবা পারিবারিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো শিশু যেন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়- এই লক্ষ্যেই GHS-এর এ উদ্যোগ।

গ্রিন হিউম্যানিটি সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক মো. আশিকুজ্জামান আশিক বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ তার পরিবারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। প্রতিটি শিশুরই শিক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আমাদের এই উদ্যোগ হয়তো ছোট পরিসরে শুরু হয়েছে, কিন্তু আমাদের স্বপ্ন অনেক বড়। আমরা চাই কিশোরগঞ্জের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে নিয়মিতভাবে দাঁড়াতে এবং তাদের পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত করতে। আজ যে শিশুটি এখানে বই হাতে বসেছে, আগামী দিনে সে-ই হয়তো সমাজ ও দেশের জন্য বড় কিছু করবে। আমরা শুধু তাদের পড়াতে চাই না, আমরা তাদের স্বপ্ন দেখতে শেখাতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রিন হিউম্যানিটি সোসাইটির কাজ কোনো একদিনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সমাজের মানুষ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে আমরা এই পাঠদান কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে চাই।’

GHS-এর সদস্যসচিব আশরাফুল ইসলাম নাদিম বলেন, ‘এই শিশুদের অনেকেরই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় সুযোগ ও সহায়তা নেই। আমরা চাই তাদের সেই সুযোগটা তৈরি করে দিতে। একটি শিশুকে শুধু বই দেওয়া নয়, নিয়মিত তার পাশে থাকা এবং শেখার পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকের সামর্থ্য হয়তো সমান নয়, কিন্তু একটি শিশুর জন্য একটু সময়, একটি বই কিংবা সামান্য সহযোগিতাও তার জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আমরা সমাজের সবাইকে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।’

পাঠদান কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এক শিশু আনন্দ প্রকাশ করে বলে, ‘আজকে আমাদের বই নিয়ে পড়ানো হয়েছে। এখানে এসে খুব ভালো লেগেছে। আমরা নিয়মিত পড়তে চাই এবং বড় হয়ে ভালো মানুষ হতে চাই।’

আরেক শিশু বলে, ‘আগে এভাবে একসঙ্গে বসে পড়ার সুযোগ হতো না। আপু-ভাইয়ারা আমাদের খুব সুন্দর করে পড়িয়েছেন। আমরা আবারও এখানে পড়তে চাই।’

গ্রিন হিউম্যানিটি সোসাইটি জানিয়েছে, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির। পর্যায়ক্রমে শিশুদের শিক্ষা উপকরণ, বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ বিকাশেও কাজ করতে চায় সংগঠনটি।

সংগঠনটির প্রত্যাশা, সমাজের সচেতন মানুষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে কিশোরগঞ্জের আরও অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

GHS-এর বার্তা—‘শিক্ষা হোক সবার অধিকার, কোনো শিশু থাকুক না শিক্ষার বাইরে।’

আয়োজনে ছিল গ্রিন হিউম্যানিটি সোসাইটি (GHS)। সংগঠনটির স্লোগান—‘সবুজ পৃথিবী, মানবতার জন্য’।