ভৈরব পৌরসভায় হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি নিয়ে মানববন্ধন
অনিয়মতান্ত্রিক ও অন্যায়ভাবে কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার হোল্ডিং ট্যাক্স ৪০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং পৌরসভার স্থবির উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও সর্বস্তরের নাগরিকরা।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্জয় মোড় এলাকার নূরানী মসজিদের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল হক জয়, গণঅধিকার পরিষদের নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল, সমাজকর্মী এন কে সোহেল, জাতীয় নাগরিক পার্টি ভৈরব উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল ও ডালিয়া বেগম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মিয়াসহ অন্যরা।
মানববন্ধনে বক্তারা পৌর প্রশাসকের উদ্দেশে বলেন, ‘কাদের পরামর্শে ও কাদের উদ্দেশ্য সফল করতে পৌরকর বাড়ানো হয়েছে? ভৈরবের নাগরিকরা জানেনই না যে তাঁদের পৌরকর বেড়েছে। হঠাৎ কেন পৌরকর বাড়ানো হলো? একজন অনির্বাচিত প্রশাসক এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। যতদিন না পৌরসভায় একজন নির্বাচিত মেয়র আসছেন, ততদিন পৌরকর বাড়ানো যাবে না। ভৈরবের একজন অনির্বাচিত প্রশাসকের এই ভুল সিদ্ধান্ত ভৈরববাসী মেনে নেবে না।’
বক্তারা আরও বলেন, ভৈরবের খেটে খাওয়া মানুষ ঠিকমতো বিদ্যুৎ বিল দিতে পারছেন না। এর মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে করের চাপ তাঁদের ওপর জুলুম হয়ে দাঁড়াবে।
তাঁরা বলেন, গত ১৭ বছরে পৌরসভায় একাধিক নির্বাচিত মেয়র দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁরা কোনোভাবেই জনগণের ওপর জুলুম-নির্যাতন করে কর বাড়াননি। তাই অনতিবিলম্বে কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন ভৈরবের সর্বস্তরের নাগরিকরা।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পরপর হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়ন (রি-অ্যাসেসমেন্ট) করার নির্দেশনা রয়েছে। এ বছর পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ায় সেই নির্দেশনা অনুযায়ী পুনর্মূল্যায়নের কাজ বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ট্যাক্স না বাড়লে প্রকল্পগুলোর জন্য বরাদ্দ আসে না। এ বছর প্রায় ৮০ কোটি টাকার বার্ষিক বাজেটের বিপরীতে ট্যাক্সের পরিমাণ পাঁচ কোটি টাকারও কম। অথচ এই পাঁচ কোটি টাকার পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করছে বাকি ৭৫ কোটি টাকা আসলে ৭৫ কোটি হবে, নাকি ৫০ কোটি—তা বলা যায় না।’
পৌর প্রশাসক আরও বলেন, ইতোপূর্বে বাজেট ঘোষণার দিন নেতৃবৃন্দসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে এ বিষয়ে কিছুটা আলোচনা করা হয়েছিল।
হোল্ডিংয়ের তথ্যের অসঙ্গতির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘হোল্ডিংগুলোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণ ভুল আছে। নির্ধারিত নিয়ম ও হিসাব অনুযায়ী ট্যাক্সের পরিমাণ আসে প্রায় ১৮ কোটি টাকা। সেখানে এখন আসছে পাঁচ কোটির কাছাকাছি।’
তিনি আরও বলেন, নোটিশের বিপরীতে আপত্তি জানানোর সুযোগ রয়েছে। আপত্তির শুনানি করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রক্রিয়া অনুযায়ী এগোলে বিষয়টির সমাধান সম্ভব। আপত্তি ফরম এবং আপত্তির শুনানি সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানান।
পৌর প্রশাসক কেএম মামুনুর রশীদ আরও বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। পাঁচ বছর পরপর ট্যাক্স রি-অ্যাসেসমেন্ট করতে হয়। বর্তমানে সেই পাঁচ বছর পরের পুনর্মূল্যায়ন চলছে। নাগরিকদের ক্ষতি হয়—এমন কোনো সিদ্ধান্ত পৌরসভা নেবে না।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array