রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

কুলিয়ারচরে এক রাতে পাড়ার ১০ নলকূপ চুরি

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কুলিয়ারচরে এক রাতে পাড়ার ১০ নলকূপ চুরি

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে এক রাতেই একটি পাড়ার ১০টি নলকূপ খুলে নিয়ে গেছে চোরেরা। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার রামদী ইউনিয়নের আগরপুর মোদকপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় মাদকসেবীদের একটি অংশ এসব চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আগরপুর মোদকপাড়ায় ৪০ থেকে ৪৫টি পরিবারের বসতি রয়েছে। পাড়াটির খালপাড়ের তিন-চারটি স্থানে আশপাশের এলাকার কিছু মাদকসেবী দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত আড্ডা বা মাদকের আসর বসান। স্থানীয়দের দাবি, তাঁদের অনেকেই মাদকের টাকা জোগাড় করতে চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পাড়াটিতে এর আগেও নলকূপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রায় এক বছর আগে খুদে ব্যবসায়ী বিমল চন্দ্র মোদক মেনুর (৬৫) একটি নলকূপ চুরি হয়েছিল। এবারও শুক্রবার রাতে তাঁর নলকূপটি খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বিমল চন্দ্র মোদক মেনু বলেন, আগেরবার নলকূপ চুরি যাওয়ার পর নতুন কল কিনতে তাঁকে ধারদেনা করতে হয়েছিল। এবার আবার নলকূপ চুরি হওয়ায় কীভাবে নতুন করে কিনবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। বর্তমানে বাধ্য হয়ে অন্য জায়গা থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাঁকে।

এ ঘটনায় পাড়াটির বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা। একসঙ্গে ১০টি নলকূপ চুরি যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজন বিশ্বাস বলেন, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নলকূপ চুরির সত্যতা পাওয়া গেছে। চুরি যাওয়া নলকূপগুলো উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু করা হয়েছে।

জেলা পরিষদ প্রশাসকদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ; স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
জেলা পরিষদ প্রশাসকদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ; স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার তাগিদ

গণতন্ত্রকে সুসংহত ও শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার দুপুরে বঙ্গভবনে দেশের ৩৩টি জেলা পরিষদের প্রশাসক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় দেশের তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে তিনি বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রকৃত গণতন্ত্র কেবল জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকলে চলে না। গণতন্ত্রের শেকড় মজবুত করতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য ক্ষমতার প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ নাগরিকদের উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

একই সঙ্গে জেলা পরিষদের সার্বিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আরও গতিশীলতা আনার ওপরও বিশেষ জোর দেন রাষ্ট্রপতি।

সৌজন্য সাক্ষাতে জেলা পরিষদের প্রশাসকেরা নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। তারা রাষ্ট্রপতির দেওয়া দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ভৈরব পৌরসভায় হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি নিয়ে মানববন্ধন

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
ভৈরব পৌরসভায় হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি নিয়ে মানববন্ধন

অনিয়মতান্ত্রিক ও অন্যায়ভাবে কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার হোল্ডিং ট্যাক্স ৪০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং পৌরসভার স্থবির উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও সর্বস্তরের নাগরিকরা।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্জয় মোড় এলাকার নূরানী মসজিদের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল হক জয়, গণঅধিকার পরিষদের নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল, সমাজকর্মী এন কে সোহেল, জাতীয় নাগরিক পার্টি ভৈরব উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল ও ডালিয়া বেগম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মিয়াসহ অন্যরা।

মানববন্ধনে বক্তারা পৌর প্রশাসকের উদ্দেশে বলেন, ‘কাদের পরামর্শে ও কাদের উদ্দেশ্য সফল করতে পৌরকর বাড়ানো হয়েছে? ভৈরবের নাগরিকরা জানেনই না যে তাঁদের পৌরকর বেড়েছে। হঠাৎ কেন পৌরকর বাড়ানো হলো? একজন অনির্বাচিত প্রশাসক এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। যতদিন না পৌরসভায় একজন নির্বাচিত মেয়র আসছেন, ততদিন পৌরকর বাড়ানো যাবে না। ভৈরবের একজন অনির্বাচিত প্রশাসকের এই ভুল সিদ্ধান্ত ভৈরববাসী মেনে নেবে না।’

বক্তারা আরও বলেন, ভৈরবের খেটে খাওয়া মানুষ ঠিকমতো বিদ্যুৎ বিল দিতে পারছেন না। এর মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে করের চাপ তাঁদের ওপর জুলুম হয়ে দাঁড়াবে।

তাঁরা বলেন, গত ১৭ বছরে পৌরসভায় একাধিক নির্বাচিত মেয়র দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁরা কোনোভাবেই জনগণের ওপর জুলুম-নির্যাতন করে কর বাড়াননি। তাই অনতিবিলম্বে কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন ভৈরবের সর্বস্তরের নাগরিকরা।

এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পরপর হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়ন (রি-অ্যাসেসমেন্ট) করার নির্দেশনা রয়েছে। এ বছর পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ায় সেই নির্দেশনা অনুযায়ী পুনর্মূল্যায়নের কাজ বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ট্যাক্স না বাড়লে প্রকল্পগুলোর জন্য বরাদ্দ আসে না। এ বছর প্রায় ৮০ কোটি টাকার বার্ষিক বাজেটের বিপরীতে ট্যাক্সের পরিমাণ পাঁচ কোটি টাকারও কম। অথচ এই পাঁচ কোটি টাকার পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করছে বাকি ৭৫ কোটি টাকা আসলে ৭৫ কোটি হবে, নাকি ৫০ কোটি—তা বলা যায় না।’

পৌর প্রশাসক আরও বলেন, ইতোপূর্বে বাজেট ঘোষণার দিন নেতৃবৃন্দসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে এ বিষয়ে কিছুটা আলোচনা করা হয়েছিল।

হোল্ডিংয়ের তথ্যের অসঙ্গতির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘হোল্ডিংগুলোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণ ভুল আছে। নির্ধারিত নিয়ম ও হিসাব অনুযায়ী ট্যাক্সের পরিমাণ আসে প্রায় ১৮ কোটি টাকা। সেখানে এখন আসছে পাঁচ কোটির কাছাকাছি।’

তিনি আরও বলেন, নোটিশের বিপরীতে আপত্তি জানানোর সুযোগ রয়েছে। আপত্তির শুনানি করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রক্রিয়া অনুযায়ী এগোলে বিষয়টির সমাধান সম্ভব। আপত্তি ফরম এবং আপত্তির শুনানি সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানান।

পৌর প্রশাসক কেএম মামুনুর রশীদ আরও বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। পাঁচ বছর পরপর ট্যাক্স রি-অ্যাসেসমেন্ট করতে হয়। বর্তমানে সেই পাঁচ বছর পরের পুনর্মূল্যায়ন চলছে। নাগরিকদের ক্ষতি হয়—এমন কোনো সিদ্ধান্ত পৌরসভা নেবে না।

মাকে মারধরে বাধা দেওয়ায় ভাইয়ের হাতে ভাই খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
মাকে মারধরে বাধা দেওয়ায় ভাইয়ের হাতে ভাই খুন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় মাদকের টাকা চেয়ে মাকে মারধরের ঘটনায় বাধা দিতে গিয়ে বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে গেন্দু মিয়া (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বড় ভাই হৃদয় মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের চরদেবকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গেন্দু মিয়া ওই গ্রামের কালাচান মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাক্টরচালক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গেন্দু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। শনিবার রাতে মাদকের টাকা চেয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে টাকা না পেয়ে তিনি মাকে মারধর শুরু করেন। এ সময় বড় ভাই হৃদয় মিয়া বাধা দিলে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা ধস্তাধস্তিতে গড়ায়। একপর্যায়ে হৃদয় মিয়া হাতে থাকা ছুরি দিয়ে গেন্দু মিয়ার বুকে আঘাত করেন।

ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত গেন্দু মিয়াকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালিয়ে হৃদয় মিয়াকে আটক করে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, “ঘটনার পরপরই মূল অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। নিহত গেন্দু মিয়া মাদকাসক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”