শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসে জোর, কিশোরগঞ্জে সচেতনতামূলক সভা

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসে জোর, কিশোরগঞ্জে সচেতনতামূলক সভা

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা। বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল শাখা এ সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ অফিসের আশপাশে জমে থাকা ময়লা ও পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। রোগ প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

অধ্যাপক ডা. মো. মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ডা. মীর নুর উস সাদের সঞ্চালনায় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আতাউর রহমান। তিনি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি, লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সামাজিকভাবে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা বলেন, এডিস মশা সাধারণত বাসাবাড়ির জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই ফুলের টব, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনসহ যেকোনো পাত্রে পানি জমে থাকা বন্ধ করতে হবে। শুধু সরকারি উদ্যোগে এ ধরনের রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; প্রতিটি পরিবারকেও সচেতন হতে হবে। জ্বর বা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে গুজবে কান না দিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. মো. একরাম আহসান, ডা. মো. আতিকুল সারোয়ারসহ ড্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

সাংবাদিক কল্যাণে বরাদ্দ ৬ কোটি থেকে ২৫ কোটি করার উদ্যোগ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক কল্যাণে বরাদ্দ ৬ কোটি থেকে ২৫ কোটি করার উদ্যোগ

সাংবাদিকদের পেশাগত কল্যাণে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নির্ধারিত বাজেট বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকার সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকরা যেন কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে মাল্টিমিডিয়া, ফ্যাক্ট-চেক ও এআই বিষয়ক সাংবাদিকদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের পেশাগত কল্যাণ ও বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নির্ধারিত বাজেট বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ ও অপসাংবাদিকতা রোধে পেশাগত মানদণ্ড বজায় রাখার কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মী, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) ও হোসেনপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক রোকসানা খাতুন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর সহযোগী সম্পাদক সাহানোয়ার সাইদ শাহীন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক দিনকালের কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি আবু সালেহ বাবুল, দৈনিক সকালবেলার কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি পলাশ আহমেদ, হোসেনপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক নয়া দিগন্তের হোসেনপুর উপজেলা প্রতিনিধি মো. জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউর রহমান চন্দন, সিনিয়র সহসভাপতি মানসুরুল হক রবিন, দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি মিজবাহ উদ্দিন মানিক, দৈনিক যায়যায়দিনের হোসেনপুর প্রতিনিধি মো. আবু বকর ছিদ্দিক বাক্কার, দৈনিক সংগ্রামের হোসেনপুর সংবাদদাতা মো. শামছুল হক, পাকুন্দিয়ার আসাদুজ্জামান খন্দকার, দৈনিক প্রতিদিনের হোসেনপুর প্রতিনিধি মো. রাজিব আহম্মদ পিয়াস,  দৈনিক সমাচারের হোসেনপুর প্রতিনিধি মো. আফজালুর রহমান উজ্জল, পাকুন্দিয়া বার্তার প্রতিনিধি মো. আরিফুর ইসলাম, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট রিমন মিয়া, আরমান, দেলোয়ার হোসেন রাজিব, সালমান রহমান, সাইফুল্লা মাহমুদ, আশরাফ উদ্দিন এবং বাংলা ভিউজ ডটকমের জেলা প্রতিনিধি তুষার আহম্মেদ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সংবাদমাধ্যমে তথ্য যাচাই ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্য, গুজব ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ফ্যাক্ট-চেকিং দক্ষতা অপরিহার্য।

তাঁরা আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মাল্টিমিডিয়া প্রযুক্তির সঠিক ও নৈতিক ব্যবহার সংবাদ পরিবেশনকে আরও গতিশীল, আকর্ষণীয় ও কার্যকর করে তুলতে পারে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি—সত্যতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতাকে ক্ষুণ্ন না করে, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

তিন দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিন উপজেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে কর্মরত ৩৭ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করছেন। প্রশিক্ষণে আধুনিক সাংবাদিকতা, তথ্য যাচাইয়ের কৌশল, মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট নির্মাণ এবং সাংবাদিকতায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোরে ইটনা উপজেলার টিয়ারকোনা হাওরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন করিমগঞ্জ উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের চংনোয়াগাঁও গ্রামের মৃত ইসহাক মিয়ার ছেলে শাহ আলম (৪০) এবং একই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মোকাররম হোসেন (২৭)। তাঁরা সম্পর্কে আপন চাচা-ভাতিজা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে শাহ আলম ও মোকাররম হোসেন জাল নিয়ে নৌকায় করে ইটনা উপজেলার টিয়ারকোনা হাওরে মাছ ধরতে যান।

হাওর থেকে ফিরতে দেরি হওয়া এবং সকালে আবহাওয়া বৈরী থাকায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে সকাল ১০টার দিকে স্বজনেরা তাঁদের খোঁজে হাওরের দিকে বের হন। একপর্যায়ে টিয়ারকোনা হাওরের মধ্যে দুজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে করিমগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের মরদেহের বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে।

স্থানীয়রা জানান, ভোরে বৃষ্টির মধ্যেই তাঁরা মাছ ধরতে হাওরে গিয়েছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনায় একই পরিবারের দুইজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামের পরিবেশ।

করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোহেব খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বজ্রপাতে দুইজন নিহত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

কটিয়াদীতে নেশার টাকা জোগাতে ৫ শিশু তুলে দেওয়ার অভিযোগ

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে নেশার টাকা জোগাতে ৫ শিশু তুলে দেওয়ার অভিযোগ

মাদকের ভয়াল ছোবল ও দারিদ্র্যের চাপে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে চার পরিবারের পাঁচ শিশু সন্তানকে টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নেশার টাকা জোগাড় করতে এসব শিশুকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কটিয়াদী উপজেলার উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তাঁদের দাবি, গ্রামের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী-পুরুষ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ নেশার টাকা জোগাড় করতে নিজেদের ঔরসজাত সন্তানদেরও টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছেন। সন্তানদের বিনিময়ে পাওয়া অর্থ মাদক কেনা ও সেবনে ব্যয় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামের চার পরিবারের পাঁচ শিশুকে পৃথক সময়ে বিভিন্ন অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে তুলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে দুলাল মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন ও তাঁর স্ত্রী ফারজানার নবজাতক সন্তানকে গত ২ সেপ্টেম্বর ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে তুলে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

জজ মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেনের দুই স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেওয়া দুই শিশুকে যথাক্রমে ১ লাখ ৫০ হাজার ও ২০ হাজার টাকায় এবং আসাদ মিয়ার ছেলে জাকির হোসেনের একটি সন্তানকে ৭৭ হাজার টাকার বিনিময়ে তুলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে আসাদ মিয়ার একটি সন্তানকে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের আরও দাবি, এসব শিশুর মধ্যে যাদের প্রথমে অন্যের কাছে দেওয়া হয়েছিল, তাদের কেউ কেউ পরবর্তী সময়ে আরও বেশি টাকার বিনিময়ে অন্যত্র তুলে দিয়েছেন। ফলে শিশুদের বর্তমান অবস্থান, পরিচয় ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

চরপুক্ষিয়া গ্রামের জয়নাল মিয়া, বকুল মিয়া, বাবুল মিয়া, জামাল মিয়া, কালাচান, সখিনা, কালুমিয়া, নুরুন্নাহার ও গ্রাম পুলিশ দুলাল মিয়াসহ কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, মাদকের বিস্তার রোধে স্থায়ী কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। তাঁদের দাবি, মাদকাসক্তদের একটি অংশ নেশার টাকা জোগাড় করতে পরিবারের শিশু সন্তানদের পর্যন্ত অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, মাদকাসক্তদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস তাঁদের নেই। প্রতিবাদ করলে হামলা, হয়রানি কিংবা নানা ধরনের চাপের আশঙ্কা থাকে। তাঁদের নিজেদেরও ছোট ছোট সন্তান রয়েছে। তাই সবকিছু দেখেও অনেক সময় নীরব থাকতে হয়।

তাঁদের অভিযোগ, শুধু বড়রাই নন, শিশুদেরও মাদকের সংস্পর্শে আনা হচ্ছে। প্রায় পাঁচ-ছয় বছর বয়সী একটি শিশুকে মাদক সেবন করানোর অভিযোগও করেছেন তাঁরা। কোনো কোনো পরিবারে স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানরা একসঙ্গে মাদক সেবন করে বলেও দাবি করেন কয়েকজন বাসিন্দা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার আতঙ্কও তৈরি হয়েছে। কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ ও কষ্ট প্রকাশ করে বলে, উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামের পরিচয় দিতে গেলেই অনেকের কাছ থেকে কটূক্তি শুনতে হয়। গ্রামের বদনামের কারণে সামাজিকভাবে নানা বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। ওই শিক্ষার্থী জানায়, তারা মাদকমুক্ত ও সুন্দর পরিবেশে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চায়।

এলাকাবাসী দ্রুত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা, মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের শনাক্তকরণ এবং শিশুদের অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে যেসব পরিবারের বিরুদ্ধে শিশু সন্তানকে টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তাদের সদস্যরা সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে অন্যত্র চলে যান। ফলে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক বলেন, উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে মাদকের ছোবল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন সময়ে পাঁচটি শিশু সন্তানকে টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সামাজিকভাবে উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়া হবে।

কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, জালালপুর ইউনিয়নের উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে দারিদ্র্য ও মাদকের টাকা জোগাড়ের জন্য ঔরসজাত সন্তানদের টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদক নির্মূলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।