শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

তাড়াইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
তাড়াইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন অভিযান

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশকনিধন অভিযান ও সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর অংশ হিসেবে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) তাড়াইল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।

শনিবার সকাল ১০টায় তাড়াইল উপজেলা প্রশাসনিক ভবন প্রাঙ্গণ থেকে স্থানীয় কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতেই উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, সড়ক ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে মশকনিধন অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং বাড়িঘর, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু শুধু একটি পরিবারের সমস্যা নয়; এটি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি বিষয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসন কিংবা পৌরসভার একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। মশার বংশবিস্তার রোধে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তারা আরও বলেন, এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, পুরোনো টায়ারসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে।

বক্তারা বলেন, শুধু মশকনিধন অভিযান পরিচালনা করলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা ও সামাজিক অংশগ্রহণ। নিজের বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি প্রতিবেশী ও আশপাশের পরিবেশও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

সরকারের ঘোষিত কর্মসূচিটি ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাস চলবে। এ সময় প্রতি শনিবার দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তাড়াইলের কর্মসূচিতে উপস্থিত প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশকনিধন অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে উপজেলাবাসীকে নিজ নিজ বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা আখতার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জিসান আলী, তাড়াইল থানার ওসি (তদন্ত) মাসুদুর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান মিয়া, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ রায়, উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আল আমীন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রিয়া রায়, ডা. তানভীরসহ উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

তাড়াইল উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজন করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা আরও বাড়বে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশকনিধন অভিযান অব্যাহত রাখলে পৌর এলাকায় ডেঙ্গুসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসে জোর, কিশোরগঞ্জে সচেতনতামূলক সভা

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসে জোর, কিশোরগঞ্জে সচেতনতামূলক সভা

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা। বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল শাখা এ সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ অফিসের আশপাশে জমে থাকা ময়লা ও পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। রোগ প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

অধ্যাপক ডা. মো. মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ডা. মীর নুর উস সাদের সঞ্চালনায় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আতাউর রহমান। তিনি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি, লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সামাজিকভাবে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা বলেন, এডিস মশা সাধারণত বাসাবাড়ির জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই ফুলের টব, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনসহ যেকোনো পাত্রে পানি জমে থাকা বন্ধ করতে হবে। শুধু সরকারি উদ্যোগে এ ধরনের রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; প্রতিটি পরিবারকেও সচেতন হতে হবে। জ্বর বা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে গুজবে কান না দিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. মো. একরাম আহসান, ডা. মো. আতিকুল সারোয়ারসহ ড্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

সাংবাদিক কল্যাণে বরাদ্দ ৬ কোটি থেকে ২৫ কোটি করার উদ্যোগ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক কল্যাণে বরাদ্দ ৬ কোটি থেকে ২৫ কোটি করার উদ্যোগ

সাংবাদিকদের পেশাগত কল্যাণে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নির্ধারিত বাজেট বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকার সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকরা যেন কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে মাল্টিমিডিয়া, ফ্যাক্ট-চেক ও এআই বিষয়ক সাংবাদিকদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের পেশাগত কল্যাণ ও বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নির্ধারিত বাজেট বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ ও অপসাংবাদিকতা রোধে পেশাগত মানদণ্ড বজায় রাখার কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মী, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) ও হোসেনপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক রোকসানা খাতুন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর সহযোগী সম্পাদক সাহানোয়ার সাইদ শাহীন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক দিনকালের কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি আবু সালেহ বাবুল, দৈনিক সকালবেলার কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি পলাশ আহমেদ, হোসেনপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক নয়া দিগন্তের হোসেনপুর উপজেলা প্রতিনিধি মো. জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউর রহমান চন্দন, সিনিয়র সহসভাপতি মানসুরুল হক রবিন, দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি মিজবাহ উদ্দিন মানিক, দৈনিক যায়যায়দিনের হোসেনপুর প্রতিনিধি মো. আবু বকর ছিদ্দিক বাক্কার, দৈনিক সংগ্রামের হোসেনপুর সংবাদদাতা মো. শামছুল হক, পাকুন্দিয়ার আসাদুজ্জামান খন্দকার, দৈনিক প্রতিদিনের হোসেনপুর প্রতিনিধি মো. রাজিব আহম্মদ পিয়াস,  দৈনিক সমাচারের হোসেনপুর প্রতিনিধি মো. আফজালুর রহমান উজ্জল, পাকুন্দিয়া বার্তার প্রতিনিধি মো. আরিফুর ইসলাম, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট রিমন মিয়া, আরমান, দেলোয়ার হোসেন রাজিব, সালমান রহমান, সাইফুল্লা মাহমুদ, আশরাফ উদ্দিন এবং বাংলা ভিউজ ডটকমের জেলা প্রতিনিধি তুষার আহম্মেদ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সংবাদমাধ্যমে তথ্য যাচাই ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্য, গুজব ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ফ্যাক্ট-চেকিং দক্ষতা অপরিহার্য।

তাঁরা আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মাল্টিমিডিয়া প্রযুক্তির সঠিক ও নৈতিক ব্যবহার সংবাদ পরিবেশনকে আরও গতিশীল, আকর্ষণীয় ও কার্যকর করে তুলতে পারে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি—সত্যতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতাকে ক্ষুণ্ন না করে, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

তিন দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিন উপজেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে কর্মরত ৩৭ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করছেন। প্রশিক্ষণে আধুনিক সাংবাদিকতা, তথ্য যাচাইয়ের কৌশল, মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট নির্মাণ এবং সাংবাদিকতায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোরে ইটনা উপজেলার টিয়ারকোনা হাওরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন করিমগঞ্জ উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের চংনোয়াগাঁও গ্রামের মৃত ইসহাক মিয়ার ছেলে শাহ আলম (৪০) এবং একই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মোকাররম হোসেন (২৭)। তাঁরা সম্পর্কে আপন চাচা-ভাতিজা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে শাহ আলম ও মোকাররম হোসেন জাল নিয়ে নৌকায় করে ইটনা উপজেলার টিয়ারকোনা হাওরে মাছ ধরতে যান।

হাওর থেকে ফিরতে দেরি হওয়া এবং সকালে আবহাওয়া বৈরী থাকায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে সকাল ১০টার দিকে স্বজনেরা তাঁদের খোঁজে হাওরের দিকে বের হন। একপর্যায়ে টিয়ারকোনা হাওরের মধ্যে দুজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে করিমগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের মরদেহের বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে।

স্থানীয়রা জানান, ভোরে বৃষ্টির মধ্যেই তাঁরা মাছ ধরতে হাওরে গিয়েছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনায় একই পরিবারের দুইজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামের পরিবেশ।

করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোহেব খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বজ্রপাতে দুইজন নিহত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”